ইসলামী ইতিহাসে দুম্বা কোরবানির বর্ণনা ও প্রচলিত ব্যাখ্যা
দ্য সিভিলিয়ানস । নিউজ ডেস্ক ।
ইসলামি ইতিহাস ও হাদিসভিত্তিক বর্ণনা অনুযায়ী, হজরত মুহাম্মদ (সা.)-এর প্রথম কোরবানির পশু ছিল দুম্বা। বিভিন্ন সহিহ হাদিসগ্রন্থে এসেছে, তিনি ঈদুল আজহার নামাজের পর নিজ হাতে দুইটি শিংওয়ালা, সাদা ও কালো রঙের মোটা দুম্বা কোরবানি করেন।
হাদিসের বর্ণনায় বলা হয়, নবী (সা.) কোরবানির সময় একটি দুম্বা নিজের পক্ষ থেকে এবং আরেকটি তাঁর উম্মতের পক্ষ থেকে জবাই করেন। তিনি জবাইয়ের সময় “আল্লাহু আকবার” বলে পশু কোরবানি সম্পন্ন করেন। এটি ঈদের নামাজের পরই করা হয়, যা ইসলামী শরিয়তের একটি মৌলিক নিয়ম হিসেবে প্রচলিত রয়েছে।
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ইসলামের ইতিহাস ও সংস্কৃতি বিভাগের শিক্ষকদের মত অনুযায়ী, মদিনায় হিজরতের পর দ্বিতীয় হিজরিতে ঈদুল আজহার আনুষ্ঠানিক কোরবানি শুরু হয়। সেই সময় থেকেই মুসলিম সমাজে কোরবানির সুন্নত প্রতিষ্ঠিত হয়, যা মূলত হজরত ইব্রাহীম (আ.)-এর আত্মত্যাগের ঐতিহাসিক ঘটনার স্মারক হিসেবে পালিত হয়ে আসছে।
ইসলামি গবেষকদের মতে, নবী (সা.) কেবল দুম্বাই নয়, পরবর্তী সময়ে উট, গরু ও ভেড়াও কোরবানি করেছেন। হাদিসে উল্লেখ রয়েছে, তিনি সর্বদা সুস্থ, শক্তিশালী এবং নির্দিষ্ট বয়সের পশু নির্বাচন করতেন। হজ ও ওমরাহকালীন সময় কোরবানির জন্য নেওয়া পশুকে ‘হাদি’ বলা হতো।
হুদাইবিয়ার সন্ধি এবং বিদায় হজের সময় নবী (সা.) বহু উট কোরবানি করেছেন বলেও বিভিন্ন ঐতিহাসিক বর্ণনায় পাওয়া যায়। বিদায় হজে তাঁর কোরবানির সংখ্যা শতাধিক উট পর্যন্ত পৌঁছেছিল বলে ইসলামী ইতিহাসের গবেষণায় উল্লেখ রয়েছে।
ধর্মীয় আলেমদের মতে, কোরবানির মূল শিক্ষা পশু জবাইয়ের আনুষ্ঠানিকতা নয়, বরং ত্যাগ, আনুগত্য এবং আল্লাহর প্রতি পরিপূর্ণ আত্মসমর্পণ। সেই দিক থেকেই ইসলামে কোরবানি একটি গভীর আধ্যাত্মিক ইবাদত হিসেবে বিবেচিত।
