দ্য সিভিলিয়ানস । নিউজ ডেস্ক ।
মধ্যপ্রাচ্যে চলমান সামরিক উত্তেজনার মধ্যে বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ জ্বালানি রুট হরমুজ প্রণালী আর যুদ্ধপূর্ব অবস্থায় ফিরবে না বলে দাবি করেছেন তেহরানের এক জ্যেষ্ঠ নিরাপত্তা কর্মকর্তা। রুশ সংবাদমাধ্যম RT কে দেওয়া এক বিশেষ সাক্ষাৎকারে তিনি বলেন, বর্তমান পরিস্থিতিতে প্রণালীর নিয়ন্ত্রণ ও চলাচল ব্যবস্থা স্থায়ীভাবে পরিবর্তিত হয়েছে।
ওই কর্মকর্তা জানান, যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের নেতৃত্বে সংঘাত শুরু হওয়ার পর থেকে প্রণালীতে জাহাজ চলাচল নতুন নিয়মের অধীনে পরিচালিত হচ্ছে। তার ভাষ্য অনুযায়ী, এখন কোনো জাহাজকে পারাপারের আগে ইরানের সঙ্গে সমন্বয় করতে হচ্ছে এবং “শত্রু বা তাদের অংশীদার দেশগুলোর কোনো জাহাজকে এখন পর্যন্ত অনুমতি দেওয়া হয়নি।”
তিনি আরও দাবি করেন, পারস্য উপসাগর অঞ্চলে সামরিক উত্তেজনা বৃদ্ধির কারণে ইরান একটি “নিরাপদ করিডর” চালু করেছে যার মাধ্যমে সীমিত আকারে বাণিজ্যিক পরিবহন পরিচালিত হচ্ছে। একই সঙ্গে আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমকে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলপন্থী “ভুল তথ্য প্রচার” উপেক্ষা করার আহ্বান জানান তিনি।
বিশ্ব অর্থনীতির জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ এই জলপথ দিয়ে সাধারণ সময়ে বৈশ্বিক সমুদ্রপথে পরিবাহিত অপরিশোধিত তেলের প্রায় এক পঞ্চমাংশ পরিবহন হয়। চলমান সংঘাতের কারণে জ্বালানি বাজারে অস্থিরতা তৈরি হয়েছে এবং বহু দেশ বিকল্প কূটনৈতিক সমাধানের চেষ্টা করছে।
এদিকে রয়টার্স জানিয়েছে, ইরান কিছু নিরপেক্ষ দেশের জাহাজ চলাচলে নিরাপত্তা নিশ্চয়তার আশ্বাস দিলেও আন্তর্জাতিক মহলে উদ্বেগ রয়ে গেছে। প্রায় ৪০টি দেশ ইতোমধ্যে হরমুজ প্রণালী পুনরায় উন্মুক্ত করার সম্ভাব্য কৌশল নিয়ে আলোচনা শুরু করেছে।
বিশ্লেষকদের মতে, প্রণালীতে নতুন নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থা দীর্ঘমেয়াদে বৈশ্বিক জ্বালানি সরবরাহ, শিপিং খরচ এবং আন্তর্জাতিক নিরাপত্তা রাজনীতিতে বড় প্রভাব ফেলতে পারে। যুদ্ধ পরিস্থিতি দীর্ঘায়িত হলে তেলের দাম ও বৈশ্বিক অর্থনীতিতে চাপ আরও বাড়ার আশঙ্কা রয়েছে।
ইরানের এই অবস্থান মূলত কৌশলগত চাপ তৈরির অংশ হিসেবে দেখা হচ্ছে। হরমুজ প্রণালী নিয়ন্ত্রণের প্রশ্নটি এখন সামরিক সংঘাতের পাশাপাশি অর্থনৈতিক ও কূটনৈতিক শক্তির লড়াইয়ে পরিণত হয়েছে। পরিস্থিতি দ্রুত স্বাভাবিক হওয়ার সম্ভাবনা এখনো অনিশ্চিত।
সূত্র: RT, Reuters
