দ্য সিভিলিয়ানস । নিউজ ডেস্ক ।
বাংলাদেশের অন্যতম বৃহৎ রাজনৈতিক দল বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল BNP এর অভ্যন্তরে দীর্ঘদিনের আন্দোলন সংগ্রামের ত্যাগী নেতাকর্মীদের মূল্যায়ন না পাওয়ার অভিযোগ ঘিরে তৃণমূলে অসন্তোষ বাড়ছে। একই সঙ্গে দলে নতুন যুক্ত হওয়া বা সুবিধাবাদী হিসেবে পরিচিত কিছু নেতার প্রভাব বাড়ছে বলেও অভিযোগ উঠেছে।
দলীয় বিভিন্ন পর্যায়ের নেতাকর্মীদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, দীর্ঘ সময় ধরে মামলা, গ্রেপ্তার, নির্যাতন ও আর্থিক ক্ষতির মধ্য দিয়ে যেসব নেতাকর্মী মাঠে সক্রিয় ছিলেন, তারা এখন অনেক ক্ষেত্রেই কমিটি গঠন ও সাংগঠনিক পদায়নে উপেক্ষিত হচ্ছেন। বিপরীতে তুলনামূলকভাবে সাম্প্রতিক সময়ে দলে যুক্ত হওয়া বা আগের রাজনৈতিক অবস্থান নিয়ে প্রশ্ন থাকা কিছু নেতা গুরুত্বপূর্ণ পদে জায়গা পাচ্ছেন।
ঢাকা মহানগর উত্তরের সাবেক এক তৃণমূল নেতা অভিযোগ করেন, আন্দোলনের কঠিন সময় যারা রাজপথে ছিলেন, তাদের অনেকেই এখন সংগঠনের ভেতরে প্রান্তিক অবস্থানে আছেন। তার দাবি, দীর্ঘ সময় জেল, মামলা ও অর্থনৈতিক ক্ষতির পরও তারা যথাযথ স্বীকৃতি পাচ্ছেন না।
কাফরুল থানা বিএনপির এক যুগ্ম আহ্বায়ক বলেন, বিগত আন্দোলন সংগ্রামে সক্রিয় থাকা সত্ত্বেও অনেক ত্যাগী নেতা কমিটি থেকে বাদ পড়েছেন। তার মতে, দলের ভেতরে একটি অংশ সুবিধা নিয়ে সংগঠনের মূল কাঠামোতে প্রভাব বিস্তার করছে।
আরেকজন স্থানীয় নেতা জানান, ওয়ার্ড ও থানা পর্যায়ে নতুন কমিটিতে এমন অনেক নাম আসছে, যাদের অতীত রাজনৈতিক সম্পৃক্ততা নিয়ে প্রশ্ন রয়েছে। এতে দীর্ঘদিন ধরে সক্রিয় থাকা নেতাকর্মীরা হতাশ হচ্ছেন।
রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা বলছেন, দীর্ঘ সময় ক্ষমতার বাইরে থাকা একটি বড় দলে এমন রূপান্তর ও অভ্যন্তরীণ দ্বন্দ্ব স্বাভাবিক হলেও তা নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে গেলে সাংগঠনিক দুর্বলতা তৈরি হতে পারে। তাদের মতে, অর্থনৈতিক সক্ষমতা থাকা বা নেটওয়ার্ক শক্তিশালী ব্যক্তিরা অনেক সময় সংগঠনের সিদ্ধান্তে প্রভাব বিস্তার করতে পারেন, যা ত্যাগী নেতাদের জন্য প্রতিকূল পরিস্থিতি তৈরি করে।
তৃণমূল পর্যায়ের একাধিক নেতা অভিযোগ করেন, আন্দোলনের সময় যারা সবচেয়ে বেশি ঝুঁকি নিয়েছেন, তাদের অনেকেই এখন সাংগঠনিক সিদ্ধান্ত প্রক্রিয়ার বাইরে চলে যাচ্ছেন। এতে মাঠপর্যায়ে নেতৃত্ব সংকট তৈরি হওয়ার আশঙ্কাও দেখা দিচ্ছে।
বিশ্লেষকদের মতে, দলে ভারসাম্য রক্ষার জন্য নতুন নেতৃত্ব অন্তর্ভুক্ত করা জরুরি হলেও দীর্ঘদিনের পরীক্ষিত কর্মীদের অবমূল্যায়ন ভবিষ্যতে সাংগঠনিক স্থিতিশীলতার জন্য ঝুঁকি তৈরি করতে পারে। তারা মনে করেন, ত্যাগী ও নতুন প্রজন্মের মধ্যে সমন্বয় না হলে অভ্যন্তরীণ দ্বন্দ্ব আরও বাড়তে পারে।
তৃণমূল নেতাদের একাংশের মতে, দ্রুত সিদ্ধান্ত গ্রহণ প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা আনা না গেলে স্থানীয় পর্যায়ে অসন্তোষ আরও গভীর হবে, যা দলের সামগ্রিক কার্যক্রমে প্রভাব ফেলতে পারে।
