দ্য সিভিলিয়ানস । নিউজ ডেস্ক ।
রাজধানীর পল্লবী এলাকায় শিশু রামিসা আক্তারকে ধর্ষণের পর হত্যার ঘটনায় প্রধান অভিযুক্ত সোহেল রানা এবং তার স্ত্রী স্বপ্না আক্তার কে আদালতে হাজির করা হয়েছে। তাদের রাখা হয়েছে মহানগর দায়রা জজ আদালতের হাজতখানায়।
পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, রোববার দুপুরে মামলার অভিযোগপত্র আদালতে জমা দেওয়ার প্রস্তুতি চলছে। রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী আজিজুর রহমান দুলু আদালতে উপস্থিত থেকে মামলার কার্যক্রম তদারকি করছেন।
তদন্ত সংশ্লিষ্টদের তথ্য অনুযায়ী, গত ১৯ মে পল্লবীর একটি আবাসিক ফ্ল্যাট থেকে দ্বিতীয় শ্রেণির শিক্ষার্থী রামিসার মরদেহ উদ্ধার করা হয়। ঘটনার পরপরই আইনশৃঙ্খলা বাহিনী অভিযান চালিয়ে দুইজনকে গ্রেপ্তার করে।
মামলার অভিযোগে বলা হয়, শিশুটিকে পাশের ফ্ল্যাট থেকে কৌশলে ডেকে নিয়ে নির্যাতন করা হয়। পরে তাকে হত্যা করা হয় এবং লাশ গুমের চেষ্টা করা হয় বলে তদন্তে উঠে এসেছে।
ঘটনার পর নিহত শিশুটির বাবা আব্দুল হান্নান মোল্লা বাদী হয়ে মামলা করেন। পুলিশ দ্রুত অভিযান চালিয়ে দুই আসামিকে গ্রেপ্তার করে এবং পরে তাদের রিমান্ডে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ চালায়।
তদন্ত প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে, প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদ ও স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দিতে ঘটনার বিস্তারিত বর্ণনা পাওয়া গেছে। ফরেনসিক ও ডিএনএ পরীক্ষার মাধ্যমে ঘটনাটির সঙ্গে অভিযুক্তদের সংশ্লিষ্টতা নিশ্চিত হয়েছে বলে তদন্ত কর্মকর্তারা জানিয়েছেন।
এদিকে মামলাটির বিচার দ্রুত সম্পন্ন করার দাবি জানিয়ে সরকার সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিচ্ছে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে। আদালত প্রক্রিয়া দ্রুত শেষ করতে বিশেষ পাবলিক প্রসিকিউশন টিম গঠন করা হয়েছে।
আইনজীবী সমিতির একটি অংশ জানিয়েছে, এই মামলায় অভিযুক্তদের পক্ষে কোনো সদস্য আইনগত সহায়তা দিতে রাজি হননি। বিষয়টি নিয়ে পেশাগত ও নৈতিক বিতর্কও তৈরি হয়েছে।
ঘটনাটি সামনে আসার পর দেশজুড়ে তীব্র প্রতিক্রিয়া দেখা দিয়েছে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম থেকে শুরু করে বিভিন্ন মহলে শিশু নিরাপত্তা ও কঠোর বিচারব্যবস্থার দাবি জোরালো হয়েছে।
আইনশৃঙ্খলা বিশ্লেষকদের মতে, দ্রুত বিচার গুরুত্বপূর্ণ হলেও দীর্ঘমেয়াদে এমন অপরাধ প্রতিরোধে সামাজিক নজরদারি, পারিবারিক সচেতনতা এবং শিশু সুরক্ষা কাঠামো আরও শক্তিশালী করা জরুরি।
