লোড হচ্ছে...
লোড হচ্ছে...

রমজানে লাগামহীন বাজার

প্রকাশিত: 20 ফেব্রুয়ারী 2026

19 Views

The Civilians News

পবিত্র সিয়াম সাধনার মাসে সবারই প্রত্যাশা থাকে নিত্যপণ্যের দাম যেন সাধ্যের মধ্যে থাকে। সবাই যেন স্বস্তিতে বাজার করতে পারে। কিন্তু সেই প্রত্যাশার ছোঁয়া যেন কখনোই মেলে না। রমজান এলেই নিত্যপণ্যের দাম বেড়ে যাওয়া যেন ঐতিহ্যে পরিণত হয়েছে।

শুক্রবার ছুটির দিনে রাজধানীর বিভিন্ন কাঁচাবাজারে নিত্যপণ্যের দাম অনেক বাড়তি দেখা গেছে। বাজারে লেবু, বেগুন, শসা, পেঁয়াজ, টমেটো, কাঁচা মরিচ, খেজুর, ব্রয়লার মুরগি ও বিভিন্ন ধরনের মাছের দাম চড়া রয়েছে।

বিক্রেতারা বলছেন, কাঁচামালের চাহিদা বাড়ায় পরিবর্তন এসেছে সরবরাহে। চাহিদার বিপরীতে পর্যাপ্ত সরবরাহ না থাকায় এসব পণ্যের দাম বেড়েছে।

তবে ক্রেতাদের অভিযোগ, খুচরা বাজারে এখনও বেশ কিছু পণ্যের দাম বেশি। চাহিদার বাড়বাড়ন্তকে পুঁজি করে কেউ কেউ অতিরিক্ত দামও রাখছেন।

এদিকে, সপ্তাহখানেক পর অধিকাংশ পণ্যের দাম কমে আসতে পারে বলে জানান বাজারের বিক্রেতারা। তারা বলছেন, রোজার শুরুতে মানুষের কেনাকাটা অস্বাভাবিক বেড়ে যায়। কিছুদিন পর থেকে কেনাকাটা কমে যাবে। অনেক পরিবার, শিক্ষার্থীরা ঈদের ছুটিতে গ্রামে চলে যেতে শুরু করবে। তখন চাহিদা কমবে।

রোজা শুরুর আগেই সেঞ্চুরি হাকিয়েছিল লেবু, শশা ও বেগুনের দাম। এসব পণ্যের দাম দুই থেকে পাঁচ গুণ বেড়েছিল। বাজারে যেসব লেবু সাধারণত ২০ থেকে ৩০ টাকা হালিতে পাওয়া যেত, সেই লেবুর দাম উঠেছিল ১০০ থেকে ১২০ টাকা হালিতে। এখনো সেই দামেই বিক্রি হচ্ছে।

বেগুনের দাম কেজিপ্রতি ৪০ টাকা পর্যন্ত বেড়েছে। রোজার তিন চার দিন আগে এ পণ্যের দাম ছিল ৬০ থেকে ৮০ টাকা। যা এখন ১০০ থেকে ১২০ টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে।

সাইদুল ইসলাম নামের একজন বিক্রেতা বলেন, ‘রোজায় যে হারে এসব পণ্যের চাহিদা বাড়ে, সেই হারে আমদানি হয় না। যে কারণে প্রত্যন্ত এলাকার মোকামগুলোতেই এসব পণ্যের দাম বেড়ে যায়।’

তিনি বলেন, ‘গত প্রায় এক সপ্তাহ ধরে রোজার জন্য প্রয়োজনীয় প্রায় সব সবজির দাম বেড়েছে। আড়ত থেকে আমাদের বেশি দামে কিনতে হচ্ছে। তাই লাভ রেখে পাইকারি দাম থেকে কেজিতে ১০-২০ টাকা লাভে বিক্রি করছি।’

রোজার মধ্যে পেঁয়াজের দাম প্রায় কেজিপ্রতি ১০ টাকা বেড়ে ৬০ থেকে ৬৫ টাকা বিক্রি হচ্ছে। কাঁচামরিচের কেজি বিক্রি হচ্ছে ২০০ টাকা। তবে এ দুই পণ্যের দাম রোজার আগে নির্বাচনের সময় যানবাহন বন্ধ থাকার সময় থেকেই বেড়েছে।

আবু আলী নামের একজন ক্রেতা বলেন, ‘ইফতারের সময় বেগুন, লেবুর প্রয়োজন হয়। এ রকম কিছু কিছু পণ্যের দাম এখনো অনেক বেশি।’

মাছের বাজারে স্বস্তি নেই। মাঝারি আকারের রুই ৩৫০ থেকে ৪২০ টাকা কেজি, কাতলা ৩৮০ থেকে ৪৫০ টাকা, পাঙ্গাস ২০০ থেকে ২২০ টাকা এবং তেলাপিয়া ২২০ থেকে ২৫০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। ইলিশের দাম আকারভেদে ১ হাজার ২০০ থেকে ২ হাজার ৫০০ টাকার মধ্যে। এছাড়া শিং ৫০০ থেকে ৬০০ টাকা, মাগুর ৫৫০ থেকে ৬৫০ টাকা এবং চিংড়ি ৮০০ থেকে ১২০০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে।

মাছ ব্যবসায়ী আবদুল হালিম বলেন, ‘নদীর দেশি মাছ এখন কম। বেশির ভাগই চাষের মাছ। পরিবহন খরচ, বরফের দাম, সব মিলিয়ে পাইকারি বাজারেই দাম বেশি। আমরা খুব বেশি লাভ রাখছি না, কিন্তু পাইকারি দামের কারণে খুচরায় একটু বাড়তি পড়ছে।’

বাজারে ব্রয়লার মুরগির কেজি ১৯০ থেকে বেড়ে ২২০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। এদিকে, সোনালি ১০ থেকে ১৫ টাকা কমে ৩০০ থেকে ৩২০ টাকায় বিক্রি হতে দেখা গেছে।

তবে ডিমের বাজার তুলনামূলক স্থিতিশীল। প্রতি ডজন ডিম ১১০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে, যা গত সপ্তাহের সমান।

বনশ্রী এলাকার বাসিন্দা গৃহিণী রাশিদা খাতুন বলেন, ‘রোজায় মুরগির মাংসটা একটু বেশি লাগে। কিন্তু বাজারে এসে দেখি সবকিছুর দাম বাড়তি। ব্রয়লার মুরগি কেজিতে ৪০ টাকা বেড়ে গেছে। ডিম কিছুটা স্বস্তি দিলেও অন্য জিনিসে খরচ বেড়ে যাচ্ছে। আয় তো বাড়ছে না, কিন্তু খরচ প্রতি সপ্তাহে বাড়ছে।’

গরুর মাংস বিক্রি হচ্ছে ৮০০ থেকে ৮৫০ টাকা কেজিতে, যা রোজার আগে ছিল ৭৫০ থেকে ৭৮০ টাকা। অর্থাৎ কেজিতে প্রায় ৫০ টাকা পর্যন্ত বেড়েছে। খাসির মাংসের দাম অপরিবর্তিত রয়েছে, প্রতি কেজি ১ হাজার ২০০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে।

আরও পড়ুন

Editor & Publisher : Khondaker Azizur Rahman