দ্য সিভিলিয়ানস । নিউজ ডেস্ক ।
আলোচনার নতুন প্রেক্ষাপটে যুক্তরাষ্ট্র ইরানের জব্দকৃত সম্পদ মুক্ত করে দেওয়ার বিষয়ে নীতিগতভাবে সম্মত হয়েছে বলে জানিয়েছেন ইরান এর এক কর্মকর্তা। শনিবার প্রকাশিত এক প্রতিবেদনে রয়টার্স এ তথ্য তুলে ধরে।
ইরানি ওই কর্মকর্তা জানান, আসন্ন কূটনৈতিক আলোচনার আগে এটি ছিল ওয়াশিংটনের পক্ষ থেকে একটি সদিচ্ছার পরীক্ষা। তার মতে, এই পদক্ষেপ প্রমাণ করে যে যুক্তরাষ্ট্র আলোচনাকে গুরুত্বের সঙ্গে দেখছে এবং উত্তেজনা কমাতে আগ্রহী।
তবে বিষয়টি সরল নয়। কর্মকর্তার ভাষ্য অনুযায়ী, জব্দ সম্পদ ছাড়ার বিষয়টি সরাসরি হরমুজ প্রণালিতে জাহাজ চলাচলের নিরাপত্তার সঙ্গে যুক্ত। হরমুজ প্রণালি দিয়ে আন্তর্জাতিক জাহাজ চলাচলে কোনো বাধা না থাকলে তবেই এই অর্থ ছাড় করা হতে পারে।
এর আগে ইরানের পার্লামেন্ট স্পিকার বাঘের ঘালিবাফ সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে জানান, লেবাননে ইসরায়েলের হামলা বন্ধ না হওয়া এবং ইরানের সম্পদ মুক্ত না করা পর্যন্ত যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে কোনো আলোচনা শুরু করবে না তেহরান।
বিশ্লেষকদের মতে, মার্কিন নিষেধাজ্ঞার কারণে ইরানের বিপুল পরিমাণ অর্থ কাতারসহ বিভিন্ন দেশে আটকে রয়েছে, যা দেশটির অর্থনীতিতে দীর্ঘমেয়াদি চাপ তৈরি করেছে।
এদিকে সাম্প্রতিক সময়ে ইসরায়েল ও যুক্তরাষ্ট্রের যৌথ হামলার পর দুই দেশের মধ্যে উত্তেজনা চরমে পৌঁছায়। প্রায় ৪০ দিনের সংঘাত শেষে পাকিস্তান এর মধ্যস্থতায় একটি ভঙ্গুর যুদ্ধবিরতি কার্যকর হলেও পরিস্থিতি এখনো অস্থির।
মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেছেন, আলোচনা ব্যর্থ হলে পুনরায় সামরিক পদক্ষেপ নেওয়া হতে পারে এবং সে প্রস্তুতিও চলছে।
সংক্ষিপ্ত বিশ্লেষণে দেখা যায়, সম্পদ মুক্তির এই সিদ্ধান্ত একদিকে কূটনৈতিক দর কষাকষির অংশ, অন্যদিকে এটি মধ্যপ্রাচ্যে বড় ধরনের উত্তেজনা প্রশমনের একটি পরীক্ষামূলক পদক্ষেপ। বাস্তব অগ্রগতি নির্ভর করবে পারস্পরিক আস্থা ও মাঠপর্যায়ের পরিস্থিতির ওপর।
সূত্র: Reuters, BBC, Al Jazeera,
