দ্য সিভিলিয়ানস । মতামত । মুফতি হারুন ইজহার ।
যাকাত ইসলামের অন্যতম মৌলিক একটি বিধান। যা আল্লাহর প্রতি বান্দার দাসত্বের বহিঃপ্রকাশ ঘটায়। মানুষের অর্থনৈতিক স্বাধীনতা নিশ্চিত করে। মুসলিমদের পারস্পরিক দায়বদ্ধতা ও সহমর্মিতা তৈরিতে অসামান্য ভূমিকা রাখে। সমাজ ও রাষ্ট্রে অর্থনৈতিক ভারসাম্য নিশ্চিত করে।
আল কুরআনে মহান আল্লাহ যাকাতের ব্যাপারে সবিস্তারে আলাপ করেছেন। যাকাত প্রদানের ক্ষেত্রগুলোর কথা তিনি উল্লেখ করে দিয়েছেন। বিত্তবান মানুষের সম্পদে বঞ্চিত মানুষের অধিকার সাব্যস্ত করে দিয়েছেন।যেমন আল্লাহ তা’আলা বলেন:
وَأَقِيمُوا الصَّلَاةَ وَآتُوا الزَّكَاةَ
“আর নামাজ কায়েম করো এবং যাকাত দাও।” (সূরা আল-বাকারাহ: ৪৩)
অপর এক আয়াতে আল্লাহ সুবহানা ওয়া তা’লা বলেন:
إِنَّمَا الصَّدَقَاتُ لِلْفُقَرَاءِ وَالْمَسَاكِينِ وَالْعَامِلِينَ عَلَيْهَا وَالْمُؤَلَّفَةِ قُلُوبُهُمْ وَفِي الرِّقَابِ وَالْغَارِمِينَ وَفِي سَبِيلِ اللَّهِ وَابْنِ السَّبِيلِ ۖ فَرِيضَةً مِنَ اللَّهِ ۗ وَاللَّهُ عَلِيمٌ حَكِيمٌ
“যাকাত তো কেবল ফকীর-মিসকীন, যাকাত সংগ্রহকারী, যাদের হৃদয় আকর্ষণ করা দরকার, দাসমুক্তি, ঋণগ্রস্ত, আল্লাহর পথে এবং মুসাফিরদের জন্য। এটা আল্লাহর পক্ষ থেকে নির্ধারিত ফরজ। আর আল্লাহ সর্বজ্ঞ, প্রজ্ঞাময়।” (সূরা আত-তাওবাহ: ৬০)
এই আয়াতগুলো আমাদের স্মরণ করিয়ে দেয় যে, যাকাত শুধু দান নয়, বরং আল্লাহর নির্দেশিত একটি ফরজ ইবাদত, যা সমাজের অসহায়দের অধিকার রক্ষা করে এবং বিত্তবানের সম্পদকে পবিত্র করে।
রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন:
“আগুন থেকে নিজেকে বাঁচাও, যদিও অর্ধেক খেজুর দিয়ে হয়।” (সহীহ বুখারী: ১৪১৭) এ হাদীসে যাকাত ও সাদাকাহর গুরুত্ব এতটাই বেশি যে, সামান্য পরিমাণ দানও জাহান্নাম থেকে রক্ষা করতে পারে।
বিদ্যমান পুঁজিবাদী ব্যবস্থাপনার মাঝে যদিও আমরা যাকাতের সামগ্রীক উপকারিতা অর্জন করতে ব্যর্থ তবুও মুমিন হিসাবে বিধানের প্রতি আনুগত্য প্রকাশ করা আমাদের আবশ্যকীয় কর্তব্য। যাকাতের উপকারিতাকে কিভাবে আরো ব্যাপক করা যায় এ ব্যাপারে চেষ্টা করাও আমাদের কর্তব্য।
‘আল কুরআনের দারস’ টিম দীর্ঘদিন যাবত মাজলুম আলেম-ওলামা, সাধারণ প্রান্তিক মানুষ ও মুসলিমদেরকে নিয়ে কাজ করে যাচ্ছে। তাদের আইনি সহায়তা, পরিবারকে অর্থনৈতিক সহযোগিতা, কারামুক্তি, চিকিৎসা ও পুনর্বাসন বাবদ বিপুল পরিমাণ অর্থ ব্যয় করা হচ্ছে।
প্রিয় ভাই ও বোনেরা! এই রমজানুল মোবারকে আপনার যাকাত আদায়ের সময় আশা করি মাজলুম ভাইদেরকে ভুলে যাবেন না। যাকাতসহ যেকোনো ধরনের সাদাকাহর মাধ্যমে মজলুম উম্মাহর পাশে দাঁড়ান। আশা করি আপনার এই প্রচেষ্টা কিয়ামত দিবসে আপনার নাজাতের উসিলা হবে।
যাকাত দিয়ে আমরা শুধু সম্পদ শুদ্ধ করি না, বরং আল্লাহর সন্তুষ্টি অর্জন করি এবং উম্মাহর দুঃখ-কষ্ট লাঘব করি। এ রমজানে এই ফরজ ইবাদতকে আরও বেশি গুরুত্ব দিন, কারণ এতে রয়েছে দুনিয়া ও আখিরাতের কল্যাণ। মাশাআল্লাহ!
