দ্য সিভিলিয়ানস । নিউজ ডেস্ক ।
পাকিস্তানের ক্ষেপণাস্ত্র কর্মসূচি ভবিষ্যতে যুক্তরাষ্ট্রের জন্য হুমকি হয়ে উঠতে পারে বলে মন্তব্য করেছেন মার্কিন গোয়েন্দা প্রধান তুলসী গ্যাবার্ড। তবে সামরিক ও কৌশলগত বিশ্লেষকদের বড় অংশ বলছেন, পাকিস্তানের ক্ষেপণাস্ত্র উন্নয়ন মূলত ভারতকে কেন্দ্র করেই পরিচালিত হচ্ছে, যুক্তরাষ্ট্রকে লক্ষ্য করে নয়।
মার্কিন সিনেটের গোয়েন্দা কমিটিতে ২০২৬ সালের বার্ষিক হুমকি মূল্যায়ন প্রতিবেদনে গ্যাবার্ড বলেন, পাকিস্তানসহ কয়েকটি দেশ উন্নত ক্ষেপণাস্ত্র প্রযুক্তি তৈরি করছে, যা ভবিষ্যতে যুক্তরাষ্ট্রের মূল ভূখণ্ডকে পাল্লার মধ্যে আনতে পারে। প্রতিবেদনে দীর্ঘপাল্লার আন্তমহাদেশীয় ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র (আইসিবিএম) উন্নয়নের সম্ভাবনার কথাও উল্লেখ করা হয়।
তবে বিশেষজ্ঞরা বলছেন, পাকিস্তানের বর্তমান সক্ষমতা সেই পর্যায়ে পৌঁছায়নি। দেশটির সবচেয়ে দীর্ঘপাল্লার কার্যকর ক্ষেপণাস্ত্র শাহিন থ্রি প্রায় ২,৭৫০ কিলোমিটার দূরত্ব অতিক্রম করতে পারে, যা ভারতের পুরো ভূখণ্ড কভার করলেও যুক্তরাষ্ট্রে পৌঁছানোর জন্য প্রয়োজনীয় ১১ হাজার কিলোমিটারের অনেক কম।
সাবেক পাকিস্তানি সেনা কর্মকর্তা ও প্রতিরক্ষা বিশ্লেষক তুঘরাল ইয়ামিন জানান, পাকিস্তানের প্রতিরোধ নীতি ঐতিহাসিকভাবে ভারতকেন্দ্রিক। একই মত দিয়েছেন পারমাণবিক নিরাপত্তা বিশেষজ্ঞ রাবিয়া আখতার। তার মতে, যুক্তরাষ্ট্রের মূল্যায়নে প্রায়ই সম্ভাব্য সবচেয়ে খারাপ পরিস্থিতিকে বাস্তব বিশ্লেষণের জায়গায় বসানো হয়।
অন্যদিকে যুক্তরাষ্ট্র দীর্ঘদিন ধরেই পাকিস্তানের ক্ষেপণাস্ত্র উন্নয়ন নজরদারিতে রেখেছে এবং ২০২৪ সালে এ কর্মসূচি সংশ্লিষ্ট কয়েকটি প্রতিষ্ঠানের ওপর নিষেধাজ্ঞা আরোপ করে। ওয়াশিংটনের আশঙ্কা, ভবিষ্যতে দক্ষিণ এশিয়ার বাইরে লক্ষ্যবস্তুতে আঘাত হানতে সক্ষম প্রযুক্তি তৈরি হতে পারে।
বিশ্লেষকদের মতে, ভারত পাকিস্তান সামরিক প্রতিযোগিতা এবং আঞ্চলিক পারমাণবিক ভারসাম্যই মূল বাস্তবতা। তাই পাকিস্তানের ক্ষেপণাস্ত্র কর্মসূচিকে বৈশ্বিক হুমকি হিসেবে দেখার আগে দক্ষিণ এশিয়ার নিরাপত্তা প্রেক্ষাপট বিবেচনা করা জরুরি।
সূত্র: আল জাজিরা।
