দ্য সিভিলিয়ানস । নিউজ ডেস্ক ।
কক্সবাজার শহর এলাকায় পুলিশের ইউনিফর্ম পরে যানবাহনে তল্লাশি ও চাঁদা আদায়ের অভিযোগে এক ব্যক্তিকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। পরে জিজ্ঞাসাবাদে জানা যায়, তিনি প্রকৃত পুলিশ সদস্য নন, বরং ভুয়া পরিচয়ে দীর্ঘদিন ধরে প্রতারণা করে আসছিলেন।
গ্রেপ্তার ব্যক্তির নাম মো. আতিক উল্লাহ আল মামুন। পুলিশ জানিয়েছে, শনিবার দিবাগত রাতে শহরের বীরশ্রেষ্ঠ রুহুল আমিন স্টেডিয়াম সংলগ্ন এলাকায় অভিযান চালিয়ে তাকে আটক করা হয়।
স্থানীয় সূত্র ও পুলিশ জানায়, ওই এলাকায় অবস্থিত একাধিক হাসপাতালের কারণে রাতভর রোগী পরিবহনকারী যানবাহনের চাপ থাকে। এই সুযোগে আতিক উল্লাহ পুলিশের পোশাক পরে গাড়ি থামিয়ে তল্লাশির নামে চাঁদা আদায় করছিলেন বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে।
পুলিশের দাবি, অভিযুক্তের কাছ থেকে পুলিশের ইউনিফর্ম, হ্যান্ডকাফ এবং দুটি নাম লেখা ব্যাজ উদ্ধার করা হয়েছে। ব্যাজে ভিন্ন ভিন্ন নাম ব্যবহার করা হয়েছিল, যাতে তার পরিচয় আরও বিশ্বাসযোগ্য মনে হয়।
পুলিশ জানায়, অভিযুক্ত দীর্ঘদিন ধরে নিজেকে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্য পরিচয় দিয়ে এলাকায় প্রভাব বিস্তার করছিলেন। স্থানীয়দের কাছ থেকে চাঁদা আদায় এবং ভয়ভীতি প্রদর্শনের অভিযোগও রয়েছে তার বিরুদ্ধে।
শেখ মোহাম্মদ আলী বলেন, প্রাথমিক তদন্তে নিশ্চিত হওয়া গেছে যে অভিযুক্ত প্রকৃত কোনো পুলিশ সদস্য নন। তার বিরুদ্ধে প্রতারণা ও চাঁদা আদায়ের অভিযোগে মামলা দায়ের করা হয়েছে এবং তাকে আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হয়েছে।
পুলিশ আরও জানায়, তিনি কীভাবে পুলিশের পোশাক ও সরঞ্জাম সংগ্রহ করেছেন এবং তার সঙ্গে অন্য কেউ জড়িত আছে কি না, তা তদন্ত করে দেখা হচ্ছে।
স্থানীয়দের ভাষ্য, ইউনিফর্ম পরিহিত অবস্থায় অভিযুক্ত এতটাই স্বাভাবিক আচরণ করতেন যে অনেকেই তাকে প্রকৃত পুলিশ সদস্য মনে করতেন। এতে সাধারণ মানুষও বিভ্রান্ত ও ভীত হয়ে পড়ত বলে অভিযোগ রয়েছে।
আইনশৃঙ্খলা বিশ্লেষকদের মতে, এমন ঘটনা শুধু প্রতারণার নয়, বরং জননিরাপত্তার জন্যও বড় ঝুঁকি তৈরি করে। তারা বলছেন, সরকারি পোশাক ও সরঞ্জামের অবৈধ ব্যবহার বন্ধে নজরদারি আরও জোরদার করা প্রয়োজন।
