লোড হচ্ছে...
লোড হচ্ছে...

আপোষহীন এক নেত্রীর বিদায়, কৃতজ্ঞতায় ভরা সন্তানের কণ্ঠ

প্রকাশিত: 03 জানুয়ারী 2026

43 Views

The Civilians News

দ্য সিভিলিয়ানস । নিউজ ডেস্ক ।

মরহুমা সাবেক প্রধানমন্ত্রী ও বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়াকে ঘিরে ঘোষিত তিন দিনের রাষ্ট্রীয় শোক শেষ হওয়ার পর দেশবাসী ও আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের প্রতি গভীর কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেছেন বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া এক আবেগঘন বার্তায় তিনি বলেন, এই শোকের দিনগুলোতে মানুষের ভালোবাসা, দোয়া ও সহমর্মিতা জিয়া পরিবারকে গভীরভাবে নাড়া দিয়েছে।

তারেক রহমান বলেন, এই সময়টিতে তাঁদের পরিবার নতুন করে উপলব্ধি করেছে, বেগম খালেদা জিয়া কেবল একজন রাজনৈতিক নেত্রী নন; তিনি ভিন্ন ভিন্ন মানুষের কাছে ভিন্ন ভিন্ন অর্থ বহন করতেন। অনেকের কাছে তিনি ছিলেন আপোষহীনতার প্রতীক, নিজের বিশ্বাসের পক্ষে সাহসের সঙ্গে দাঁড়ানোর অনুপ্রেরণা। এই প্রভাব রাজনীতির গণ্ডি ছাড়িয়ে পরিচয় ও আদর্শের ঊর্ধ্বে উঠে অসংখ্য মানুষের হৃদয়ে জায়গা করে নিয়েছে বলে মন্তব্য করেন তিনি।

বার্তায় অন্তর্বর্তীকালীন সরকার, প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূস ও তাঁর উপদেষ্টা পরিষদের প্রতি কৃতজ্ঞতা জানান তারেক রহমান। তিনি বলেন, তাঁদের নেতৃত্ব ও দ্রুত সমন্বয়ের কারণেই স্বল্প সময়ে মর্যাদাপূর্ণ ও সম্মানজনক অন্তিম আয়োজন সম্পন্ন করা সম্ভব হয়েছে।

আন্তর্জাতিক অঙ্গন থেকেও যে সহমর্মিতা পাওয়া গেছে, তার উল্লেখ করে তারেক রহমান বলেন, প্রতিবেশী ও বন্ধু রাষ্ট্রসমূহের নেতৃবৃন্দ, কূটনীতিক ও বিশ্বের বিভিন্ন প্রান্তের অংশীদারদের সংহতি তাঁদের পরিবারকে গভীরভাবে আবেগাপ্লুত করেছে। জানাজায় বিদেশি অতিথিদের উপস্থিতি, সমবেদনার বার্তা, শোক বইয়ের লেখা ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের অনুভূতিগুলো ছিল অভূতপূর্ব সম্মানের প্রতিফলন।

তিনি সশস্ত্র বাহিনী, আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী, প্রশাসন ও সংশ্লিষ্ট সব মন্ত্রণালয়ের সদস্যদের দায়িত্বশীল ভূমিকার প্রশংসা করেন। বিশেষভাবে প্রেসিডেন্ট গার্ড রেজিমেন্টের গার্ড অব অনার ও শেষ সালামকে মায়ের জীবনের প্রতি সর্বোচ্চ শ্রদ্ধা হিসেবে উল্লেখ করেন।

জনাব তারেক রহমানের ফেইসবুক পোস্টটি হুবহু তুলে ধরা হলো :

“মরহুমা বেগম খালেদা জিয়ার জন্য তিন দিনের রাষ্ট্রীয় শোক সমাপ্ত হয়েছে। এই সময় দেশজুড়ে

এবং বিদেশে অবস্থানরত শুভানুধ্যায়ীদের কাছ থেকে প্রাপ্ত ভালোবাসা, সমবেদনা ও দোয়া
আমাদের পরিবারকে গভীরভাবে নাড়া দিয়েছে। এই তিন দিনে আমরা আরও উপলব্ধি করেছি,
আমার মা ভিন্ন-ভিন্ন মানুষের কাছে ভিন্ন-ভিন্ন তাৎপর্য বহন করতেন; অনেক ক্ষেত্রে তা ছিল
এতটাই অর্থবহ, যা হয়তো আমরা নিজেরাও পুরোপুরি উপলব্ধি করতে পারিনি।
অনেকের কাছে তিনি ছিলেন আপোষহীনতার প্রতীক; নিজের বিশ্বাসের পক্ষে সাহসের
সঙ্গে দাঁড়ানোর অটল প্রেরণা। রাজনীতির গণ্ডি ছাড়িয়ে এই প্রেরণা বহু দূর পর্যন্ত বিস্তৃত
হয়েছে; পরিচয়, আদর্শ ও অবস্থানের ঊর্ধ্বে উঠে অগণিত মানুষকে স্পর্শ করেছে।
আমরা অন্তর্বর্তীকালীন সরকার, অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূস এবং তাঁর উপদেষ্টা পরিষদের
প্রতি চিরকৃতজ্ঞ। তাঁদের নেতৃত্ব ও দ্রুত সমন্বয়ের কারণেই স্বল্প সময়ের মধ্যে এই বিরল ও
সম্মানজনক অন্তিম আয়োজন সম্পন্ন করা সম্ভব হয়েছে।
আন্তর্জাতিক পরিমণ্ডলেও আমাদের প্রতিবেশী ও বন্ধু রাষ্ট্রসমূহ, দেশ-বিদেশের নেতৃবৃন্দ,
কূটনীতিকবৃন্দ এবং বিশ্বের নানা প্রান্তের অংশীদারদের প্রতি আন্তরিক ধন্যবাদ জানাই।
বিভিন্ন দেশের সরকারপ্রধানদের সহমর্মিতা ও সংহতি আমাদের হৃদয়কে গভীরভাবে
আলোড়িত করেছে। জানাজায় বিভিন্ন দেশের সম্মানিত ব্যক্তিদের উপস্থিতি,
সমবেদনার চিঠি ও বার্তা, শোক বইয়ে লেখা কথা, সামাজিক মাধ্যমে অগণিত অনুভূতির প্রকাশ,
বাংলাদেশে অবস্থিত মিশন ও বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের আনুষ্ঠানিক বিবৃতি —
এই প্রতিটি সম্মাননাই ছিল অভূতপূর্ব।
আমি আবারও কৃতজ্ঞতা জানাই সশস্ত্র বাহিনী, আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী এবং প্রশাসন ও
বিভিন্ন মন্ত্রণালয়ের সঙ্গে যুক্ত প্রতিটি সদস্যকে। মায়ের শেষ বিদায়ে আপনাদের দায়িত্ববোধ ও
শ্রদ্ধাঞ্জলি জিয়া পরিবারকে গভীরভাবে স্পর্শ করেছে।
এই শোকের দিনগুলো যেন মর্যাদা ও সম্মানের সঙ্গে সম্পন্ন হয়, সে জন্য যাঁরা ভূমিকা রেখেছেন,
তাঁদের সবার প্রতিই আমরা কৃতজ্ঞ। বিশেষভাবে ধন্যবাদ জানাতে চাই প্রেসিডেন্ট গার্ড রেজিমেন্টকে।
তাঁদের সম্মানসূচক গার্ড অব অনার ও শেষ সালাম আমার মায়ের জীবন ও অবদানের প্রতি সর্বোচ্চ
শ্রদ্ধা নিবেদন করেছে। তাঁকে সমাধিতে পৌঁছে দিয়ে তাঁরা জাতির শ্রদ্ধা ও ভালোবাসার
প্রতিফলন ঘটিয়েছেন এবং অন্তিম যাত্রাকে প্রাপ্য সম্মানে আলোকিত করেছেন।
এ কথাও স্মরণ করিয়ে দিতে চাই যে, আরও অনেক মানুষ, যাঁদের নাম বা ভূমিকা হয়তো আলাদাভাবে
উল্লেখ করা সম্ভব হয়নি, তাঁরা নীরবে ও নির্মোহভাবে এই পুরো প্রক্রিয়াকে সুচারুভাবে সম্পন্ন করতে
সহায়তা করেছেন। পর্দার আড়ালে বা জনসম্মুখের বাইরে থেকে দায়িত্ব পালনকারী সকলের প্রতি রইল
আমাদের আন্তরিক কৃতজ্ঞতা। আলহামদুলিল্লাহ, আপনাদের প্রচেষ্টাতেই আমাদের পরিবার ও জাতি
মর্যাদার সঙ্গে মায়ের স্মৃতিকে ধারণ করতে পেরেছে।
সবশেষে, বাংলাদেশের জনগণের প্রতি আমার গভীর অভিবাদন। দেশের প্রতিটি প্রান্ত থেকে এত মানুষের
সমবেত হয়ে দেশনেত্রীর প্রতি শ্রদ্ধা জানানোর দৃশ্য আমাদের পরিবার কখনোই ভুলবে না। এই শক্তিশালী
ও ঐক্যবদ্ধ উপস্থিতি গণমানুষের সহমর্মিতা ও মানবিক আবেগেরই প্রতিফলন।
আমাদের পরিবার এবং বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল-বিএনপির পক্ষ থেকে, শোক ও স্মরণের
এই সময়ে যাঁরা আমাদের পাশে ছিলেন, তাঁদের সবাইকে আবারও আন্তরিক ধন্যবাদ। আপনাদের
ভালোবাসা ও সংহতি আমাদের সান্ত্বনা ও শক্তি জুগিয়েছে, আর আমরা তা কৃতজ্ঞতার সঙ্গে
আগামীর বাংলাদেশে বয়ে নিয়ে চলব, ইনশাআল্লাহ। “

এই বার্তার সবশেষে জনাব রহমান লেখেন বাংলাদেশের জনগণের প্রতি গভীর অভিবাদন জানিয়ে বলেন, দেশের প্রতিটি প্রান্ত থেকে মানুষের স্বতঃস্ফূর্ত উপস্থিতি ও ভালোবাসা তাঁদের পরিবার কখনো ভুলবে না। বিএনপি ও জিয়া পরিবারের পক্ষ থেকে তিনি বলেন, এই ভালোবাসা ও সংহতিই তাঁদের জন্য সান্ত্বনা ও শক্তির উৎস, যা আগামীর বাংলাদেশে বহন করে নেওয়ার অঙ্গীকার রইল।

আরও পড়ুন

Editor & Publisher : Khondaker Azizur Rahman