দ্য সিভিলিয়ানস । নিউজ ডেস্ক ।
রাজধানীর পল্লবী এলাকায় সাত বছরের শিশু রামিসা আক্তারকে হত্যার আগে নির্মমভাবে ধর্ষণ করা হয়েছিল বলে নিশ্চিত করেছে ফরেনসিক ও ডিএনএ পরীক্ষার চূড়ান্ত প্রতিবেদন। তদন্ত সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, পরীক্ষার ফলাফলে মূল অভিযুক্ত সোহেল রানা এর সংশ্লিষ্টতার সুস্পষ্ট প্রমাণ পাওয়া গেছে।
শনিবার সিআইডি ফরেনসিক ইউনিট এবং শহীদ সোহরাওয়ার্দী মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ তদন্ত কর্মকর্তার কাছে ময়নাতদন্ত ও ডিএনএ পরীক্ষার চূড়ান্ত প্রতিবেদন হস্তান্তর করে। প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, শিশুটিকে পাশবিক নির্যাতনের পর শ্বাসরোধে হত্যা করা হয়।
তদন্ত সূত্র জানায়, সরকারের বিশেষ নির্দেশনায় দ্রুততম সময়ে মামলার অভিযোগপত্র প্রস্তুতের কাজ প্রায় শেষ পর্যায়ে রয়েছে। রোববারের মধ্যেই আদালতে চার্জশিট জমা দেওয়ার প্রস্তুতি চলছে। অভিযোগপত্রে প্রধান আসামি সোহেল রানা এবং তার স্ত্রী স্বপ্না আক্তার কে অভিযুক্ত করা হচ্ছে।
এর আগে আদালতে দেওয়া স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দিতে সোহেল রানা অপরাধের দায় স্বীকার করেন। তিনি জানান, ঘটনার আগে তিনি মাদক সেবন করেছিলেন এবং পরে শিশুটিকে ধর্ষণ ও হত্যা করেন। আদালতে ফৌজদারি কার্যবিধির ১৬৪ ধারায় তাঁর জবানবন্দি রেকর্ড করা হয়েছে।
মামলাটির বিচার দ্রুত শেষ করতে আইন মন্ত্রণালয় বিশেষ উদ্যোগ নিয়েছে। রাষ্ট্রপক্ষে মামলাটি পরিচালনার জন্য আজিজুর রহমান দুলু কে বিশেষ পাবলিক প্রসিকিউটর হিসেবে নিয়োগ দেওয়া হয়েছে। সংশ্লিষ্ট সূত্র বলছে, ঈদের ছুটির পরপরই আনুষ্ঠানিক বিচারকাজ শুরু হতে পারে।
আইনমন্ত্রী মো. আসাদুজ্জামান জানিয়েছেন, মামলাটিকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে দেখা হচ্ছে এবং দ্রুত বিচার নিশ্চিতে প্রয়োজনীয় সব ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে।
গত ১৯ মে রাজধানীর একটি বাসায় দ্বিতীয় শ্রেণির শিক্ষার্থী রামিসা আক্তারের মরদেহ উদ্ধার হওয়ার পর দেশজুড়ে ব্যাপক ক্ষোভ ছড়িয়ে পড়ে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমসহ বিভিন্ন স্থানে শিশু নির্যাতন ও ধর্ষণের বিরুদ্ধে বিক্ষোভ ও মানববন্ধন অনুষ্ঠিত হচ্ছে। অপরাধীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবিতে সরব হয়েছেন সাধারণ মানুষ ও মানবাধিকারকর্মীরা।
ঘটনার পরদিন রামিসার বাবা আব্দুল হান্নান মোল্লা বাদী হয়ে মামলা দায়ের করেন। পরে পুলিশ দ্রুত অভিযান চালিয়ে দুই আসামিকে গ্রেপ্তার করে।
এদিকে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান ইতোমধ্যে রামিসার পরিবারের সঙ্গে সাক্ষাৎ করেছেন এবং দ্রুত বিচার ও সর্বোচ্চ শাস্তি নিশ্চিত করার আশ্বাস দিয়েছেন।
মানবাধিকার বিশ্লেষকদের মতে, দ্রুত বিচার গুরুত্বপূর্ণ হলেও শিশু সুরক্ষায় দীর্ঘমেয়াদি সামাজিক প্রতিরোধ ব্যবস্থা গড়ে তোলাও সমান জরুরি। তারা পরিবার, শিক্ষা প্রতিষ্ঠান এবং রাষ্ট্রীয় সংস্থাগুলোর সমন্বিত উদ্যোগের ওপর গুরুত্বারোপ করেছেন।
