দ্য সিভিলিয়ানস । নিউজ ডেস্ক ।
ইসরায়েলের স্পর্শকাতর সামরিক স্থাপনাকে লক্ষ্য করে মিসাইল হামলার দাবি করেছে ইয়েমেনভিত্তিক হুতি বিদ্রোহীরা। এক বিবৃতিতে গোষ্ঠীটি জানায়, চলমান আঞ্চলিক উত্তেজনার প্রেক্ষাপটে তারা সরাসরি সামরিক পদক্ষেপ নিয়েছে। তবে ইসরায়েলি প্রতিরক্ষা বাহিনী (আইডিএফ) জানিয়েছে, ইয়েমেন থেকে ছোড়া একটি মিসাইল আকাশেই সফলভাবে ভূপাতিত করা হয়েছে এবং এতে কোনো ক্ষয়ক্ষতির ঘটনা ঘটেনি।
হামলার আগে হুতিরা সতর্ক করে বলেছিল, ইরানের বিরুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের সঙ্গে অন্য কোনো দেশ যুক্ত হলে অথবা লোহিত সাগর ব্যবহার করে ইরানের ওপর হামলা চালানো হলে তারা সামরিকভাবে হস্তক্ষেপ করবে। সেই সতর্কবার্তার একদিন পরই আনুষ্ঠানিকভাবে সংঘাতে যুক্ত হওয়ার ঘোষণা দেয় গোষ্ঠীটি।
বার্তাসংস্থা রয়টার্স জানিয়েছে, হুতিদের যুদ্ধে অংশগ্রহণ মধ্যপ্রাচ্যে সংঘাত আরও বিস্তৃত হওয়ার আশঙ্কা বাড়িয়েছে। বিশ্লেষকদের মতে, হুতিদের ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন সক্ষমতা ইয়েমেনের বাইরে দূরবর্তী লক্ষ্যবস্তুতে আঘাত হানতে সক্ষম, যা আরব উপত্যকা ও লোহিত সাগরের গুরুত্বপূর্ণ নৌপথকে ঝুঁকির মধ্যে ফেলতে পারে।
ইতোমধ্যে লেবানন ও ইরাকে অবস্থানরত ইরানপন্থী সশস্ত্র গোষ্ঠীগুলো সংঘাতে জড়িয়েছে বলে বিভিন্ন আন্তর্জাতিক প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। সর্বশেষ হুতিদের যুক্ত হওয়ায় সংঘাতটি বহুমুখী আঞ্চলিক যুদ্ধে রূপ নিতে পারে বলে আশঙ্কা করছেন পর্যবেক্ষকরা।
গত ২৮ ফেব্রুয়ারি সংঘাত শুরু হলেও এতদিন হুতিরা আনুষ্ঠানিকভাবে যুদ্ধে অংশ নেয়নি। তবে ইয়েমেনের যে অঞ্চলগুলো তাদের নিয়ন্ত্রণে রয়েছে, সেগুলো লোহিত সাগরের গুরুত্বপূর্ণ জাহাজ চলাচল পথের কাছে হওয়ায় কৌশলগতভাবে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
হুতি নেতা সাম্প্রতিক এক ভাষণে বলেন, লোহিত সাগরকে ইরান বা কোনো মুসলিম দেশের বিরুদ্ধে সামরিক হামলার জন্য ব্যবহার করতে দেওয়া হবে না। এতে আন্তর্জাতিক বাণিজ্য ও জ্বালানি সরবরাহ ব্যবস্থায় নতুন অনিশ্চয়তা তৈরি হওয়ার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে।
সূত্র: রয়টার্স
