দ্য সিভিলিয়ানস । নিউজ ডেস্ক ।
বাংলাদেশ ও পাকিস্তানের মধ্যে বাণিজ্য ও ব্যবসায়িক সহযোগিতা আরও বাড়াতে প্রাতিষ্ঠানিক যোগাযোগ জোরদারের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এ লক্ষ্যে পাকিস্তানের আঞ্চলিক বাণিজ্য ও শিল্প চেম্বারগুলোর সঙ্গে ঢাকার মেট্রোপলিটন চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রির সম্পর্ক গড়ে তোলা, ব্যবসায়ী পর্যায়ে সরাসরি বৈঠক আয়োজন এবং দুই দেশের বাণিজ্য মেলায় পারস্পরিক অংশগ্রহণের বিষয়ে আলোচনা হয়েছে।
সোমবার ঢাকায় মেট্রোপলিটন চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রির কার্যালয়ে সংগঠনটির সভাপতি কামরান টি. রহমানের সঙ্গে পাকিস্তানের হাইকমিশনার ইমরান হায়দারের বৈঠকে এসব বিষয়ে আলোচনা হয়। পাকিস্তান হাইকমিশনের এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়েছে।
বৈঠকে দুই দেশের মধ্যে বিভিন্ন খাতে দ্বিপক্ষীয় বাণিজ্য বাড়ানোর সম্ভাবনা নিয়েও আলোচনা হয়। এর মধ্যে ওষুধ, তাজা ফল ও সবজি, পাট, অস্ত্রোপচারসামগ্রী এবং সিরামিক শিল্পকে সম্ভাবনাময় খাত হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে।
পাকিস্তানের সরকারি বাণিজ্যতথ্য অনুযায়ী, দেশটি বাংলাদেশে প্রধানত তুলার কাপড়, তুলার সুতা, সিমেন্ট, সয়াবিন ও চামড়াজাত পণ্য রপ্তানি করে। অন্যদিকে বাংলাদেশ থেকে পাকিস্তানে পাট ও পাটজাত পণ্য, রাসায়নিক উপাদান, ওষুধ এবং চিকিৎসা সরঞ্জামসহ বিভিন্ন পণ্য যায়। ২০২৩ সালে পাকিস্তান বাংলাদেশে প্রায় ৬৫ কোটি ৯ লাখ মার্কিন ডলারের পণ্য রপ্তানি করলেও বাংলাদেশ থেকে আমদানি করেছে প্রায় ৬ কোটি ৩৩ লাখ মার্কিন ডলারের পণ্য।

মেট্রোপলিটন চেম্বারের প্রকাশিত দ্বিপক্ষীয় বাণিজ্য পর্যালোচনাতেও দুই দেশের বাণিজ্যে বস্ত্র ও পাটজাত পণ্যের পাশাপাশি ওষুধ, রাসায়নিক এবং চিকিৎসা সরঞ্জামের উপস্থিতি দেখা যায়। ফলে বৈঠকে আলোচিত খাতগুলো বিদ্যমান বাণিজ্য কাঠামোর সঙ্গেও সামঞ্জস্যপূর্ণ।
বৈঠকে তথ্য ও যোগাযোগপ্রযুক্তি খাতেও সহযোগিতার সম্ভাবনা নিয়ে আলোচনা হয়েছে। পাকিস্তানের তথ্য ও যোগাযোগপ্রযুক্তি খাতের সাম্প্রতিক প্রবৃদ্ধিকে স্বাগত জানিয়ে এ ক্ষেত্রে দুই দেশের ব্যবসায়ী ও প্রতিষ্ঠানগুলোর মধ্যে সহযোগিতার সুযোগ খতিয়ে দেখার কথা বলা হয়।
ব্যবসায়ী পর্যায়ে সরাসরি যোগাযোগ বাড়ানোর পাশাপাশি দুই দেশের বাণিজ্য মেলায় অংশগ্রহণের বিষয়টিও গুরুত্ব পেয়েছে। পাকিস্তানের হাইকমিশনার মেট্রোপলিটন চেম্বারের সভাপতি ও সদস্যদের দেশটির আন্তর্জাতিক খাদ্য ও কৃষি প্রদর্শনীতে অংশ নেওয়ার আমন্ত্রণ জানিয়েছেন।
পাকিস্তানের বাণিজ্য উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের আয়োজনে খাদ্য ও কৃষিভিত্তিক আন্তর্জাতিক প্রদর্শনীটি আগামী ২৩ থেকে ২৬ নভেম্বর করাচিতে অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে। আয়োজকদের তথ্য অনুযায়ী, এবারের প্রদর্শনীতে ৮০টির বেশি দেশের ৮৫০ জনের বেশি আন্তর্জাতিক ক্রেতা এবং ৫০০টির বেশি প্রদর্শক অংশ নেওয়ার কথা রয়েছে। খাদ্য উৎপাদন, প্রক্রিয়াজাতকরণ, ফল ও সবজি, চাল, মাংস, সামুদ্রিক খাদ্য, মসলা, মধু, তেলবীজসহ কৃষি ও খাদ্যশিল্পের বিভিন্ন খাত এতে তুলে ধরা হবে।
সাম্প্রতিক সময়ে বাংলাদেশ ও পাকিস্তানের মধ্যে বাণিজ্য ও অর্থনৈতিক সহযোগিতা বাড়ানোর বিষয়ে উভয় দেশের সরকারি পর্যায়েও আলোচনা হয়েছে। পাট, কৃষিপণ্য, ওষুধ ও চিকিৎসা সরঞ্জামসহ কয়েকটি খাতে পারস্পরিক বাণিজ্য সম্প্রসারণের সম্ভাবনা নিয়ে দুই দেশের প্রতিনিধিরা আলোচনা করেছেন।
মেট্রোপলিটন চেম্বার ও পাকিস্তান হাইকমিশনের সাম্প্রতিক বৈঠক সেই বৃহত্তর বাণিজ্যিক যোগাযোগকে ব্যবসায়ী পর্যায়ে আরও বিস্তৃত করার একটি উদ্যোগ হিসেবে দেখা হচ্ছে। তবে প্রস্তাবিত সহযোগিতাগুলো বাস্তবে কতটা এগোয় তা নির্ভর করবে ব্যবসায়ী যোগাযোগ, বাজারসুবিধা, পণ্যের প্রতিযোগিতামূলক সক্ষমতা এবং দুই দেশের সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানের মধ্যে পরবর্তী কার্যক্রমের ওপর।
