দ্য সিভিলিয়ানস । নিউজ ডেস্ক ।
ইরানকে কেন্দ্র করে চলমান যুদ্ধের কৌশল শুরু হওয়ার আগেই কার্যত ব্যর্থ হয়েছিল বলে দাবি করেছে যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক প্রভাবশালী সংবাদমাধ্যম নিউইয়র্ক টাইমস। পত্রিকাটির এক অনুসন্ধানী প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, যুদ্ধের মূল ভিত্তি ছিল ইরানের ভেতরে দ্রুত গণঅভ্যুত্থান ঘটবে এমন একটি ধারণা, যা বাস্তবে ঘটেনি।
প্রতিবেদন অনুযায়ী, যুদ্ধ শুরুর আগে ইসরায়েলের গোয়েন্দা সংস্থা মোসাদের প্রধান ডেভিড বার্নিয়া প্রধানমন্ত্রী বেঞ্জামিন নেতানিয়াহুকে জানান, যুদ্ধ শুরু হওয়ার কয়েক দিনের মধ্যেই ইরানের বিরোধী শক্তিকে সংগঠিত করে সরকারবিরোধী বিদ্রোহ সৃষ্টি করা সম্ভব হবে। পরে ওয়াশিংটনে সাবেক মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের প্রশাসনের শীর্ষ কর্মকর্তাদের কাছেও একই মূল্যায়ন তুলে ধরা হয়।
এই আশাবাদী গোয়েন্দা বিশ্লেষণকে ভিত্তি করেই নেতানিয়াহু ট্রাম্পকে বোঝান যে ইরানে ‘রেজিম চেঞ্জ’ বাস্তবসম্মত লক্ষ্য হতে পারে। ফলে যুদ্ধ পরিকল্পনার কেন্দ্রীয় ধারণা হয়ে ওঠে অভ্যন্তরীণ বিদ্রোহের মাধ্যমে সরকার পতন।
কিন্তু যুদ্ধ শুরু হওয়ার তিন সপ্তাহ পরও ইরানে কোনো বড় ধরনের গণঅভ্যুত্থান দেখা যায়নি। মার্কিন ও ইসরায়েলি গোয়েন্দা সংস্থাগুলোর সাম্প্রতিক মূল্যায়ন বলছে, ইরান সরকার চাপের মুখে থাকলেও এখনো স্থিতিশীল রয়েছে। মার্কিন সামরিক কর্মকর্তারা শুরু থেকেই সতর্ক করেছিলেন যে বিদেশি বোমা হামলার সময় সাধারণ জনগণ রাস্তায় নামার সম্ভাবনা খুব কম।
সিআইএ আগেই পূর্ণাঙ্গ সরকার পতনের সম্ভাবনাকে ‘অত্যন্ত কম’ হিসেবে মূল্যায়ন করেছিল। এমনকি মোসাদের সাবেক প্রধান ২০২১ সালেই অভ্যন্তরীণ বিদ্রোহ উসকে দেওয়ার কৌশলকে অকার্যকর বলে মত দিয়েছিলেন।
প্রতিবেদনে আরও বলা হয়, পর্দার আড়ালে নেতানিয়াহু মোসাদের পূর্বাভাস বাস্তবায়িত না হওয়ায় হতাশা প্রকাশ করলেও প্রকাশ্যে এখনো ইরানে পরিবর্তনের সম্ভাবনার কথা বলে যাচ্ছেন।
বিশ্লেষকদের মতে, দ্রুত রাজনৈতিক পতনের প্রত্যাশা ভেঙে যাওয়ায় যুদ্ধ এখন দীর্ঘমেয়াদি অচলাবস্থার দিকে যাচ্ছে, যার স্পষ্ট কোনো কৌশলগত সমাপ্তি এখনো দৃশ্যমান নয়।
সূত্র: নিউইয়র্ক টাইমস
