দ্য সিভিলিয়ানস । নিউজ ডেস্ক ।
২০২৬-২৭ অর্থবছরের প্রস্তাবিত জাতীয় বাজেট বাস্তবায়নের পথে তিনটি বড় বাধা রয়েছে বলে মনে করছে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী। দলটির মতে, জ্বালানি খাতের ক্রমবর্ধমান ব্যয়, উচ্চ মূল্যস্ফীতি এবং বৈশ্বিক অর্থনৈতিক অনিশ্চয়তা আগামী অর্থবছরের বাজেট বাস্তবায়নকে কঠিন করে তুলতে পারে।
শুক্রবার রাজধানীর মগবাজারে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে এ মন্তব্য করেন দলের সেক্রেটারি জেনারেল মিয়া গোলাম পরওয়ার।
সংবাদ সম্মেলনে তিনি বলেন, সরকার যে উচ্চাভিলাষী রাজস্ব আদায় ও অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধির লক্ষ্য নির্ধারণ করেছে, তা অর্জনের ক্ষেত্রে দেশের বিদ্যুৎ, গ্যাস ও জ্বালানি খাতের ব্যয় একটি বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়াতে পারে। উৎপাদন ও পরিবহন ব্যয় বাড়লে তার প্রভাব সরাসরি শিল্প, কৃষি এবং সাধারণ মানুষের জীবনযাত্রায় পড়বে।
জামায়াতের পর্যবেক্ষণ অনুযায়ী, দেশের অর্থনীতির অন্যতম বড় সমস্যা বর্তমানে মূল্যস্ফীতি। দীর্ঘ সময় ধরে নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের উচ্চমূল্যের কারণে সাধারণ মানুষের ক্রয়ক্ষমতা চাপে রয়েছে। এমন পরিস্থিতিতে মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণে কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণ না করা হলে বাজেটের প্রত্যাশিত সুফল জনগণের কাছে পৌঁছানো কঠিন হবে বলে মনে করছে দলটি।
সংবাদ সম্মেলনে বৈশ্বিক ও ভূরাজনৈতিক পরিস্থিতিকেও একটি গুরুত্বপূর্ণ ঝুঁকি হিসেবে উল্লেখ করা হয়। আন্তর্জাতিক বাজারে জ্বালানি ও খাদ্যপণ্যের দামের ওঠানামা, বিভিন্ন অঞ্চলে চলমান সংঘাত এবং বৈশ্বিক বাণিজ্য ব্যবস্থার অনিশ্চয়তা বাংলাদেশের অর্থনীতির ওপর প্রভাব ফেলতে পারে বলে মন্তব্য করেন মিয়া গোলাম পরওয়ার।
তিনি বলেন, দেশের অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতা নিশ্চিত করতে হলে শুধু বাজেট প্রণয়ন নয়, বরং বাস্তবায়নের ক্ষেত্রেও দক্ষতা, স্বচ্ছতা এবং জবাবদিহি নিশ্চিত করতে হবে। একই সঙ্গে বিনিয়োগবান্ধব পরিবেশ সৃষ্টি, কর্মসংস্থান বৃদ্ধি এবং বাজার ব্যবস্থাপনায় কার্যকর নজরদারির ওপর গুরুত্বারোপ করেন তিনি।
সম্প্রতি ঘোষিত ২০২৬-২৭ অর্থবছরের জাতীয় বাজেটে সরকার রাজস্ব আহরণ বৃদ্ধি, কর ব্যবস্থার সংস্কার, নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যে কর ছাড় এবং বিনিয়োগ উৎসাহিত করার বিভিন্ন উদ্যোগের কথা জানিয়েছে। তবে এসব উদ্যোগ বাস্তব ফলাফল দিতে পারবে কি না, তা অনেকাংশে নির্ভর করবে দেশের সামষ্টিক অর্থনৈতিক পরিস্থিতি এবং বৈশ্বিক অর্থনীতির গতিপ্রকৃতির ওপর।
অর্থনীতিবিদদের একাংশও মনে করেন, উচ্চ মূল্যস্ফীতি ও জ্বালানি ব্যয় নিয়ন্ত্রণে না এলে বাজেট বাস্তবায়ন প্রক্রিয়ায় চাপ সৃষ্টি হতে পারে। ফলে আগামী অর্থবছরে সরকারের জন্য রাজস্ব আদায়, বিনিয়োগ বৃদ্ধি এবং মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণ সমান গুরুত্বপূর্ণ চ্যালেঞ্জ হিসেবে দেখা দেবে।
