দ্য সিভিলিয়ানস । নিউজ ডেস্ক ।
দক্ষিণ লেবাননের জেজ্জিন এলাকায় ইসরায়েলি বিমান হামলায় নিহত হয়েছেন লেবাননের সাংবাদিক ফাতিমা ফতুনি। তিনি মধ্যপ্রাচ্যভিত্তিক সংবাদমাধ্যম আল মায়াদিনের প্রতিবেদক ছিলেন। শনিবার পরিচালিত ওই হামলায় আরও দুই সাংবাদিক নিহত হন যার মধ্যে ফতুনির ভাই ও ক্যামেরাপারসন মোহাম্মদ ফতুনিও ছিলেন। আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমগুলো জানিয়েছে, সাংবাদিকদের বহনকারী একটি গাড়ি লক্ষ্য করে হামলাটি চালানো হয়।
লেবাননের স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় ও সংশ্লিষ্ট টেলিভিশন চ্যানেলগুলোর বরাতে জানা গেছে, সাংবাদিকরা সীমান্ত পরিস্থিতি নিয়ে রিপোর্টিং করছিলেন। হামলার পর ঘটনাস্থলেই তাদের মৃত্যু হয়। আল মায়াদিন ও আল মানার টিভি নিহতদের পরিচয় নিশ্চিত করেছে।
রয়টার্সের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ইসরায়েলি সেনাবাহিনী জানিয়েছে যে হামলার লক্ষ্য ছিলেন আল মানার টিভির সাংবাদিক আলি শুয়াইব। তাকে হিজবুল্লাহর সঙ্গে সম্পৃক্ত বলে দাবি করা হলেও এ বিষয়ে কোনো প্রমাণ প্রকাশ করা হয়নি এবং অন্য নিহত সাংবাদিকদের বিষয়ে সরাসরি মন্তব্যও করা হয়নি। হিজবুল্লাহ ও লেবাননের কর্মকর্তারা এ হামলাকে আন্তর্জাতিক আইনের লঙ্ঘন বলে নিন্দা জানিয়েছেন।
আল জাজিরা ও অন্যান্য আন্তর্জাতিক গণমাধ্যম জানায়, সাম্প্রতিক সপ্তাহগুলোতে লেবাননে সাংবাদিক ও চিকিৎসাকর্মীদের ওপর হামলার সংখ্যা বেড়েছে। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থাসহ বিভিন্ন আন্তর্জাতিক সংস্থা সাংবাদিকদের নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছে।
সহকর্মীদের মতে, কয়েক সপ্তাহ আগেই পৃথক এক হামলায় ফাতিমা ফতুনির পরিবারের একাধিক সদস্য নিহত হয়েছিলেন। এরপরও তিনি দক্ষিণ লেবাননের সংঘাতপূর্ণ এলাকায় রিপোর্টিং চালিয়ে যান। তার মৃত্যু মধ্যপ্রাচ্যে যুদ্ধ কাভার করা সাংবাদিকদের ঝুঁকি ও নিরাপত্তা নিয়ে নতুন করে আলোচনা তৈরি করেছে।
গাজায় ইসরাইলি গনহত্যায় সময় এবং এখনো যে আগ্রাসন চলছে তাতে দেখা যায় তারা এরই মধ্যে অনেক সংবাদকর্মী হত্যা করেছে। এটি ইজরাইলের একটি পুরানো কৌশল সংবাদকর্মীদের হত্যার মাধ্যমে তারা নিশ্চিত করতে চায় যেন সঠিক সংবাদ কখনই বিশ্ববাসী জানতে না পারে।
ইসরায়েল হিজবুল্লাহ সংঘাত দীর্ঘায়িত হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে সীমান্ত এলাকায় সাংবাদিকদের কাজ আরও ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে উঠছে। আন্তর্জাতিক মানবাধিকার সংগঠনগুলো বলছে, যুদ্ধক্ষেত্রে সংবাদকর্মীদের সুরক্ষা নিশ্চিত না হলে তথ্যপ্রবাহ ও বাস্তব পরিস্থিতি বিশ্ববাসীর সামনে তুলে ধরা কঠিন হয়ে পড়বে।
সূত্র: Reuters, Al Jazeera
