দ্য সিভিলিয়ানস । নিউজ ডেস্ক ।
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের পর অবশেষে জুলাই জাতীয় সনদে স্বাক্ষর করতে যাচ্ছে অভ্যুত্থানে নেতৃত্ব দেওয়া দল জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি)।
সোমবার সন্ধ্যা ৬টায় দলের আহ্বায়ক নাহিদ ইসলামের নেতৃত্বে একটি প্রতিনিধি দল প্রধান উপদেষ্টার সরকারি বাসভবন যমুনায় গিয়ে সনদে সই করবে বলে দলটির পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে। প্রতিনিধি দলে থাকছেন সদস্য সচিব আখতার হোসেন, যুগ্ম সদস্যসচিব জহিরুল ইসলাম মূসা, যুগ্ম আহ্বায়ক সারোয়ার তুষার, মনিরা শারমিন ও জাবেদ রাসিন।
গত ১২ ফেব্রুয়ারি ত্রয়োদশ সংসদ নির্বাচনের পাশাপাশি জুলাই জাতীয় সনদের সংবিধান-সংক্রান্ত প্রস্তাব বাস্তবায়নে গণভোট অনুষ্ঠিত হয়। ৪৮ দফা সংস্কার প্রস্তাবের পক্ষে অধিকাংশ ভোটার মত দেন। নির্বাচন কমিশনের সচিব আখতার আহমেদের তথ্য অনুযায়ী, গণভোটে অংশ নেন ৭ কোটি ৬ লাখ ৪০ হাজার ৫৬ জন ভোটার, যা মোট ভোটারের ৬০ দশমিক ২৬ শতাংশ।
এর মধ্যে ‘হ্যাঁ’ ভোট পড়ে ৪ কোটি ৮০ লাখ ৭৪ হাজার ৪২৯টি, যা ৬৮ দশমিক ০৬ শতাংশ। বিপক্ষে ভোট দেন ২ কোটি ২৫ লাখ ৬৫ হাজার ৬২৭ জন, অর্থাৎ ৩১ দশমিক ৯৪ শতাংশ।
জুলাই সনদের ৪৮ দফা সংবিধান সংস্কার প্রস্তাব বাস্তবায়নে জনগণের সম্মতি নিতেই এই গণভোটের আয়োজন করা হয়। গণভোটে প্রস্তাব পাস হওয়ার পর এখন সনদে সই করতে যাচ্ছে এনসিপি।
চব্বিশের অভ্যুত্থানের পর পরিবর্তন ও সংস্কারের যে দাবি জোরালো হয়, তার প্রেক্ষাপটে ২০২৪ সালের শেষে জাতীয় সনদের দাবি তোলেন আন্দোলনের প্রথম সারির নেতারা। পরে ২০২৫ সালের ১৭ অক্টোবর জাতীয় সংসদ ভবনের দক্ষিণ প্লাজায় জুলাই সনদে স্বাক্ষর হয়। অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূস, জাতীয় ঐকমত্য কমিশনের সহ-সভাপতি আলী রীয়াজসহ কমিশনের সদস্যরা এবং বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল ও বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীসহ ২৪টি রাজনৈতিক দল এতে সই করে।
তবে ঐ সময় সংলাপে অংশ নিলেও এনসিপি সনদে সই করেনি। দলটির দাবি ছিল, জুলাই সনদ বাস্তবায়নের আইনি ভিত্তি স্পষ্ট নয়। ইতিহাসের উপস্থাপন ও সংবিধানের মূলনীতি পরিবর্তন নিয়েও আপত্তি ছিল কয়েকটি বাম ধারার দলের।
পরে গত ১৩ নভেম্বর রাষ্ট্রপতি ‘জুলাই জাতীয় সনদ (সংবিধান সংস্কার) বাস্তবায়ন আদেশ, ২০২৫’ জারি করেন। এর পরিপ্রেক্ষিতেই এখন সনদে স্বাক্ষরের সিদ্ধান্ত নিয়েছে এনসিপি।
