দ্য সিভিলিয়ানস । নিউজ ডেস্ক ।
ঢাকা, ২৬ জানুয়ারি ২০২৬ : জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি) তার নির্বাচনি প্রচারণা অফিশিয়ালভাবে শুরু করেছে শহীদ ওয়াসিমের কবর জিয়ারতের মাধ্যমে। সোমবার (২৬ জানুয়ারি) বাংলামোটরের এনসিপির অস্থায়ী দলীয় কার্যালয়ের সামনে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে এনসিপির মুখপাত্র ও নির্বাচন পরিচালনা কমিটির চেয়ারম্যান আসিফ মাহমুদ সজীব ভূঁইয়া এই তথ্য জানান।
আসিফ মাহমুদ বলেন, “এনসিপির পক্ষ থেকে আগামী দশদিন ব্যাপী নির্বাচনি সফর শুরু হবে। আমাদের প্রার্থীদের আসন এবং যেসব গুরুত্বপূর্ণ শহরে এনসিপির শক্ত অবস্থান রয়েছে, সেগুলোতে পথসভা ও জনসংযোগ কার্যক্রম হাতে নেওয়া হবে। জাতীয় সংসদ নির্বাচনে এনসিপি ৩০টি আসনে নির্বাচন করছে এবং এগারো দলীয় জোটের পক্ষে আমরা মাঠে নেমেছি।”
তিনি জানান, আগামীকাল (২৭ জানুয়ারি) শহীদ ওয়াসিমের কবর জিয়ারতের মধ্য দিয়ে তাদের নির্বাচনি প্রচারণা আনুষ্ঠানিকভাবে শুরু হবে। “আমাদের প্রচারণার মূল লক্ষ্য হচ্ছে সুশাসন, সংস্কার ও সার্বভৌমত্ব। এছাড়া আমরা গণভোটে ‘হ্যাঁ’ জয়যুক্ত করার জন্যও মাঠে সক্রিয়ভাবে কাজ করবো। আমরা কেমন এক বাংলাদেশ চাই, তার ইশতেহারগত দিকগুলোও আমরা জনগণের কাছে উপস্থাপন করবো। আশা করছি আগামী এক সপ্তাহের মধ্যে আমাদের ইশতেহার প্রকাশ করা হবে।”
সার্বিক ভোট পরিবেশ সম্পর্কেও আসিফ মাহমুদ বলেন, “আমরা প্রভাব বিস্তার ও অনিয়মের আশঙ্কা করছি। আদালতের ওপর প্রভাব বিস্তার করার প্রাথমিক চেষ্টার মতো কার্যক্রম ইতোমধ্যে আমরা লক্ষ্য করেছি। অতীতের মতো ক্ষমতাসীনরা আইনজীবীদের মাধ্যমে চাপ সৃষ্টি করতেন, কিন্তু এখন বিভিন্ন আসনের প্রান্তিক এলাকা থেকে মানুষ এনে মব তৈরি করারও চেষ্টা হচ্ছে।”
তিনি দাবি করেন, “দ্বৈত নাগরিকদের প্রার্থী হওয়ার সুযোগ দেওয়া হয়েছে, যা সংবিধান ও নির্বাচনী বিধির সঙ্গে সাংঘর্ষিক। এই বিষয়ে এনসিপি আইনগত পদক্ষেপ নিয়েছে।”
সাংবাদিকতার স্বাধীনতাও প্রশ্নবিদ্ধ উল্লেখ করে আসিফ মাহমুদ বলেন, “জুলাই গণঅভ্যুত্থানের পর আমরা রাষ্ট্রের চতুর্থ স্তম্ভ তথা সংবাদসংস্থাগুলোর স্বাধীন কাজ করার প্রত্যাশা করেছিলাম। কিন্তু কিছু রাজনৈতিক দলের প্যাডে বিভিন্ন পত্রিকা ও টেলিভিশনের সাংবাদিকদের নাম থাকা, ও বিজ্ঞাপনের আড়ালে এক পক্ষের প্রচারণা চলার তথ্য উদ্বেগজনক। এ ক্ষেত্রে লেভেল প্লেয়িং ফিল্ড নিশ্চিতে সকল দলকে সমান সুযোগ দেওয়া উচিত।”
তিনি জানান, যদি মিডিয়াতে বিজ্ঞাপন-আকারে প্রচারণার সুযোগ রাখা হয়, তাহলে শাপলা কলি, দাঁড়িপাল্লাসহ সকল দলের জন্য সমান সুযোগ থাকা দরকার।
এনসিপির মুখপাত্র ও নির্বাচন পরিচালনা কমিটির চেয়ারম্যান আরও বলেন, “এই পদযাত্রার মাধ্যমে শুধু আমাদের দলের প্রার্থীদের পক্ষেই কাজ করা হবে না; জোটের সকল দলের প্রার্থীদের পক্ষেই কাজ করব।”
এসময় এনসিপির নির্বাচন পরিচালনা কমিটির সেক্রেটারি মনিরা শারমিন, মুখ্য সমন্বয়কারী অ্যাডভোকেট তারিকুল ইসলামসহ কেন্দ্রীয় নেতৃবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।
