দ্য সিভিলিয়ানস । নিউজ ডেস্ক ।
বয়স্ক মানুষের স্মৃতিভ্রংশজনিত রোগ প্রতিরোধে চিকিৎসাবিজ্ঞানে নতুন আশার খবর এসেছে। সাম্প্রতিক আন্তর্জাতিক গবেষণায় দেখা গেছে, শিঙ্গলস প্রতিরোধে ব্যবহৃত ভ্যাকসিন ভবিষ্যতে আলঝেইমার্সসহ বিভিন্ন ধরনের ডিমেনশিয়ার ঝুঁকি উল্লেখযোগ্যভাবে কমাতে পারে। গবেষকরা এটিকে প্রতিরোধমূলক চিকিৎসার ক্ষেত্রে সম্ভাবনাময় এক অগ্রগতি হিসেবে দেখছেন।
বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার তথ্য অনুযায়ী, বর্তমানে বিশ্বজুড়ে প্রায় ৫ কোটির বেশি মানুষ ডিমেনশিয়ায় আক্রান্ত এবং আগামী ২০৫০ সালের মধ্যে এই সংখ্যা তিনগুণ বাড়তে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। আলঝেইমার্স রোগ ধীরে ধীরে মস্তিষ্কের কোষ ক্ষতিগ্রস্ত করে স্মৃতি, চিন্তাশক্তি ও দৈনন্দিন কাজের সক্ষমতা কমিয়ে দেয়, যা পরিবার ও স্বাস্থ্যব্যবস্থার ওপর বড় চাপ তৈরি করে।
২০২৫ সালে যুক্তরাজ্যের ওয়েলসে পরিচালিত বৃহৎ আকারের বাস্তবভিত্তিক গবেষণায় কয়েক লাখ মানুষের স্বাস্থ্যতথ্য বিশ্লেষণ করা হয়। এতে দেখা যায়, যারা শিঙ্গলস ভ্যাকসিন নিয়েছেন, তাদের মধ্যে পরবর্তী সাত বছরে আলঝেইমার্স ও অন্যান্য ডিমেনশিয়ায় আক্রান্ত হওয়ার ঝুঁকি প্রায় ২০ শতাংশ কম ছিল। গবেষকদের ধারণা, হার্পিস জোস্টার ভাইরাস নিয়ন্ত্রণের মাধ্যমে ভ্যাকসিন মস্তিষ্কের দীর্ঘমেয়াদি প্রদাহ কমায়, যা নিউরোডিজেনারেটিভ রোগের অন্যতম সম্ভাব্য কারণ।
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এটি গুরুত্বপূর্ণ কারণ শিঙ্গলস ভ্যাকসিন ইতোমধ্যেই নিরাপদ ও অনুমোদিত। ফলে নতুন ও ব্যয়বহুল ওষুধ উদ্ভাবনের অপেক্ষা ছাড়াই জনস্বাস্থ্য ব্যবস্থায় প্রতিরোধমূলক কৌশল যুক্ত করার সুযোগ তৈরি হতে পারে। বিশেষ করে দ্রুত বয়স্ক জনগোষ্ঠী বাড়ছে এমন দেশগুলোতে এর প্রভাব আরও গুরুত্বপূর্ণ হতে পারে।
তবে গবেষকরা সতর্ক করে জানিয়েছেন, এই সম্পর্ক নিশ্চিত করতে আরও বড় পরিসরের ক্লিনিক্যাল ট্রায়াল প্রয়োজন। ভবিষ্যৎ গবেষণায় একই ফল পাওয়া গেলে বিশ্বব্যাপী শিঙ্গলস টিকাদান কর্মসূচি ডিমেনশিয়া প্রতিরোধনীতির অংশ হয়ে উঠতে পারে।
স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞদের মতে, প্রতিরোধমূলক চিকিৎসাই ভবিষ্যৎ চিকিৎসাবিজ্ঞানের মূল শক্তি। একটি সাধারণ ভ্যাকসিন যদি স্মৃতিভ্রংশের মতো জটিল রোগের ঝুঁকি কমাতে সক্ষম হয়, তবে তা মানবস্বাস্থ্যের জন্য বড় পরিবর্তনের সূচনা হতে পারে।
