লোড হচ্ছে...
লোড হচ্ছে...

মধ্যপ্রাচ্যের উত্তেজনায় বিশ্ববাজারে তেলের দাম ঊর্ধ্বমুখী

প্রকাশিত: 09 জুন 2026

5 Views

The Civilians News

দ্য সিভিলিয়ানস । নিউজ ডেস্ক ।

মধ্যপ্রাচ্যে নতুন করে সামরিক উত্তেজনার আশঙ্কায় আন্তর্জাতিক বাজারে অপরিশোধিত জ্বালানি তেলের দাম আবারও বৃদ্ধি পেয়েছে। ইরান ও ইসরাইলের মধ্যে সাম্প্রতিক সংঘাত আপাতত প্রশমিত হওয়ার ইঙ্গিত মিললেও পরিস্থিতি পুরোপুরি স্বাভাবিক না হওয়ায় জ্বালানি বাজারে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে।

মঙ্গলবার আন্তর্জাতিক বাজারে ব্রেন্ট ক্রুড তেলের দাম ব্যারেলপ্রতি ১৩ সেন্ট বা ০.১৪ শতাংশ বেড়ে ৯৪ দশমিক ৩৮ ডলারে পৌঁছায়। একই সময়ে যুক্তরাষ্ট্রের ওয়েস্ট টেক্সাস ইন্টারমিডিয়েট (ডব্লিউটিআই) তেলের দাম ১১ সেন্ট বা ০.১২ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়ে ব্যারেলপ্রতি ৯১ দশমিক ৪১ ডলারে দাঁড়ায়।

বিশ্লেষকদের মতে, বিনিয়োগকারীরা মধ্যপ্রাচ্যের নিরাপত্তা পরিস্থিতি নিয়ে সতর্ক অবস্থানে রয়েছেন। বিশেষ করে ইরান ও ইসরাইলের মধ্যে পাল্টাপাল্টি হামলার সাম্প্রতিক ঘটনাগুলো বৈশ্বিক জ্বালানি সরবরাহে সম্ভাব্য ঝুঁকির ইঙ্গিত দিচ্ছে। ফলে বাজারে অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে এবং তেলের দামে ঊর্ধ্বমুখী চাপ দেখা যাচ্ছে।

সোমবার ইসরাইলের প্রধানমন্ত্রী বেঞ্জামিন নেতানিয়াহু পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রয়েছে বলে মন্তব্য করলেও তেহরান স্পষ্ট করে জানিয়েছে, ভবিষ্যতে ইসরাইল যদি নতুন হামলা চালায় তাহলে তার জবাব দেওয়া হবে। ইরানের সামরিক কর্তৃপক্ষও একই ধরনের সতর্কবার্তা দিয়েছে।

দুই মাসের বিরতির পর রোববার রাত থেকে ইরান ও ইসরাইলের মধ্যে নতুন করে পাল্টাপাল্টি হামলার ঘটনা মধ্যপ্রাচ্যে অস্থিরতা বাড়িয়েছে। সোমবার সকাল পর্যন্ত বিভিন্ন স্থানে হামলা ও পাল্টা হামলার খবর পাওয়া যায়। যদিও পরে উভয় পক্ষ সংঘাত সীমিত করার ইঙ্গিত দেয়।

এদিকে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে উভয় দেশকে সংযম প্রদর্শনের আহ্বান জানান। তিনি দাবি করেন, ইরান ও ইসরাইল তাৎক্ষণিক যুদ্ধবিরতির একটি কাঠামো নিয়ে আলোচনা করছে এবং কূটনৈতিক প্রচেষ্টা অব্যাহত রয়েছে।

জ্বালানি বাজার বিশেষজ্ঞরা বলছেন, মধ্যপ্রাচ্য বিশ্বের অন্যতম প্রধান তেল উৎপাদনকারী অঞ্চল। ফলে এ অঞ্চলে যেকোনো সামরিক সংঘাত বা রাজনৈতিক অস্থিরতা বৈশ্বিক জ্বালানি সরবরাহ ও মূল্যকে সরাসরি প্রভাবিত করে। বিশেষ করে হরমুজ প্রণালী ঘিরে কোনো ধরনের নিরাপত্তা ঝুঁকি দেখা দিলে আন্তর্জাতিক বাজারে তেলের দাম আরও দ্রুত বাড়তে পারে।

অর্থনীতিবিদদের মতে, তেলের মূল্যবৃদ্ধি দীর্ঘস্থায়ী হলে এর প্রভাব বৈশ্বিক মুদ্রাস্ফীতি, পরিবহন ব্যয় এবং খাদ্যপণ্যের দামের ওপরও পড়তে পারে। উন্নয়নশীল দেশগুলো এ ধরনের পরিস্থিতিতে সবচেয়ে বেশি চাপের মুখে পড়ে।

বর্তমানে বিনিয়োগকারী ও আন্তর্জাতিক বাজার পর্যবেক্ষকরা মধ্যপ্রাচ্যের পরিস্থিতি নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করছেন। কূটনৈতিক উদ্যোগ সফল হলে বাজারে স্থিতিশীলতা ফিরতে পারে। তবে সংঘাত পুনরায় তীব্র হলে জ্বালানি বাজারে আরও বড় অস্থিরতার আশঙ্কা উড়িয়ে দেওয়া যাচ্ছে না।

 

সূত্র: আল জাজিরা

আরও পড়ুন

Editor & Publisher : Khondaker Azizur Rahman