লোড হচ্ছে...
লোড হচ্ছে...

কাবুলের মাদকাসক্তি চিকিৎসা কেন্দ্রে পাকিস্তানি বিমান হামলা: অন্তত ৪০০ নিহত

প্রকাশিত: 18 মার্চ 2026

26 Views

The Civilians News

দ্য সিভিলিয়ানস । নিউজ ডেস্ক ।

আফগানিস্তানের রাজধানী কাবুলের ওমিদ অ্যাডিকশন ট্রিটমেন্ট হাসপাতালে (যা একটি ২,০০০ শয্যাবিশিষ্ট মাদকাসক্তি চিকিৎসা কেন্দ্র) পাকিস্তানি বিমান হামলায় অন্তত ৪০০ জন নিহত এবং ২৫০-এর বেশি আহত হয়েছে বলে আফগান তালেবান সরকার দাবি করেছে। এই হামলা সোমবার রাত ৯টার দিকে (স্থানীয় সময়) ঘটে, যখন রমজানের ইফতারের পর রোগীরা নামাজ পড়ছিলেন। হাসপাতালের বড় অংশ ধ্বংস হয়ে গেছে, আগুন লেগে রোগীরা পুড়ে মারা গেছেন বলে প্রত্যক্ষদর্শীরা জানিয়েছেন।

আফগান সরকারের উপ-মুখপাত্র হামদুল্লাহ ফিতরাত এক্স-এ পোস্ট করে বলেছেন, “পাকিস্তানি সামরিক বাহিনী এই হামলা চালিয়ে হাসপাতালের বড় অংশ ধ্বংস করেছে। এখন পর্যন্ত মৃতের সংখ্যা ৪০০ এবং আহত ২৫০-এর বেশি।” তালেবানের আরেক মুখপাত্র জাবিহুল্লাহ মুজাহিদ এটিকে “মানবতার বিরুদ্ধে অপরাধ” বলে নিন্দা করেছেন। আফগান রেড ক্রিসেন্টের ভিডিওতে দেখা গেছে, উদ্ধারকর্মীরা ধ্বংসস্তূপ থেকে লাশ ও আহতদের উদ্ধার করছেন। প্রত্যক্ষদর্শী আহমাদ রয়টার্সকে বলেন, “পুরো জায়গা আগুনে জ্বলছিল, আমার বন্ধুরা আগুনে পুড়ে মারা গেছে, আমরা সবাইকে বাঁচাতে পারিনি।”

পাকিস্তান সরকার এই দাবি অস্বীকার করে বলেছে, তারা “সন্ত্রাসীদের সামরিক স্থাপনা ও অস্ত্রভাণ্ডার” লক্ষ্য করে “নির্ভুল” হামলা চালিয়েছে। পাকিস্তানের তথ্যমন্ত্রী আতাউল্লাহ তারার বলেন, “আফগান দাবি মিথ্যা এবং জনমতকে বিভ্রান্ত করার চেষ্টা।” পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রীর মুখপাত্র মোশাররফ জায়দি বলেছেন, “তালেবানের অবিরাম মিথ্যা” এবং “সন্ত্রাসীদের নির্মূল না হওয়া পর্যন্ত হামলা চলবে।”

জাতিসংঘের আফগানিস্তান বিষয়ক বিশেষ রিপোর্টার রিচার্ড বেনেট এই হামলায় “বেসামরিক হতাহতের খবরে হতবাক” হয়েছেন এবং বলেছেন, “পক্ষগুলোকে অবশ্যই ডি-এসকেলেট করতে হবে, সর্বোচ্চ সংযম দেখাতে হবে এবং আন্তর্জাতিক আইন মেনে চলতে হবে, হাসপাতালের মতো বেসামরিক স্থাপনা রক্ষা করতে হবে।” জাতিসংঘের মানবাধিকার বিভাগের মুখপাত্র থামিন আল-খিতান স্বাধীন তদন্তের দাবি করে বলেছেন, “দোষীদের আন্তর্জাতিক মান অনুসারে জবাবদিহি করতে হবে এবং ক্ষতিগ্রস্তদের ক্ষতিপূরণ দিতে হবে।”

এই হামলা আফগানিস্তান-পাকিস্তান সীমান্ত সংঘাতের সাম্প্রতিকতম এবং সবচেয়ে ভয়াবহ ঘটনা। গত বছর থেকে দুই দেশের সম্পর্ক অবনতি হয়েছে। পাকিস্তান দাবি করে, আফগানিস্তান থেকে সীমান্তবর্তী অঞ্চলে তেহরিক-ই-তালেবান পাকিস্তান (টিটিপি) ও অন্যান্য সন্ত্রাসী গোষ্ঠীকে সমর্থন দেওয়া হচ্ছে। তালেবান এই অভিযোগ অস্বীকার করে। ফেব্রুয়ারির শেষ থেকে পাকিস্তান একাধিক বিমান হামলা চালিয়েছে, যাতে আফগান সূত্রে অন্তত ৭৫ জন বেসামরিক নিহত হয়েছে। পাকিস্তান বলছে, তারা ৬৮০-এর বেশি তালেবান যোদ্ধা ও সন্ত্রাসী নিহত করেছে।
চীন, যা পাকিস্তানের নিরাপত্তা ও অর্থনৈতিক অংশীদার এবং তালেবানের সঙ্গে ঘনিষ্ঠ হয়েছে, গত সপ্তাহে দুই দেশের সঙ্গে যোগাযোগ করে যুদ্ধবিরতির চেষ্টা করেছে। কিন্তু কাতার, সৌদি আরব ও তুরস্কে একাধিক আলোচনা ব্যর্থ হয়েছে। পাকিস্তান তালেবানকে সন্ত্রাসীদের নিয়ন্ত্রণ না করা পর্যন্ত সরাসরি আলোচনা প্রত্যাখ্যান করেছে।

এই হামলা আঞ্চলিক অস্থিরতা বাড়িয়ে দিয়েছে। কাবুলে পরিবারের সদস্যরা প্রিয়জনদের খুঁজছেন, অনেকে লাশ চেনার জন্য হাসপাতালের বাইরে লাইন দিয়েছেন। একজন ব্যক্তি খান ওয়াজির বলেন, “আমার ভাইকে খুঁজছি, কিন্তু তার অবস্থান জানি না।” এই ঘটনা আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের কাছে যুদ্ধবিরতি ও তদন্তের দাবি জোরালো করেছে।

সূত্র : বিবিসি, আল জাজিরা, ফাইনান্সিয়াল টাইমস

আরও পড়ুন

Editor & Publisher : Khondaker Azizur Rahman