ক্ষমাহীন জলবায়ুর থাবায় বাংলাদেশের উপকূলীয় মানুষ
খন্দকার আজিজুর রহমান (এ আর সুমন)
বৈশ্বিক জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাবে আক্রান্ত দেশগুলোর তালিকায় বাংলাদেশের নাম শীর্ষে। এই কথা বলার অপেক্ষা রাখে না। আর সেই প্রভাবের সবচেয়ে নির্মম ছবি ধরা পড়ে উপকূলীয় জেলা ভোলায়।
এখানকার মানুষের জীবনযাত্রা এখনও মূলত কৃষি আর নদী থেকে মাছ আহরণের ওপর নির্ভরশীল। কিন্তু পানির লবণাক্ততা দিন দিন বেড়ে চলেছে। মিঠা পানির মাছ কমে গেছে প্রায় শেষ সীমায়। জমিতে ফসল ফলানো কঠিন হয়ে পড়েছে। যেখানে একসময় সবুজ ধানখেতের সারি চোখে পড়ত, সেখানে এখন লবণাক্ত মাটির শুষ্ক চেহারা।
ঝড়, জলোচ্ছাস আর নদীভাঙন তীব্র হয়েছে। একের পর এক বাস্তুভিটা নদীগর্ভে বিলীন হয়ে যাচ্ছে। মানুষ চিরতরে ঘরবাড়ি হারিয়ে অন্যত্র চলে যেতে বাধ্য হচ্ছে। অনেকে আবার প্রায় দুই পুরুষ ধরে নৌকাতেই জীবন কাটাচ্ছে। তারা বেদে নয়। তারা সাধারণ কৃষক ও জেলে পরিবার, যাদের মাটির ঠিকানা কেড়ে নিয়েছে জলবায়ু পরিবর্তন। চারণভূমি কমে গেছে, পশুপাল টিকিয়ে রাখাই দুষ্কর হয়ে দাঁড়িয়েছে।
ভোলার এই মানুষগুলো প্রতিদিন লড়ছে। ঝড়, জলোচ্ছাস, নদীভাঙ্গন ও লবণাক্ত পানিতে ভেসে যাওয়া স্বপ্ন নিয়ে, ভাঙা ঘরের স্মৃতি নিয়ে, আর অনিশ্চিত ভবিষ্যতের ভয় নিয়ে। তাদের কান্না শুধু এক জেলার নয়, পুরো বাংলাদেশের উপকূলীয় অঞ্চলের কান্না। বৈশ্বিক উষ্ণায়নের শাস্তি ভোগ করছে বাংলাদেশ অথচ এই দায় বাংলাদেশের নয়, এখন সময় এসেছে যাদের দায় তাদের কাছে এই বাস্তবতার সংবাদ পৌঁছে দেওয়ার।
#জলবায়ুপরিবর্তন #ভোলা #নদীভাঙন #লবণাক্ততা #উপকূলীয়জীবন #বাংলাদেশ #বাস্তুচ্যুতি #জলবায়ুসঙ্কট