দ্য সিভিলিয়ানস । বিজ্ঞান ডেস্ক । সালাহ উদ্দিন টিটো |
শীতের শুরুতে হঠাৎ যেন আকাশে রং ছড়িয়ে দেয় প্রজাপতিরা। ফুলের বাগানে, পার্কে, এমনকি শহরের ফুটপাতের ফাটলে ফুটে ওঠা ছোট্ট হলুদ ফুলের ওপরেও দেখা মেলে এই রঙিন অতিথিদের। কিন্তু এই সৌন্দর্যের পেছনে লুকিয়ে আছে প্রকৃতির এক গভীর বার্তা।
পৃথিবীতে প্রায় ১৮,০০০ প্রজাতির প্রজাপতি রয়েছে, যারা লেপিডোপ্টেরা বর্গের অন্তর্গত দিবাচর কীট। প্রায় ১০ কোটি বছর আগে উত্তর আমেরিকার আকাশে প্রথম প্রজাপতির ডানা মেলার প্রমাণ পাওয়া গেছে। আশ্চর্যের বিষয়, এরা পায়ের সাহায্যে ভেজা মাটি থেকে পানি ও খনিজ শোষণ করতে পারে, যাকে বলা হয় ‘পডলিং’।
প্রজাপতি শুধু সৌন্দর্যের প্রতীক নয়, প্রকৃতির ‘লিভিং ইন্ডিকেটর’। এদের উপস্থিতি, সংখ্যা ও আচরণ থেকে বিজ্ঞানীরা বোঝেন বাস্তুতন্ত্র কতটা সুস্থ। যেখানে প্রজাপতির বৈচিত্র্য বেশি, সেখানকার ইকোসিস্টেম সাধারণত স্বাস্থ্যকর। কোনো এলাকায় প্রজাপতি কমে গেলে বা নির্দিষ্ট প্রজাতি হারিয়ে গেলে, তা জলবায়ু পরিবর্তন, কীটনাশকের অতিরিক্ত ব্যবহার বা আবাসস্থল ধ্বংসের সংকেত।
প্রজাপতি জলবায়ু পরিবর্তনের প্রতি অত্যন্ত সংবেদনশীল। তাপমাত্রা সামান্য বাড়লে বা কমলেও এদের জীবনচক্র (ডিম → লার্ভা → পিউপা → প্রাপ্তবয়স্ক) বিপর্যয়ের মুখে পড়ে। গবেষণায় দেখা গেছে, গত ৩০ বছরে ইউরোপ ও উত্তর আমেরিকায় প্রজাপতির ৪০-৭০% প্রজাতির সংখ্যা কমেছে। বাংলাদেশেও গ্রামীণ এলাকায় একসময় যে ‘কমন রোজ’ বা ‘লেবু প্রজাপতি’ দেখা যেত প্রচুর, এখন সেগুলো বিরল হয়ে গেছে।
এরা পরাগায়নেও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। মৌমাছির মতো না হলেও অনেক ফুলের বংশবিস্তারে প্রজাপতি সাহায্য করে। বিশেষ করে লাল, হলুদ ও বেগুনি রঙের ফুল এদের প্রিয়।
বিজ্ঞানীরা এখন প্রজাপতিকে ‘ক্যানারি ইন দ্য কোল মাইন’ হিসেবে ব্যবহার করছেন। যেমন খনিতে ক্যানারি পাখি মারা গেলে খনি শ্রমিকেরা বুঝতেন খনিতে বিষাক্ত গ্যাস জমেছে, তেমনি প্রজাপতির সংখ্যা কমে গেলে আমরা বুঝতে পারি, প্রকৃতিতে নেতিবাচক পরিবর্তন আসন্ন।
তাই আগামীবার যখন কোনো রঙিন প্রজাপতি আপনার সামনে দিয়ে উড়ে যাবে, একটু থেমে ভাবুন, এই ছোট্ট প্রাণীটি শুধু সৌন্দর্য নয়, আমাদের পরিবেশের স্বাস্থ্যের এক জীবন্ত সাক্ষী।
