দ্য সিভিলিয়ানস । নিউজ ডেস্ক ।
মধ্যপ্রাচ্যে চলমান যুদ্ধ পরিস্থিতির প্রভাবে দেশে জ্বালানি তেলের সরবরাহ নিয়ে উদ্বেগ বাড়ায় রাজধানীসহ বিভিন্ন অঞ্চলে পেট্রল পাম্পগুলোতে দীর্ঘ লাইনের দৃশ্য দেখা যাচ্ছে। সকাল থেকে গভীর রাত পর্যন্ত মোটরসাইকেল, প্রাইভেটকার ও তেলবাহী যানবাহনের ভিড় বাড়তে থাকায় অনেক এলাকায় অস্বাভাবিক চাপ তৈরি হয়েছে বলে সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন।
বিশেষ করে যুদ্ধ ঘিরে আন্তর্জাতিক বাজারে তেলের দামের অস্থিরতা এবং সরবরাহ ব্যবস্থায় অনিশ্চয়তার খবর ছড়িয়ে পড়ার পর সাধারণ ভোক্তা ও পরিবহন খাতের চালকদের মধ্যে আগাম জ্বালানি সংগ্রহের প্রবণতা বাড়ে। আন্তর্জাতিক বিশ্লেষণে বলা হয়েছে, মধ্যপ্রাচ্যের সংঘাতের কারণে বৈশ্বিক তেল সরবরাহের গুরুত্বপূর্ণ রুট হরমুজ প্রণালী ঝুঁকিতে পড়ায় এশিয়ার জ্বালানি বাজারে চাপ তৈরি হয়েছে।

এই বাড়তি চাহিদা সামাল দিতে দেশের তেল ডিপোগুলোতেও চাপ বেড়েছে। নারায়ণগঞ্জের ফতুল্লায় যমুনা ও মেঘনা তেলের ডিপো এলাকায় দেখা যায়, ডিলারদের অসংখ্য তেলের ট্রাক সারিবদ্ধভাবে দাঁড়িয়ে লোডিংয়ের অপেক্ষা করছে। সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, স্বাভাবিক সময়ের তুলনায় সরবরাহ কার্যক্রম দ্রুত সম্পন্ন করতে কর্মীদের অতিরিক্ত চাপের মধ্যে কাজ করতে হচ্ছে।
এদিকে আন্তর্জাতিক বাজারে জ্বালানি তেলের দাম পুনরায় ঊর্ধ্বমুখী হওয়ায় আমদানিনির্ভর দেশগুলোর জন্য ব্যয় বাড়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। বিশ্লেষকদের মতে, দীর্ঘমেয়াদে সংঘাত অব্যাহত থাকলে উন্নয়নশীল দেশগুলোর জ্বালানি ব্যয় ও মূল্যস্ফীতির ওপর সরাসরি প্রভাব পড়তে পারে।
পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে সরকার বিকল্প উৎস থেকে জ্বালানি সংগ্রহ এবং সরবরাহ স্থিতিশীল রাখার উদ্যোগ নিয়ে কাজ করছে বলে জানা গেছে। তবে বাজারে আতঙ্কজনিত চাহিদা বৃদ্ধি অব্যাহত থাকলে সাময়িক চাপ আরও বাড়তে পারে বলে সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন।
