দ্য সিভিলিয়ানস । নিউজ ডেস্ক ।
ময়মনসিংহ নগরীর আকুয়া বাইপাস সড়কের গন্দ্রপা এলাকায় যাত্রীবাহী বাস ও সিএনজিচালিত অটোরিকশার ভয়াবহ সংঘর্ষে সাতজন নিহত হয়েছেন। শুক্রবার দুপুর দেড়টার দিকে এ দুর্ঘটনা ঘটে। নিহতদের মধ্যে নারী ও একটি শিশুও রয়েছে।
ময়মনসিংহের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মো. আব্দুল্লাহ আল মামুন দুর্ঘটনায় সাতজনের মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। কোতোয়ালি মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তাও একই তথ্য জানিয়েছেন। পুলিশ বলছে, দুর্ঘটনায় অটোরিকশাটি সম্পূর্ণ দুমড়েমুচড়ে যায় এবং ঘটনাস্থলেই এর সাত আরোহীর মৃত্যু হয়।
স্থানীয় বাসিন্দা ও পুলিশের প্রাথমিক তথ্য অনুযায়ী, জামালপুর থেকে ঢাকাগামী রাজীব পরিবহনের একটি বাস আকুয়া বাইপাস সড়ক দিয়ে যাচ্ছিল। একই সময়ে একটি সিএনজিচালিত অটোরিকশা মুক্তাগাছার দিকে যাচ্ছিল। গন্দ্রপা এলাকায় দুই যানবাহনের মুখোমুখি সংঘর্ষ হলে বাসটি অটোরিকশাটিকে চাপা দেয়। এতে ছোট যানটি কার্যত চূর্ণ হয়ে যায়।
দুর্ঘটনার পর স্থানীয় মানুষ ঘটনাস্থলে ছুটে আসেন। পরে পুলিশ ও উদ্ধারকারী দল সেখানে গিয়ে উদ্ধারকাজ শুরু করে। দুর্ঘটনার কারণে ওই সড়কে কিছু সময় যান চলাচলও ব্যাহত হয়। নিহতদের পরিচয় তাৎক্ষণিকভাবে জানা যায়নি। পরিচয় শনাক্তের চেষ্টা চলছে বলে পুলিশ জানিয়েছে।
প্রত্যক্ষদর্শীদের ভাষ্য অনুযায়ী, বাসটি দ্রুতগতিতে চলছিল। তবে দুর্ঘটনার প্রকৃত কারণ তাৎক্ষণিকভাবে নিশ্চিত করা যায়নি। বাসের গতি, চালকের নিয়ন্ত্রণ হারানো কিংবা সড়কের অন্য কোনো পরিস্থিতি দুর্ঘটনার পেছনে ভূমিকা রেখেছিল কি না তা তদন্তের পর স্পষ্ট হবে।
ময়মনসিংহের আকুয়া বাইপাস এলাকায় এর আগেও সড়ক দুর্ঘটনায় হতাহতের ঘটনা ঘটেছে। গত সেপ্টেম্বরে একই এলাকায় একটি ট্রাকের সঙ্গে সিএনজিচালিত অটোরিকশার সংঘর্ষে দুজন নিহত ও কয়েকজন আহত হয়েছিলেন। পুলিশ সে ঘটনায় যানবাহন জব্দ করে আইনগত প্রক্রিয়া শুরু করেছিল।
সড়ক নিরাপত্তা নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে উদ্বেগের মধ্যে নতুন এই দুর্ঘটনা আবারও ব্যস্ত সড়কে দ্রুতগতি ও যানবাহন নিয়ন্ত্রণের বিষয়টি সামনে এনেছে। বিশেষ করে ছোট যানবাহনের যাত্রীদের নিরাপত্তা নিয়ে প্রশ্ন আরও জোরালো হয়েছে।
তবে শুক্রবারের দুর্ঘটনায় কার গাফিলতি ছিল কিংবা বাসটির চালক কীভাবে অটোরিকশাটিকে চাপা দিলেন, তা তদন্ত ছাড়া নিশ্চিতভাবে বলা যাচ্ছে না। পুলিশ জানিয়েছে, ঘটনাটি তদন্ত করে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
একটি অটোরিকশায় থাকা সাতজন মানুষের একসঙ্গে প্রাণ হারানোর ঘটনায় এলাকায় শোকের ছায়া নেমে এসেছে। নিহতদের পরিচয় শনাক্ত হওয়ার পর তাদের স্বজনদের কাছে মরদেহ হস্তান্তরের প্রক্রিয়া শুরু হবে।
