লোড হচ্ছে...
লোড হচ্ছে...

এ ধরনের উদ্যোগ অর্থনৈতিক দুর্বৃত্তায়নকে নতুন করে উৎসাহিত করবে, বাজেট নিয়ে সাইফুল হকের মন্তব্য

প্রকাশিত: 11 জুন 2026

12 Views

The Civilians News

দ্য সিভিলিয়ানস । নিউজ ডেস্ক ।

২০২৬ থেকে ২০২৭ অর্থবছরের প্রস্তাবিত জাতীয় বাজেটে কালো টাকা বৈধ করার সুযোগ অব্যাহত রাখার প্রস্তাবকে কেন্দ্র করে রাজনৈতিক অঙ্গনে নতুন বিতর্ক শুরু হয়েছে। বাংলাদেশের বিপ্লবী ওয়ার্কার্স পার্টির সাধারণ সম্পাদক সাইফুল হক মন্তব্য করেছেন, এ ধরনের উদ্যোগ অর্থনৈতিক দুর্বৃত্তায়নকে নতুন করে উৎসাহিত করবে এবং কর ব্যবস্থার ন্যায়সংগত কাঠামোকে প্রশ্নের মুখে ফেলবে।

বৃহস্পতিবার প্রস্তাবিত বাজেট নিয়ে গণমাধ্যমে পাঠানো এক বিবৃতিতে তিনি বলেন, সীমিত সম্পদের মধ্যে সরকার জনপ্রত্যাশা পূরণের চেষ্টা করেছে। তবে বিশাল ঘাটতি বাজেটের চাপ শেষ পর্যন্ত সাধারণ জনগণের ওপরই বর্তাতে পারে। তার মতে, বাজেটে বিভিন্ন সামাজিক ও অর্থনৈতিক গোষ্ঠীকে সন্তুষ্ট করার প্রচেষ্টা থাকলেও বাস্তবায়নের ক্ষেত্রে বড় ধরনের চ্যালেঞ্জ রয়ে গেছে।

সাইফুল হক বলেন, ৬ লাখ ৯৫ হাজার কোটি টাকার রাজস্ব আহরণের লক্ষ্যমাত্রা অর্জনের ওপর পুরো বাজেটের সাফল্য অনেকাংশে নির্ভর করবে। তিনি মনে করেন, করদাতার সংখ্যা বৃদ্ধি, প্রশাসনিক দক্ষতা উন্নয়ন এবং রাজনৈতিক সদিচ্ছা থাকলে এই লক্ষ্য অর্জন সম্ভব। তবে রাজস্ব ঘাটতি দেখা দিলে সরকারের ব্যাংকঋণের ওপর নির্ভরতা বাড়তে পারে, যা সামগ্রিক অর্থনীতিতে অতিরিক্ত চাপ সৃষ্টি করবে।

বিবৃতিতে তিনি প্রস্তাবিত বাজেটে নির্ধারিত ৬ দশমিক ৫ শতাংশ প্রবৃদ্ধির লক্ষ্যকে বর্তমান অর্থনৈতিক বাস্তবতায় অস্বাভাবিক নয় বলে উল্লেখ করেন। একই সঙ্গে মূল্যস্ফীতি ৭ দশমিক ৫ শতাংশে নামিয়ে আনার লক্ষ্যমাত্রাকে বাস্তবসম্মত বলে অভিহিত করেন। তবে তিনি সতর্ক করে বলেন, মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণে ব্যর্থ হলে প্রবৃদ্ধির সুফল সাধারণ মানুষের জীবনে তেমন প্রভাব ফেলবে না।

তিনি আরও বলেন, বিনিয়োগ বৃদ্ধি এবং নতুন কর্মসংস্থান সৃষ্টি বর্তমান সময়ের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ অর্থনৈতিক চ্যালেঞ্জ। এজন্য উৎপাদনমুখী শিল্পে বিনিয়োগ বাড়ানো, বন্ধ শিল্পকারখানা পুনরায় চালু করা এবং শ্রমঘন শিল্পের বিকাশে বিশেষ প্রণোদনা প্রয়োজন।

সামাজিক সুরক্ষা কর্মসূচি প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ফ্যামিলি কার্ড, ভাতা এবং অন্যান্য সহায়তা কর্মসূচি স্বল্প আয়ের মানুষের জন্য তাৎপর্যপূর্ণ হলেও এগুলো দীর্ঘমেয়াদে দারিদ্র্য দূর করতে পারবে না। স্থায়ী সমাধানের জন্য উৎপাদনশীল আত্মকর্মসংস্থান এবং আয়ের সুযোগ সম্প্রসারণকে অগ্রাধিকার দিতে হবে।

বাজেটে খাদ্যপণ্য ও নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের বাজার নিয়ন্ত্রণে কার্যকর উদ্যোগের ঘাটতি রয়েছে বলেও মন্তব্য করেন তিনি। তার মতে, সাধারণ মানুষের ক্রয়ক্ষমতা রক্ষায় বাজার ব্যবস্থাপনায় আরও শক্তিশালী নীতি প্রয়োজন।

এদিকে অর্থনীতিবিদদের একটি অংশও দীর্ঘদিন ধরে কালো টাকা বৈধ করার সুযোগ নিয়ে প্রশ্ন তুলে আসছেন। তাদের মতে, নিয়মিত করদাতাদের তুলনায় অবৈধভাবে অর্জিত সম্পদের মালিকদের জন্য বিশেষ সুবিধা কর সংস্কৃতির ওপর নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে। তবে সরকার অতীতে বিনিয়োগ বৃদ্ধি এবং অর্থনীতিতে অপ্রদর্শিত অর্থকে আনুষ্ঠানিক খাতে আনতে এই ধরনের নীতির পক্ষে যুক্তি দিয়েছে।

 

আরও পড়ুন

Editor & Publisher : Khondaker Azizur Rahman