লোড হচ্ছে...
লোড হচ্ছে...

তাহিরপুরে তিন শিশুর মৃত্যু, বাবার বিরুদ্ধে বিষ খাওয়ানোর অভিযোগ

প্রকাশিত: 19 সেপ্টেম্বর 2026

25 Views

The Civilians News

দ্য সিভিলিয়ানস । নিউজ ডেস্ক ।

সুনামগঞ্জের তাহিরপুরে তিন শিশুর মৃত্যুর ঘটনায় তাদের বাবা শরাফত আলীর বিরুদ্ধে সন্তানদের বিষ খাওয়ানোর অভিযোগ উঠেছে। পরে শরাফত নিজেও বিষপান করেন বলে পুলিশ ও স্থানীয়দের কাছ থেকে জানা গেছে। গুরুতর অসুস্থ অবস্থায় তাকে সিলেট এমএজি ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে।

নিহত তিন শিশু হলো মাওয়া আক্তার, বয়স ১০ বছর, তামিম মিয়া, বয়স ৭ বছর এবং শামীম মিয়া, বয়স ২ বছর। তারা তাহিরপুর উপজেলার উত্তর বড়দল ইউনিয়নের রজনী লাইন গ্রামের বাসিন্দা। শুক্রবার দিবাগত রাতের শেষভাগে তাদের বিষপানের ঘটনা ঘটে বলে প্রাথমিকভাবে জানা গেছে।

স্থানীয় বাসিন্দা ও পুলিশের তথ্য অনুযায়ী, ঘটনার সময় শরাফত তার তিন সন্তানকে নিয়ে বাড়িতে ছিলেন। তার স্ত্রী কয়েক দিন আগে কাজের উদ্দেশ্যে সৌদি আরব গেছেন বলে স্থানীয়রা জানিয়েছেন। রাতের দিকে বাড়ি থেকে অসুস্থ অবস্থায় গোঙানির শব্দ শুনে প্রতিবেশী ও স্বজনরা সেখানে যান। পরে চারজনকেই উদ্ধার করে বাদাঘাট বাজারের একটি চিকিৎসাকেন্দ্রে নেওয়া হয়।

চিকিৎসকদের বরাত দিয়ে পুলিশ জানায়, তিন শিশুকে হাসপাতালে নেওয়ার আগেই তাদের মৃত্যু হয়। শরাফতকে প্রাথমিক চিকিৎসা দেওয়ার পর উন্নত চিকিৎসার জন্য সুনামগঞ্জ সদর হাসপাতাল এবং পরে সিলেট এমএজি ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়।

তাহিরপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের জরুরি বিভাগে দায়িত্ব পালনকারী চিকিৎসক ফৌজিয়া জামান জানান, ঘটনাটি রাত ১টা থেকে দেড়টার মধ্যে ঘটে থাকতে পারে। সকাল ৭টা ২০ মিনিটের দিকে তিন শিশু ও তাদের বাবাকে হাসপাতালে আনা হয়। তখন শিশু তিনজনই মারা গিয়েছিল। গুরুতর অসুস্থ শরাফতকে উন্নত চিকিৎসার জন্য সিলেটে পাঠানো হয়।

স্থানীয়দের কয়েকজনের ভাষ্য, ঘটনার আগে শরাফত সন্তানদের নিয়ে বড়ছড়া বাজার এলাকায় গিয়েছিলেন। ফেরার সময় তিনি বিরিয়ানি কিনেছিলেন। সেই খাবারের সঙ্গে বিষ মিশিয়ে সন্তানদের খাওয়ানোর পর নিজেও বিষপান করে থাকতে পারেন বলে স্থানীয়দের ধারণা। তবে এ তথ্য এখনো তদন্তে নিশ্চিত হয়নি।

শরাফতের মাদক ও জুয়ায় আসক্ত থাকার অভিযোগও স্থানীয়দের কাছ থেকে পাওয়া গেছে। পুলিশও জানিয়েছে, তার মাদক গ্রহণ ও জুয়ার সঙ্গে সম্পৃক্ততার তথ্য তারা পেয়েছে। তবে এই বিষয়গুলোর সঙ্গে শিশুদের মৃত্যুর সরাসরি সম্পর্ক রয়েছে কি না তা তদন্ত করে দেখা হচ্ছে।

ঘটনার কারণ নিয়েও এখনো নিশ্চিত কোনো সিদ্ধান্তে পৌঁছায়নি পুলিশ। পুলিশের একাধিক বক্তব্যে পারিবারিক বিরোধের সম্ভাবনার কথাও উঠে এসেছে। স্থানীয়দের কেউ কেউ স্ত্রীর সঙ্গে ফোনে বিরোধ অথবা তার অনুপস্থিতিকে কেন্দ্র করে শরাফত মানসিকভাবে বিপর্যস্ত হয়ে এমন ঘটনা ঘটিয়ে থাকতে পারেন বলে ধারণা করছেন। এসবই প্রাথমিক তথ্য ও স্থানীয়দের বক্তব্য; তদন্ত শেষ না হওয়া পর্যন্ত কোনো কারণকে চূড়ান্ত হিসেবে বিবেচনা করা হচ্ছে না।

তাহিরপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা ফারুক আহমদ জানিয়েছেন, শিশুদের মরদেহের সুরতহাল প্রতিবেদন প্রস্তুত করে ময়নাতদন্তের জন্য সুনামগঞ্জ সদর হাসপাতালের মর্গে পাঠানোর ব্যবস্থা করা হয়েছে। ঘটনার প্রকৃত কারণ এবং কীভাবে বিষপানের ঘটনা ঘটেছে তা তদন্ত করে দেখা হচ্ছে। এ ঘটনায় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার প্রক্রিয়াও চলছে।

তিন শিশুর আকস্মিক মৃত্যুতে রজনী লাইন গ্রাম ও আশপাশের এলাকায় শোকের ছায়া নেমে এসেছে। ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন এবং তদন্তের পর শিশুদের মৃত্যুর প্রকৃত কারণ সম্পর্কে আরও স্পষ্ট তথ্য পাওয়া যাবে বলে জানিয়েছে সংশ্লিষ্টরা।

 

আরও পড়ুন

Editor & Publisher : Khondaker Azizur Rahman

taraftarium24casibomselcuksportstaraftarium24selcuksportscasibom