দ্য সিভিলিয়ানস । নিউজ ডেস্ক ।
বাংলাদেশ ব্যাংকের নতুন গভর্নর নিয়োগ নিয়ে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছে ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশ। গত ২৫ ফেব্রুয়ারি অর্থ মন্ত্রণালয়ের আর্থিক প্রতিষ্ঠান বিভাগের গেজেট বিজ্ঞপ্তিতে মো মোস্তাকুর রহমানকে চার বছরের জন্য গভর্নর নিয়োগ দেওয়া হয়। তিনি দেশের ইতিহাসে প্রথম ব্যবসায়ী হিসেবে এই দায়িত্ব পেলেন। সাবেক গভর্নর ডক্টর আহসান এইচ মনসুরের স্থলাভিষিক্ত হলেন তিনি।
টিআইবির নির্বাহী পরিচালক ডক্টর ইফতেখারুজ্জামান এক বিবৃতিতে বলেন নবনিযুক্ত গভর্নরের ব্যাংকিং অভিজ্ঞতা মূলত ঋণগ্রহীতা থেকে ঋণখেলাপি হয়ে বিশেষ বিবেচনায় নিজ প্রতিষ্ঠানের ঋণ পুনঃতফসিল করার প্রক্রিয়ার সঙ্গে যুক্ত। তৈরি পোশাক শিল্প আবাসন খাত অ্যাটাব এবং ঢাকা চেম্বারের মতো প্রভাবশালী ব্যবসায়ী লবিতে তার গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রয়েছে। প্রশ্ন উঠেছে কর্তৃত্ববাদী আমলে ধ্বসে পড়া ব্যাংক খাত পুনরুদ্ধারে তিনি ব্যবসায়ী লবি ঋণখেলাপি মহলের প্রভাবমুক্ত থেকে স্বাধীনভাবে কাজ করতে পারবেন কি না। সংসদ সদস্যদের প্রায় ষাট শতাংশ এবং মন্ত্রিসভার বাহাত্তর শতাংশের মূল পেশা ব্যবসা আর প্রায় পঞ্চাশ শতাংশ সংসদ সদস্য ঋণগ্রস্ত এমন পরিস্থিতিতে একজন ঋণগ্রস্ত ব্যবসায়ীকে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের শীর্ষ পদে নিয়োগ জাতীয় ও আন্তর্জাতিকভাবে কী বার্তা দিচ্ছে তা সরকারকে ভেবে দেখার অনুরোধ জানিয়েছেন তিনি।
টিআইবি আরও বলেছে এই নিয়োগের ফলে কেন্দ্রীয় ব্যাংক আবারও রাজনৈতিক ও ব্যবসায়ী স্বার্থের হাতিয়ার হয়ে উঠতে পারে যা মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণ আর্থিক স্থিতিশীলতা এবং দুর্বল ব্যাংকের বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়ায় প্রভাব ফেলবে। চব্বিশের গণঅভ্যুত্থানের পর স্বাধীন কেন্দ্রীয় ব্যাংকের যে জনপ্রত্যাশা তৈরি হয়েছে তা পূরণে এ নিয়োগ ঝুঁকি তৈরি করেছে।
বাংলাদেশ ব্যাংকের মুখপাত্র আরিফ হোসেন খান জানিয়েছেন নতুন গভর্নর ব্যবসায়িক সংশ্লিষ্টতা থেকে সরে এসে দায়িত্ব নিয়েছেন। তবে বিশ্লেষকরা মনে করছেন এই নিয়োগ ব্যাংক খাতের সংস্কার প্রক্রিয়া এবং বিদেশি বিনিয়োগকারীদের আস্থায় প্রভাব ফেলতে পারে।
