দ্য সিভিলিয়ানস । নিউজ ডেস্ক ।
রাজধানীর পল্লবী এলাকায় সাত বছরের শিশু রামিসাকে ধর্ষণ ও হত্যার ঘটনায় বিচারকাজ আগামী পাঁচ থেকে সাত দিনের মধ্যে শেষ হতে পারে বলে আশা প্রকাশ করেছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ। তবে তিনি উল্লেখ করেন, চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত আদালতের এখতিয়ারের বিষয়।
সোমবার সচিবালয়ে বাংলাদেশ সেক্রেটারিয়েট রিপোর্টার্স ফোরাম আয়োজিত এক সংলাপে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি এ কথা বলেন।
মন্ত্রী জানান, ঘটনার মাত্র সাত ঘণ্টার মধ্যে অভিযুক্তকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে এবং এক দিনের মধ্যেই আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি নেওয়া হয়েছে। জবানবন্দিতে অভিযুক্তের স্ত্রীর সংশ্লিষ্টতার তথ্য পাওয়ার পর তাকেও গ্রেপ্তার করা হয়েছে বলে জানান তিনি।
তিনি বলেন, তদন্ত প্রক্রিয়া দ্রুত সম্পন্ন করতে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী প্রয়োজনীয় সব পদক্ষেপ নিয়েছে। ডিএনএ পরীক্ষা আদালতের অনুমতি নিয়ে দ্রুত সম্পন্ন করা হয়েছে এবং তিন দিনের মধ্যেই রিপোর্ট হাতে এসেছে। একই সঙ্গে ময়নাতদন্ত প্রতিবেদনও তদন্ত কর্মকর্তাদের কাছে পৌঁছেছে।
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী জানান, সব তথ্য ও আলামত একত্র করে অভিযোগপত্র প্রস্তুতের কাজ রোববার রাতেই শেষ হয়েছে। সোমবার আদালতে চার্জশিট জমা দেওয়ার প্রক্রিয়াও সম্পন্ন হওয়ার কথা রয়েছে।
তিনি আরও বলেন, আদালতের ছুটি থাকলেও এই বিশেষ মামলার বিচারকাজ চালিয়ে নেওয়ার বিষয়ে প্রধান বিচারপতি বিশেষ ব্যবস্থা নেওয়ার চিন্তা করছেন। মামলাটি পরিচালনার জন্য একজন বিশেষ পাবলিক প্রসিকিউটরও নিয়োগ দেওয়া হয়েছে।
সংলাপে বক্তব্য দিতে গিয়ে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী দেশে ধর্ষণ ও নারী নির্যাতনের ঘটনা নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেন। তিনি বলেন, সমাজে মূল্যবোধের অবক্ষয় এবং অপসংস্কৃতির বিস্তার এ ধরনের অপরাধ বাড়িয়ে দিচ্ছে। ধর্মীয় ও সামাজিক মূল্যবোধ পুনর্গঠনের ওপর গুরুত্বারোপ করেন তিনি।
মন্ত্রী বলেন, “সরকারের প্রধান দায়িত্ব হলো অপরাধীদের দ্রুত আইনের আওতায় আনা এবং বিচার নিশ্চিত করা। আমরা সেই জায়গায় সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিচ্ছি।”
ঘটনাটি দেশজুড়ে তীব্র আলোড়ন সৃষ্টি করেছে। সামাজিক মাধ্যমে শিশু নিরাপত্তা, দ্রুত বিচার এবং ধর্ষণবিরোধী কঠোর আইন প্রয়োগের দাবি জোরালো হয়েছে। মানবাধিকারকর্মীরা বলছেন, দ্রুত বিচার গুরুত্বপূর্ণ হলেও দীর্ঘমেয়াদে শিশু সুরক্ষায় সামাজিক সচেতনতা, মানসিক স্বাস্থ্য শিক্ষা এবং পারিবারিক নজরদারি বাড়ানো প্রয়োজন।
সংলাপে আরও উপস্থিত ছিলেন প্রধান তথ্য কর্মকর্তা সৈয়দ আবদাল আহমদ এবং বিএসআরএফ সভাপতি মাসউদুল হক সহ সংগঠনের নেতারা।
