দ্য সিভিলিয়ানস । নিউজ ডেস্ক ।
ইরানের বিরুদ্ধে চলমান সামরিক অভিযানের মধ্যেই যুক্তরাষ্ট্রের সেন্ট্রাল কমান্ড (CENTCOM) প্রকাশিত একটি ছবিকে ঘিরে নতুন নিরাপত্তা বিতর্ক তৈরি হয়েছে। প্রকাশিত ছবির মাধ্যমে মার্কিন বোমারু বিমান কোথা থেকে উড্ডয়ন করছে, তা অনিচ্ছাকৃতভাবে প্রকাশ পেয়ে গেছে বলে সামরিক বিশ্লেষকদের দাবি।
সামাজিক মাধ্যমে প্রকাশিত ছবিতে একটি বি ৫২ স্ট্র্যাটোফোর্ট্রেস বোমারু বিমানকে সৌদি আরবের আকাশে জ্বালানি গ্রহণ করতে দেখা যায়। উন্মুক্ত তথ্য বিশ্লেষণকারী বিশেষজ্ঞরা ছবির ভৌগোলিক তথ্য বিশ্লেষণ করে ধারণা করেন, বিমানটি রিয়াদের প্রায় ২৪০ কিলোমিটার পূর্বে এবং ইরানের উপকূল থেকে ৪০০ কিলোমিটারেরও কম দূরত্বে অবস্থান করছিল। এতে সম্ভাব্য মার্কিন অপারেশনাল ঘাঁটির অবস্থান সম্পর্কে ধারণা পাওয়া যায়।
এর আগে ধারণা করা হচ্ছিল, যুক্তরাষ্ট্র ইরান থেকে দূরবর্তী নিরাপদ অঞ্চল থেকে বি ৫২ বিমান ব্যবহার করছে এবং এগুলো মূলত দূরপাল্লার জ্যাসম ক্রুজ ক্ষেপণাস্ত্র বহনকারী প্ল্যাটফর্ম হিসেবে ব্যবহৃত হচ্ছে। তবে প্রকাশিত ছবিতে বিমানের ডানার নিচে যে অস্ত্র দেখা গেছে, তা এই ধারণাকে প্রশ্নবিদ্ধ করেছে।
বিশ্লেষকদের মতে, ছবিতে থাকা অস্ত্রগুলো সম্ভবত এমকে ৮৪ ভারী বোমা, যার সঙ্গে জেডিডিএএম স্যাটেলাইট নির্দেশিত কিট যুক্ত রয়েছে। এই ধরনের বোমা ব্যবহারের অর্থ হলো বিমানকে লক্ষ্যবস্তুর তুলনামূলক কাছাকাছি প্রবেশ করতে হয়, যা ইরানের আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার ঝুঁকির মধ্যেই অপারেশন পরিচালনার ইঙ্গিত দেয়।
সামরিক পর্যবেক্ষকদের একটি অংশ মনে করছে, এটি ব্যয়বহুল ক্রুজ ক্ষেপণাস্ত্রের সম্ভাব্য ঘাটতির ইঙ্গিত হতে পারে। অন্যদিকে কেউ কেউ বলছেন, যুক্তরাষ্ট্র হয়তো বিশ্বাস করছে যে ইরানের আকাশ প্রতিরক্ষা সক্ষমতা ইতোমধ্যে দুর্বল হয়ে পড়েছে, ফলে ভারী বোমারু বিমান নিরাপদে অভিযান চালাতে পারছে।
ঘটনাটি সামরিক তথ্য ব্যবস্থাপনা ও অপারেশনাল নিরাপত্তা নিয়ে নতুন প্রশ্ন তুলেছে। যুদ্ধ পরিস্থিতিতে প্রকাশিত ছবি ও তথ্য কীভাবে কৌশলগত ঝুঁকি তৈরি করতে পারে, সেটিও আবার সামনে চলে এসেছে।
সূত্র: Reuters, AP, Al Jazeera
