দ্য সিভিলিয়ানস । নিউজ ডেস্ক ।
ভারতের পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভা নির্বাচনে দীর্ঘদিনের শাসন শেষে বড় ধাক্কা খেয়েছে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় নেতৃত্বাধীন তৃণমূল কংগ্রেস। ফল ঘোষণার পরও তিনি আনুষ্ঠানিকভাবে পরাজয় স্বীকার না করে নির্বাচনে অনিয়মের অভিযোগ তুলেছেন এবং দাবি করেছেন, অন্তত ১০০টি আসন তাদের কাছ থেকে ‘ছিনিয়ে নেওয়া’ হয়েছে।
তবে বিশ্লেষকরা বলছেন, এই পরাজয়ের পেছনে একাধিক বাস্তব কারণ কাজ করেছে। সবচেয়ে বড় ধাক্কা এসেছে নারী ভোটব্যাংকে। ‘লক্ষ্মীর ভান্ডার’, ‘কন্যাশ্রী’র মতো প্রকল্প জনপ্রিয় হলেও সাম্প্রতিক নারী নিরাপত্তা ইস্যু ভোটারদের মধ্যে অসন্তোষ তৈরি করেছে।
এছাড়া ভোটার তালিকা সংশোধন প্রক্রিয়া বা এসআইআর বড় প্রভাব ফেলেছে বলে মনে করা হচ্ছে। এই প্রক্রিয়ায় বিপুলসংখ্যক নাম বাদ পড়ায় তৃণমূলের ভোটে নেতিবাচক প্রভাব পড়ে, যা থেকে তুলনামূলকভাবে লাভবান হয়েছে ভারতীয় জনতা পার্টি (বিজেপি)।
দীর্ঘ ১৫ বছরের শাসনে দুর্নীতি, প্রশাসনিক দুর্বলতা, ‘সিন্ডিকেট সংস্কৃতি’ এবং কর্মসংস্থানের অভাব নিয়েও ভোটারদের মধ্যে ক্ষোভ জমেছে। নির্বাচনের আগে বিভিন্ন আর্থিক প্রণোদনা চালু করেও সেই ক্ষোভ পুরোপুরি কমানো যায়নি।
রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকদের মতে, এবারের নির্বাচনে ধর্মভিত্তিক ভোট মেরুকরণও বড় ভূমিকা রেখেছে। মুসলিম ভোট তৃণমূলের দিকে থাকলেও হিন্দু ভোটের বড় অংশ বিজেপির দিকে একত্রিত হয়েছে, যা ফলাফলে প্রভাব ফেলেছে।
অন্যদিকে নির্বাচন কমিশনের কঠোর নজরদারি ও বিপুল কেন্দ্রীয় বাহিনী মোতায়েনের কারণে শাসক দল হিসেবে তৃণমূল যে বাড়তি সুবিধা পেত, সেটি এবার কার্যত কমে গেছে। ফলে ভোটাররা তুলনামূলকভাবে স্বাধীনভাবে ভোট দিতে পেরেছেন বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা।
সব মিলিয়ে, পশ্চিমবঙ্গের এই ফলাফল শুধু সরকার পরিবর্তন নয়, বরং রাজ্যের রাজনীতিতে বড় এক মোড় ঘোরানোর ইঙ্গিত দিচ্ছে।
