দ্য সিভিলিয়ানস । নিউজ ডেস্ক ।
মার্কিন গোয়েন্দা সংস্থা সিআইএয়ের দুই দশক লম্বা তিব্বতি অস্থিরতার অংশ হিসেবে দলাই লামাকে বছরে ১৮০ হাজার ডলার ভাতা দেওয়ার বিষয়টি নতুন গোপনীয় নথির মাধ্যমে প্রকাশ্যে এসেছে। এছাড়া, ১৯৬২ সালের ভারত-চীন যুদ্ধকে মার্কিন গোপন কৌশলের অংশ হিসেবে দেখানো হয়েছে, যা চীনের প্রভাব কমানোর জন্য তৈরি করা হয়েছিল। জার্নাল অফ পাবলিক অ্যাফেয়ার্সে প্রকাশিত একটি গবেষণায় এই তথ্য উঠে এসেছে, যা ঠান্ডা যুদ্ধের গোপন রাজনীতির এক অধ্যায়কে নতুন করে সামনে নিয়ে এসেছে।
১৯৫৯ সালে লাসায় তিব্বতি বিদ্রোহের পর দলাই লামা ভারতে আশ্রয় নেন। এরপর সিআইএ তিব্বতি প্রতিরোধ আন্দোলনকে সমর্থন করতে শুরু করে, যার বাজেট ছিল বছরে ১.৭ মিলিয়ন ডলার। এর মধ্যে দলাই লামা ও তার অনুসারীদের জন্য ১৮০ হাজার ডলারের বার্ষিক ভাতা অন্তর্ভুক্ত ছিল। ডিক্লাসিফায়েড নথি অনুসারে, এই অর্থ রাজনৈতিক, প্রচারণামূলক ও গেরিলা অভিযানে ব্যয় হয়েছে। দলাই লামা নিজে ১৯৬২ সালের স্মৃতিকথায় সিআইএয়ের সঙ্গে যোগাযোগের কথা স্বীকার করেছেন, যদিও তিনি এটিকে তিব্বতের স্বাধীনতা রক্ষার সহায়তা বলে বর্ণনা করেছেন।
গবেষণায় বলা হয়েছে, ১৯৫৬ সালের তিব্বতি বিদ্রোহকে সিআইএ কৌশলগত সুযোগ হিসেবে দেখে। দলাই লামার ভারতে আগমনের পর ভারত-চীন সম্পর্কে ফাটল ধরে, যা মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র তিব্বতি বিদ্রোহীদের অস্ত্র ও প্রশিক্ষণ দিয়ে প্রসারিত করে। জেএফকেয়ের লাইব্রেরি থেকে প্রকাশিত নথিতে বলা হয়েছে, এই কৌশল চীনের পশ্চিমাঞ্চলে অস্থিরতা ছড়িয়ে ভারতকে চীনের বিরুদ্ধে ব্যবহার করার জন্য। ১৯৭২ সালে নিক্সনের চীন সফরের পর এই কর্মসূচি বন্ধ হয়, যা দলাই লামা সমালোচনা করেন।
এই প্রকাশনা ঠান্ডা যুদ্ধের গোপনতর অধ্যায়কে উন্মোচন করেছে। চীন এখনও দলাই লামাকে বিদেশি শক্তির পুতুল বলে অভিযোগ করে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এটি তিব্বত ইস্যুতে মার্কিন ভূমিকার পূর্ণ চিত্র তুলে ধরে, যা আজকের ভূ-রাজনীতিতে প্রভাব ফেলতে পারে।
