লোড হচ্ছে...
লোড হচ্ছে...

গ্যাস-বিদ্যুৎ সংকটে বন্ধ হওয়ার পথে ১২০০ বেকারি, বাড়ছে রুটি-বিস্কুটের দাম

প্রকাশিত: 12 সেপ্টেম্বর 2026

0 Views

The Civilians News

দ্য সিভিলিয়ানস । নিউজ ডেস্ক ।

গ্যাস ও বিদ্যুৎ সংকটের সঙ্গে কাঁচামালের মূল্যবৃদ্ধি এবং উৎপাদন ব্যয় বেড়ে যাওয়ায় দেশের ক্ষুদ্র বেকারি শিল্প বড় ধরনের সংকটে পড়েছে। শিল্পসংশ্লিষ্টদের দাবি, পরিস্থিতি দ্রুত স্বাভাবিক না হলে দেশের প্রায় ১ হাজার ২০০ হস্তচালিত বেকারি বন্ধ হয়ে যেতে পারে। উৎপাদন ব্যয় সামাল দিতে রুটি, বিস্কুট, পাউরুটি ও কেকের দামও বাড়ানোর উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

বেকারি উদ্যোক্তাদের অভিযোগ, অনেক কারখানায় দিনের বড় একটি সময় বিদ্যুৎ থাকে না। একই সঙ্গে শিল্পাঞ্চলগুলোতে গ্যাসের চাপ এতটাই কমে গেছে যে স্বাভাবিক উৎপাদন চালানো কঠিন হয়ে পড়েছে। বাধ্য হয়ে অনেক প্রতিষ্ঠান বাড়তি খরচে তরলীকৃত গ্যাস ব্যবহার করছে। এতে উৎপাদন খরচ আরও বেড়ে যাচ্ছে।

সাম্প্রতিক মাসগুলোতে দেশের শিল্প খাতে জ্বালানি সংকটের প্রভাব স্পষ্ট হয়েছে। বিশ্বব্যাংকের তথ্য অনুযায়ী, বাংলাদেশে গ্যাসের চাহিদা সরবরাহের তুলনায় প্রায় ২০ থেকে ২৫ শতাংশ বেশি এবং ঘাটতির কারণে বিদ্যুৎ উৎপাদন ও শিল্প উৎপাদন দুটিই ব্যাহত হচ্ছে। গ্যাসের চাপ কমে গেলে অনেক শিল্পপ্রতিষ্ঠান বিকল্প হিসেবে ডিজেলের মতো তুলনামূলক ব্যয়বহুল জ্বালানির দিকে যেতে বাধ্য হয়।

চলতি আগস্টে দেশে দৈনিক গ্যাস সরবরাহের গড় পরিমাণ ২ হাজার ২৩৫ মিলিয়ন ঘনফুটে নেমে আসে, যা এক দশকের মধ্যে ওই মাসের সর্বনিম্ন বলে সাম্প্রতিক তথ্য বিশ্লেষণে উঠে এসেছে। জ্বালানি ঘাটতির কারণে খাদ্য উৎপাদনসহ বিভিন্ন শিল্পে উৎপাদন কমাতে হয়েছে এবং কিছু কারখানা বিকল্প জ্বালানি ব্যবহার করছে।

বেকারি শিল্পসংশ্লিষ্টদের হিসাবে, একই সময়ে প্রধান কাঁচামালগুলোর দামও উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে। ময়দা, চিনি, ভোজ্যতেল, ডালডা, ডিম, দুধ ও ইস্টসহ বিভিন্ন উপকরণের মূল্য বৃদ্ধির ফলে উৎপাদন ব্যয় আগের তুলনায় অনেক বেড়েছে। তাঁদের দাবি, কাঁচামালের দাম ৩০ থেকে ৪০ শতাংশ পর্যন্ত বেড়েছে। ফলে পণ্যের দাম সমন্বয় না করলে অনেক প্রতিষ্ঠান লোকসান থেকে বের হতে পারছে না।

বাংলাদেশের খাদ্যপণ্যের বাজারেও মূল্যচাপ রয়েছে। জাতিসংঘের খাদ্য ও কৃষি সংস্থার সেপ্টেম্বরের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ২০২৬ সালের শুরু থেকে দেশে আমদানিনির্ভর গমের আটার দাম সাধারণভাবে বেড়েছিল। যদিও জুলাইয়ে আগের বছরের একই সময়ের তুলনায় আটার দাম কিছুটা কম ছিল। একই সঙ্গে জ্বালানি ব্যয় ও উচ্চ মূল্যস্ফীতির কারণে সাধারণ মানুষের ক্রয়ক্ষমতার ওপরও চাপ বাড়ছে।

বেকারি মালিকদের সংগঠনের নেতাদের দাবি, উৎপাদন কমলেও কারখানার ভাড়া, শ্রমিকের মজুরি ও অন্যান্য স্থায়ী ব্যয় কমেনি। ফলে ছোট উদ্যোক্তাদের অনেকেই ঋণগ্রস্ত হয়ে পড়ছেন। সংকট আরও কয়েক মাস অব্যাহত থাকলে উল্লেখযোগ্যসংখ্যক প্রতিষ্ঠান স্থায়ীভাবে বন্ধ হয়ে যাওয়ার আশঙ্কা করছেন তাঁরা।

এই পরিস্থিতিতে বাজারে বেকারি পণ্যের দাম সমন্বয়ের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। উদ্যোক্তাদের প্রস্তাব অনুযায়ী, ৫০ টাকার পাউরুটি ৬০ টাকা এবং ১০ টাকার বনরুটি ১৫ টাকায় বিক্রি হতে পারে। কিছু ক্ষেত্রে পণ্যের দাম অপরিবর্তিত রেখে আকার কমানোর কথাও বলা হয়েছে। তবে সংগঠনের নেতাদের বক্তব্য অনুযায়ী, এটি কোনো একক সরকারি মূল্য নির্ধারণ নয় বরং বাড়তি উৎপাদন ব্যয়ের সঙ্গে বাজারদর সামঞ্জস্য করার উদ্যোগ।

জ্বালানি সংকটের ব্যাপকতা নিয়ে সরকারও উদ্বেগের কথা জানিয়েছে। সরকারের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, গ্যাস সরবরাহ বাড়াতে দেশীয় অনুসন্ধান, নতুন কূপ খনন এবং নতুন তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাস টার্মিনাল স্থাপনের পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে। প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান সংসদে জানিয়েছেন, ২০৩০-৩১ সালের মধ্যে ১৫০টি গ্যাসকূপ খনন এবং ব্যাপক ভূকম্পন জরিপের পরিকল্পনা রয়েছে।

এদিকে প্রধানমন্ত্রী বলেছেন, আগামী পাঁচ থেকে সাত দিনের মধ্যে গ্যাস সরবরাহ পরিস্থিতির আরও উন্নতি হওয়ার আশা করা হচ্ছে। তবে শিল্প খাতের উদ্যোক্তারা বলছেন, সাময়িক সরবরাহ বৃদ্ধি যথেষ্ট নয়। তাঁদের মতে, বেকারি ও অন্যান্য ক্ষুদ্র শিল্প টিকিয়ে রাখতে নিরবচ্ছিন্ন জ্বালানি সরবরাহ, কাঁচামালের বাজার স্থিতিশীল রাখা এবং উৎপাদন ব্যয় কমানোর কার্যকর ব্যবস্থা জরুরি।

 

আরও পড়ুন

Editor & Publisher : Khondaker Azizur Rahman