দ্য সিভিলিয়ানস । নিউজ ডেস্ক ।
পারস্য উপসাগরের সংকীর্ণ হরমুজ প্রণালীতে উত্তেজনা ছড়িয়ে দিয়েছে ইরানের ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কর্পসের (আইআরজিসি) এক নতুন অভিযান। শুক্রবার (১৫ নভেম্বর) সকালে মার্শাল দ্বীপপুঞ্জের পতাকাধারী তেল ট্যাঙ্কার ‘তালারা’কে আইআরজিসি দখল করে ইরানি জলসীমায় নিয়ে যায়। জাহাজটিতে ছিল ৩০ হাজার টন পেট্রোকেমিক্যাল পণ্য, যা সংযুক্ত আরব আমিরাতের (ইউএই) শারজাহ বন্দর থেকে সিঙ্গাপুরের উদ্দেশ্যে যাচ্ছিল।
ইরানের রাষ্ট্রীয় সংবাদমাধ্যম ফার্স নিউজ এজেন্সি জানায়, ইরানি ব্যক্তি বা কোম্পানির চেষ্টায় অবৈধভাবে কার্গো বের করে নেওয়ার অভিযোগে ট্যাঙ্কারটি আটক করা হয়েছে। ইরানি বিচারিক আদেশের ভিত্তিতে এই অপারেশন চালানো হয়েছে বলে আইআরজিসি দাবি করেছে।
কলম্বিয়া-ভিত্তিক কোম্পানি কলম্বিয়া শিপম্যানেজমেন্ট, যারা জাহাজটির ব্যবস্থাপনার দায়িত্বে আছে, জানিয়েছে যে তারা জাহাজের সঙ্গে সকল যোগাযোগ হারিয়েছে। কোম্পানি বলেছে, তারা নৌ নিরাপত্তা সংস্থা ও জাহাজের মালিকের সঙ্গে যোগাযোগ করে ক্রু সদস্যদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার চেষ্টা করছে।
জাহাজটিতে উচ্চ-সালফার গ্যাস অয়েল (যা মূলত জাহাজের জ্বালানি হিসেবে ব্যবহৃত হয়) ভর্তি ছিল। ব্রিটিশ মেরিটাইম নিরাপত্তা ফার্ম অ্যামব্রে জানায়, তিনটি ছোট নৌকা জাহাজটির কাছে গিয়ে এই অপারেশন চালায়। ইউকে মেরিটাইম ট্রেড অপারেশনস সেন্টারও ঘটনাটি ‘রাষ্ট্রীয় কার্যকলাপ’ বলে নিশ্চিত করেছে।
এই দখল ইরানের দীর্ঘদিনের ভু-রাজনৈতিক কৌশলেরই অংশ, যেখানে তারা প্রায়ই পারস্য উপসাগরে জাহাজ আটক করে নিজেদের স্বার্থ রক্ষা করে। গত এক বছরের বেশি সময় পর এমন প্রথম ঘটনা ঘটেছে।
জুন মাসে ইসরায়েল-যুক্তরাষ্ট্রের আক্রমণে ইরানের পারমাণবিক স্থাপনা ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার পর ইরানি কর্তৃপক্ষ প্রতিশোধের হুমকি দিয়ে আসছিল। এই অপারেশনটি ইরানের মিসাইল-ড্রোন প্রদর্শনীর সঙ্গে সমান্তরালভাবে ঘটেছে, যা তার সামরিক শক্তি পুনর্গঠনের সংকেত। মার্কিন সেন্ট্রাল কমান্ড জানিয়েছে, তারা ঘটনাটি নজরদারি করছে এবং বলছে, এ ধরণের ঘটনা বাণিজ্যিক জাহাজের নৌপথ অধিকার ক্ষুণ্ণ করেছে।
হরমুজ প্রণালী দিয়ে বিশ্বের ২০ শতাংশ তেল ও ২৫ শতাংশ এলএনজি যায়, তাই এমন আটক তেলের দাম বাড়াতে পারে এবং আঞ্চলিক উত্তেজনাও আবার নতুন করে বাড়াতে পারে। ইরানের এই পদক্ষেপ পশ্চিমা নিষেধাজ্ঞা ও পারমাণবিক বিতর্কের প্রতিক্রিয়া হিসেবে দেখছেন ভু-রাজনৈতিক বিশেষজ্ঞরা।
ইউএই, ইসরায়েল ও যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিক্রিয়া এখনো স্পষ্ট নয়, কিন্তু এটি মধ্যপ্রাচ্যের নৌ নিরাপত্তার নতুন চ্যালেঞ্জ তুলে ধরেছে।
সূত্র: Al Jazeera , BBC , CNN, Reuters
