দ্য সিভিলিয়ানস । নিউজ ডেস্ক ।
উচ্চশিক্ষার জন্য পাকিস্তানের উদ্দেশে ঢাকা ছেড়েছেন বাংলাদেশের ৪২ শিক্ষার্থী। পাকিস্তান-বাংলাদেশ জ্ঞান করিডরের দ্বিতীয় ধাপের আওতায় সম্পূর্ণ অর্থায়িত বৃত্তি নিয়ে পাকিস্তানের বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ে স্নাতক, স্নাতকোত্তর ও পিএইচডি পর্যায়ে পড়াশোনা করবেন তারা।
বুধবার হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে শিক্ষার্থীদের বিদায় জানান বাংলাদেশে নিযুক্ত পাকিস্তানের হাইকমিশনার ইমরান হায়দার। শিক্ষার্থীদের সঙ্গে সাক্ষাৎ করে তিনি তাদের শিক্ষাজীবনের সাফল্য কামনা করেন এবং ভবিষ্যতে নিজ দেশের উন্নয়নে ভূমিকা রাখার আশাবাদ ব্যক্ত করেন।
পাকিস্তানের উচ্চশিক্ষা কমিশনের তথ্য অনুযায়ী, বাংলাদেশি শিক্ষার্থীদের জন্য পাঁচ বছরে মোট ৫০০টি সম্পূর্ণ অর্থায়িত বৃত্তি দেওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে। এসব বৃত্তির আওতায় স্নাতক, স্নাতকোত্তর ও পিএইচডি পর্যায়ে পড়াশোনার সুযোগ রয়েছে। বৃত্তিতে শিক্ষাব্যয়, মাসিক ভাতা, আবাসন ও খাবারের খরচ, যাতায়াতের বিমানভাড়া এবং বই ও শিক্ষা উপকরণের ব্যয় অন্তর্ভুক্ত রয়েছে।
এই কর্মসূচির প্রথম ধাপে ৭৪ বাংলাদেশি শিক্ষার্থী ২০২৬ সালের ফেব্রুয়ারিতে পাকিস্তানের বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়াশোনা শুরু করেন। তাদের মধ্যে প্রকৌশল, চিকিৎসাবিজ্ঞান, কম্পিউটার বিজ্ঞান, সাইবার নিরাপত্তা ও জীববিজ্ঞানের মতো বিভিন্ন বিষয়ের শিক্ষার্থী রয়েছেন।
দ্বিতীয় ধাপের বৃত্তি কর্মসূচি ২০২৬ সালের মে মাসে ঢাকায় শিক্ষা প্রদর্শনীর মাধ্যমে আনুষ্ঠানিকভাবে শুরু করা হয়। পাকিস্তানের উচ্চশিক্ষা কমিশনের উদ্যোগে আয়োজিত ওই কর্মসূচিতে দেশটির ২০টি বিশ্ববিদ্যালয় অংশ নেয়। শিক্ষার্থীদের জন্য বৃত্তি, ভর্তি প্রক্রিয়া এবং বিভিন্ন বিষয়ে উচ্চশিক্ষার সুযোগ তুলে ধরা হয়।
পাকিস্তানের উচ্চশিক্ষা কমিশন জানিয়েছে, জ্ঞান করিডরের মূল লক্ষ্য দুই দেশের মধ্যে শিক্ষা, গবেষণা ও প্রাতিষ্ঠানিক সহযোগিতা বাড়ানো। কর্মসূচির আওতায় বাংলাদেশের শিক্ষার্থীদের পাকিস্তানের বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়াশোনার পাশাপাশি দুই দেশের শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের মধ্যে দীর্ঘমেয়াদি যোগাযোগ তৈরির ওপরও গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে।
পাকিস্তানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের তথ্য অনুযায়ী, জ্ঞান করিডরটি ২০২৫ সালের আগস্টে পাকিস্তানের উপপ্রধানমন্ত্রী ও পররাষ্ট্রমন্ত্রী মোহাম্মদ ইসহাক দারের ঢাকা সফরের সময় ঘোষিত হয়। ওই সময় পাঁচ বছরের জন্য বাংলাদেশের শিক্ষার্থীদের ৫০০টি বৃত্তি দেওয়ার পরিকল্পনা জানানো হয়েছিল।
হাইকমিশনার ইমরান হায়দার বিদায়ী শিক্ষার্থীদের সাফল্য কামনা করে আশা প্রকাশ করেছেন, তারা দেশে ফিরে অর্জিত জ্ঞান ও দক্ষতা বাংলাদেশের ভবিষ্যৎ উন্নয়নে কাজে লাগাবেন। একই সঙ্গে দুই দেশের মানুষের মধ্যে পারস্পরিক যোগাযোগ ও বোঝাপড়া তৈরিতেও তারা ভূমিকা রাখতে পারবেন বলে তিনি উল্লেখ করেন।
পাকিস্তানের উচ্চশিক্ষা কমিশনের তথ্য অনুযায়ী, বৃত্তিপ্রাপ্ত শিক্ষার্থীদের পড়াশোনা শেষে বাংলাদেশে ফিরে দেশের জন্য কাজ করার শর্তও রয়েছে। বৃত্তি নির্বাচন মেধার ভিত্তিতে করা হয় এবং শিক্ষার্থীদের বিভিন্ন শীর্ষস্থানীয় পাকিস্তানি বিশ্ববিদ্যালয়ে অধ্যয়নের সুযোগ দেওয়া হয়।
দ্বিতীয় ধাপের প্রথম দফায় যাত্রা করা ৪২ শিক্ষার্থী এখন পাকিস্তানের বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ে তাদের উচ্চশিক্ষার অধ্যায় শুরু করবেন। এই উদ্যোগের মাধ্যমে আগামী কয়েক বছরে আরও বাংলাদেশি শিক্ষার্থীর পাকিস্তানে উচ্চশিক্ষার সুযোগ পাওয়ার কথা রয়েছে।
