দ্য সিভিলিয়ানস । নিউজ ডেস্ক ।
২০২৬ সালে সরকারি ব্যবস্থাপনায় হজ পালন করা ৪ হাজার ৩৪১ হাজির মধ্যে উদ্বৃত্ত ৪ কোটি ৮৭ লাখ টাকা ফেরত দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে সরকার। আবাসন ও সেবার ব্যয়ে সাশ্রয় হওয়া এই অর্থ সরাসরি সংশ্লিষ্ট হাজিদের ব্যাংক হিসাবে পাঠানো হবে বলে জানিয়েছেন ধর্মমন্ত্রী কাজী শাহ মোফাজ্জাল হোসাইন কায়কোবাদ।
রোববার ধর্মবিষয়ক মন্ত্রণালয়ে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে তিনি এ তথ্য জানান। মন্ত্রী বলেন, বাড়িভাড়া কম হওয়া এবং বিভিন্ন সেবার ব্যয় সাশ্রয়ের কারণে হজ প্যাকেজ থেকে যে অর্থ অব্যয়িত রয়েছে তা স্বচ্ছ প্রক্রিয়ায় হাজিদের ফেরত দেওয়া হবে।
মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, কোন হাজি কত টাকা পাবেন তা নির্ভর করবে হজ প্যাকেজ, আবাসনের ধরন, কক্ষের আসনসংখ্যা এবং স্বল্পমেয়াদি প্যাকেজ নেওয়া হয়েছিল কি না তার ওপর।
প্যাকেজ-১-এর হাজিদের মধ্যে হোটেল বুলুরা আল দুররার সাধারণ প্যাকেজে থাকা হাজিরা ফেরত পাবেন ৩৮ হাজার ৬৯৭ টাকা ৩২ পয়সা। স্বল্পমেয়াদি প্যাকেজের হাজিরা পাবেন ৪৬ হাজার ৮৮৮ টাকা ৪০ পয়সা।
দুই আসনের কক্ষ উন্নীতকরণ নেওয়া হাজিরা পাবেন ১ লাখ ৬৪ হাজার ১৯০ টাকা ৫৬ পয়সা। একই সঙ্গে কক্ষ উন্নীতকরণ ও স্বল্পমেয়াদি প্যাকেজ নেওয়া হাজিদের ফেরত দেওয়া হবে ১ লাখ ৮০ হাজার ৫৭২ টাকা ৭১ পয়সা।
তিন আসনের কক্ষ উন্নীতকরণ নেওয়া হাজিরা পাবেন ১ লাখ ১৮ হাজার ৭২ টাকা ৮২ পয়সা। কক্ষ উন্নীতকরণের সঙ্গে স্বল্পমেয়াদি প্যাকেজ নেওয়া হাজিদের ফেরত দেওয়া হবে ১ লাখ ৩১ হাজার ৭৩৫ টাকা ৫৩ পয়সা।
প্যাকেজ-২-এর ক্ষেত্রে লুলুয়াত আল ভাওহীদ এলাকার দ্বিতীয় বাড়ি বা হোটেলে সাধারণ প্যাকেজে থাকা হাজিরা পাবেন ২ হাজার ৫০৫ টাকা ৪৯ পয়সা। স্বল্পমেয়াদি প্যাকেজের হাজিরা পাবেন ৮ হাজার ৭৩০ টাকা ৭০ পয়সা।
দুই আসনের কক্ষ উন্নীতকরণ নেওয়া হাজিরা পাবেন ৬২ হাজার ৩৩১ টাকা ৭৯ পয়সা। একই সুবিধার সঙ্গে স্বল্পমেয়াদি প্যাকেজ নেওয়া হাজিদের দেওয়া হবে ৭৮ হাজার ৭১৩ টাকা ১৪ পয়সা। তিন আসনের কক্ষ উন্নীতকরণে ফেরত পাবেন ৩ হাজার ২৮৭ টাকা ৩৬ পয়সা। স্বল্পমেয়াদি প্যাকেজসহ একই সুবিধায় ফেরত পাবেন ৮ হাজার ৪৩১ টাকা ৩৬ পয়সা।
তৃতীয় বাড়ি বা রাওদাত আল শুরূক হোটেলে সাধারণ প্যাকেজের হাজিরা পাবেন ৩ হাজার ৯৭৯ টাকা ৮৮ পয়সা। স্বল্পমেয়াদি প্যাকেজে ফেরত পাবেন ১২ হাজার ১৭০ টাকা ৯৫ পয়সা। দুই আসনের কক্ষ উন্নীতকরণে ৪ হাজার ৩৭৬ টাকা ৬৬ পয়সা এবং তিন আসনের কক্ষ উন্নীতকরণে ৪৪ হাজার ১১৯ টাকা ৮৭ পয়সা ফেরত দেওয়া হবে।
চতুর্থ বাড়ি বা মানার আল শুরূক হোটেলের সাধারণ প্যাকেজে ফেরত পাবেন ৭ হাজার ৪১৪ টাকা ২৩ পয়সা। দুই আসনের কক্ষ উন্নীতকরণে ৫ হাজার ৬৭৫ টাকা ৪৩ পয়সা এবং তিন আসনের ক্ষেত্রে ৬ হাজার ২৪১ টাকা ২৪ পয়সা পাওয়া যাবে।
অন্যদিকে সাধারণ হজ প্যাকেজ-৩-এর আওতায় নান্দার ওয়ান হোটেলে থাকা প্রত্যেক হাজি পাবেন ৩ হাজার ৭১৮ টাকা ৯ পয়সা।
২০২৬ সালের হজে সরকারি ব্যবস্থাপনায় মোট ৪ হাজার ৫৬৫ জনের কোটা থাকলেও শেষ পর্যন্ত সরকারি ব্যবস্থাপনায় হজ সম্পন্নকারী ও ফেরত আসা হাজিদের সংখ্যা ছিল প্রায় সাড়ে চার হাজার। পুরো মৌসুমে বাংলাদেশ থেকে প্রায় ৭৯ হাজার ১০০ হাজি সৌদি আরব থেকে দেশে ফেরেন।
হজ ব্যয় কমানোর ধারাবাহিকতায় ২০২৬ সালে বিমানভাড়া আগের বছরের তুলনায় ১২ হাজার ৯৯০ টাকা কমিয়ে ১ লাখ ৫৪ হাজার ৮৩০ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছিল।
এরপর ২০২৭ সালের হজের জন্য বিমানভাড়া আরও কমিয়ে ১ লাখ ৩০ হাজার টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে। একই সঙ্গে সরকারি ব্যবস্থাপনায় সর্বনিম্ন হজ প্যাকেজ নির্ধারণ করা হয়েছে ৫ লাখ ৫ হাজার ৬৪৮ টাকা।
