লোড হচ্ছে...
লোড হচ্ছে...

চীনের জে-১০সিই যুদ্ধবিমান কেনার পথে বাংলাদেশ, নতুন কৌশলগত সমীকরণে উদ্বেগে ভারত

প্রকাশিত: 21 জুন 2026

0 Views

The Civilians News

দ্য সিভিলিয়ানস । নিউজ ডেস্ক ।

বাংলাদেশ বিমান বাহিনীর আধুনিকায়নের অংশ হিসেবে চীনের তৈরি ২০টি জে-১০সিই মাল্টিরোল যুদ্ধবিমান কেনার পরিকল্পনা দক্ষিণ এশিয়ার নিরাপত্তা ও ভূরাজনৈতিক অঙ্গনে নতুন আলোচনা তৈরি করেছে। প্রায় ২ দশমিক ২ বিলিয়ন মার্কিন ডলারের সম্ভাব্য এই প্রতিরক্ষা চুক্তিকে ঘিরে ভারতীয় কৌশলগত মহলে উদ্বেগের খবর প্রকাশ করেছে আন্তর্জাতিক প্রতিরক্ষা বিষয়ক গণমাধ্যম।

প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী, বাংলাদেশ বিমান বাহিনীর দীর্ঘমেয়াদি আধুনিকায়ন কর্মসূচি ‘ফোর্সেস গোল ২০৩০’-এর অংশ হিসেবে এই যুদ্ধবিমান সংগ্রহের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। বর্তমানে ব্যবহৃত পুরোনো এফ-৭ এবং সীমিত সংখ্যক মিগ-২৯ যুদ্ধবিমানের পরিবর্তে আধুনিক প্ল্যাটফর্ম যুক্ত করে আকাশসীমা সুরক্ষা, সামুদ্রিক নিরাপত্তা এবং প্রতিরক্ষা সক্ষমতা বাড়ানোই এই পরিকল্পনার মূল লক্ষ্য।

জানা গেছে, সম্ভাব্য চুক্তির আওতায় যুদ্ধবিমান ছাড়াও পাইলট প্রশিক্ষণ, কারিগরি সহায়তা, রক্ষণাবেক্ষণ ব্যবস্থা, লজিস্টিক সহায়তা এবং উন্নত অস্ত্র প্যাকেজ অন্তর্ভুক্ত থাকতে পারে। অর্থ পরিশোধের জন্য দীর্ঘমেয়াদি কিস্তি সুবিধার বিষয়েও আলোচনা হয়েছে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।

প্রতিরক্ষা বিশ্লেষকদের মতে, জে-১০সিই একটি আধুনিক ৪ দশমিক ৫ প্রজন্মের যুদ্ধবিমান। এতে অত্যাধুনিক অ্যাকটিভ ইলেকট্রনিক্যালি স্ক্যানড অ্যারে রাডার, উন্নত তথ্য আদানপ্রদান ব্যবস্থা এবং দূরপাল্লার আকাশ থেকে আকাশে নিক্ষেপযোগ্য ক্ষেপণাস্ত্র ব্যবহারের সক্ষমতা রয়েছে। ফলে এটি আকাশযুদ্ধে কার্যকর একটি প্ল্যাটফর্ম হিসেবে বিবেচিত হয়।

ভারতের প্রতিরক্ষা মহলের উদ্বেগের অন্যতম কারণ দেশটির উত্তর-পূর্বাঞ্চলের সঙ্গে মূল ভূখণ্ডের সংযোগকারী কৌশলগত শিলিগুড়ি করিডোর। ভারতীয় বিশ্লেষকদের ধারণা, বাংলাদেশের উত্তরাঞ্চলীয় ঘাঁটিতে আধুনিক যুদ্ধবিমান মোতায়েন হলে ওই অঞ্চলের নিরাপত্তা হিসাব নতুনভাবে মূল্যায়ন করতে হতে পারে।

এদিকে সাম্প্রতিক বছরগুলোতে বাংলাদেশ ও চীনের প্রতিরক্ষা সহযোগিতা ধারাবাহিকভাবে বৃদ্ধি পেয়েছে। সাবমেরিন, নৌযান, সাঁজোয়া যান এবং বিভিন্ন সামরিক সরঞ্জামের পর এবার যুদ্ধবিমান সংগ্রহের উদ্যোগ দুই দেশের সামরিক সম্পর্ককে আরও গভীর করতে পারে বলে মনে করছেন পর্যবেক্ষকরা।

তবে কূটনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, বাংলাদেশের প্রতিরক্ষা ক্রয় নীতি মূলত জাতীয় নিরাপত্তা ও সার্বভৌম স্বার্থের ভিত্তিতে পরিচালিত হয়। কোনো নির্দিষ্ট দেশের বিরুদ্ধে সামরিক অবস্থান গ্রহণ নয়, বরং প্রতিরক্ষা সক্ষমতা বৃদ্ধি এবং আধুনিক বাহিনী গঠনই এ ধরনের উদ্যোগের মূল উদ্দেশ্য।

বিশ্লেষকদের ধারণা, জে-১০সিই সংগ্রহের বিষয়টি চূড়ান্ত হলে তা শুধু বাংলাদেশ বিমান বাহিনীর সক্ষমতাই বাড়াবে না, বরং দক্ষিণ এশিয়ার নিরাপত্তা ও কৌশলগত ভারসাম্যের আলোচনায়ও নতুন মাত্রা যোগ করবে।

সূত্র: ইত্তেফাক

আরও পড়ুন

Editor & Publisher : Khondaker Azizur Rahman