দ্য সিভিলিয়ানস । নিউজ ডেস্ক ।
খুলনায় অনুষ্ঠিত ১১ দলীয় একটি ঐক্যবদ্ধ সমাবেশে জামায়াতে ইসলামীর আমীর ও সংসদীয় বিরোধী দলীয় নেতা ডা. শফিকুর রহমান বলেছেন, দেশের বর্তমান রাজনৈতিক ও সামাজিক পরিস্থিতি পরিবর্তনের জন্য “আরেকটি অনিবার্য বিপ্লবের” প্রস্তুতি নেওয়ার আহ্বান জানানো প্রয়োজন।
শনিবার বিকেলে খুলনা সার্কিট হাউজ ময়দানে আয়োজিত সমাবেশে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এই মন্তব্য করেন। সমাবেশে বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের নেতারা উপস্থিত ছিলেন এবং দেশের রাজনৈতিক কাঠামো, গণতন্ত্র, অর্থনৈতিক চাপ ও প্রশাসনিক সংস্কার নিয়ে বক্তব্য দেন।

শফিকুর রহমান বলেন, জনগণ দীর্ঘদিন ধরে বৈষম্যহীন, দুর্নীতিমুক্ত এবং জবাবদিহিমূলক রাষ্ট্রব্যবস্থার প্রত্যাশা করে আসছে। কিন্তু সেই প্রত্যাশা এখনো পূরণ হয়নি বলে তিনি অভিযোগ করেন। তার দাবি, রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানগুলো দলীয় প্রভাবের কারণে দুর্বল হয়ে পড়েছে এবং সাধারণ মানুষের অধিকার ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।
তিনি আরও বলেন, তাদের আন্দোলন কোনো ব্যক্তি বা গোষ্ঠীকে ক্ষমতায় বসানোর জন্য নয়, বরং একটি “মানবিক ও ন্যায্য রাষ্ট্র কাঠামো” গঠনের জন্য। তার ভাষায়, সমাজে চলমান দুর্নীতি, চাঁদাবাজি ও দখলদারিত্বের বিরুদ্ধে জনসম্পৃক্ত প্রতিরোধ গড়ে তোলা জরুরি।

সমাবেশে উপস্থিত অন্যান্য রাজনৈতিক নেতারাও বক্তব্য দেন। তারা দেশের অর্থনৈতিক চাপ, দ্রব্যমূল্য বৃদ্ধি এবং গণতান্ত্রিক চর্চার ঘাটতি নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেন। একই সঙ্গে রাজনৈতিক দলগুলোর মধ্যে ঐক্যের প্রয়োজনীয়তার কথাও তুলে ধরা হয়।
শফিকুর রহমান তার বক্তব্যে তরুণদের উদ্দেশেও কথা বলেন। তিনি বলেন, তরুণ সমাজই পরিবর্তনের প্রধান শক্তি। তাদের উচিত অন্যায় ও অনিয়মের বিরুদ্ধে সংগঠিত থাকা এবং ন্যায়ভিত্তিক সমাজ গঠনে ভূমিকা রাখা।
সীমান্ত ও সার্বভৌমত্ব প্রসঙ্গে তিনি বলেন, দেশের নিরাপত্তা রক্ষায় জনগণ ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সমন্বিত ভূমিকা দরকার। কোনো ধরনের বিদেশি চাপ বা প্রভাবের কাছে দেশকে নত না হওয়ার আহ্বান জানান তিনি।

রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, এমন বক্তব্য দেশের বর্তমান রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে নতুন বিতর্ক তৈরি করতে পারে। বিশেষ করে “বিপ্লব” শব্দের ব্যবহার রাজনৈতিক অঙ্গনে বিভিন্ন ব্যাখ্যা ও প্রতিক্রিয়ার জন্ম দিতে পারে।
সমাবেশটি দিনভর চলে এবং বিভিন্ন সাংস্কৃতিক পরিবেশনার মাধ্যমে শেষ হয়।
