লোড হচ্ছে...
লোড হচ্ছে...

বিপদসীমা ছাড়াল তিস্তার পানি, ৪৪ জলকপাট খুলে সতর্কতা জারি

প্রকাশিত: 23 জুন 2026

17 Views

The Civilians News

দ্য সিভিলিয়ানস । নিউজ ডেস্ক ।

উজান থেকে নেমে আসা প্রবল ঢলে তিস্তা নদীর পানি দ্রুত বৃদ্ধি পেয়ে নীলফামারীর ডালিয়া পয়েন্টে বিপৎসীমা অতিক্রম করেছে। মঙ্গলবার বিকেলে নদীর পানি বিপৎসীমার এক সেন্টিমিটার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হওয়ায় তিস্তা অববাহিকার নিম্নাঞ্চলে বন্যা আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে। পরিস্থিতি মোকাবিলায় তিস্তা ব্যারাজের ৪৪টি জলকপাট খুলে দিয়েছে কর্তৃপক্ষ।

পানি উন্নয়ন বোর্ডের ডালিয়া ডিভিশনের নির্বাহী প্রকৌশলী অমিতাভ চৌধুরী জানান, মঙ্গলবার বিকেল ৩টায় ডালিয়া পয়েন্টে তিস্তার পানির উচ্চতা রেকর্ড করা হয় ৫২ দশমিক ১৬ মিটার। এ পয়েন্টে বিপৎসীমা ৫২ দশমিক ১৫ মিটার। কয়েক ঘণ্টার ব্যবধানে পানির এমন দ্রুত বৃদ্ধি স্থানীয় প্রশাসন ও নদীপাড়ের মানুষের মধ্যে উদ্বেগ বাড়িয়েছে।

সকালে পানির উচ্চতা ওঠানামা করলেও দুপুরের পর থেকে পরিস্থিতির দ্রুত পরিবর্তন ঘটে। সকাল ৬টায় পানি বিপৎসীমার ৫ সেন্টিমিটার নিচে ছিল। পরে সকাল ৯টায় তা ১০ সেন্টিমিটার নিচে নামে এবং দুপুর ১২টায় ১৫ সেন্টিমিটার নিচে অবস্থান করে। তবে এরপর উজানের ঢলের প্রভাবে পানি দ্রুত বাড়তে শুরু করে এবং বিকেল নাগাদ বিপৎসীমা অতিক্রম করে।

পানি উন্নয়ন বোর্ড জানিয়েছে, তিস্তা ব্যারাজের সবকটি ৪৪ জলকপাট খুলে দেওয়া হয়েছে যাতে অতিরিক্ত পানি দ্রুত নিষ্কাশন করা যায়। একই সঙ্গে নদী তীরবর্তী নিম্নাঞ্চলের বাসিন্দাদের সতর্ক থাকতে বলা হয়েছে।

ভারতের সেন্ট্রাল ওয়াটার কমিশনের তথ্য অনুযায়ী, তিস্তার উজানে দোমোহনী পয়েন্টে পানির প্রবাহ এখনও বিপৎসীমার নিচে থাকলেও বাংলাদেশ সীমান্তের কাছাকাছি মেখলিগঞ্জ এলাকায় নদীর পানি ইতোমধ্যে বিপৎসীমার ১০ সেন্টিমিটার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। বিশেষজ্ঞদের মতে, উজানের পানি অব্যাহত থাকলে আগামী দিনগুলোতে পরিস্থিতি আরও জটিল হতে পারে।

পানির উচ্চতা বৃদ্ধির ফলে নীলফামারী, লালমনিরহাট, রংপুরের গঙ্গাচড়া ও মহিপুর এলাকা এবং কুড়িগ্রামের বিভিন্ন চরাঞ্চল ও নিম্নভূমিতে পানি প্রবেশ শুরু করেছে। অনেক স্থানে কৃষিজমি প্লাবিত হওয়ার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে। বিশেষ করে আমন মৌসুমের শুরুতে আগাম ঢল কৃষকদের জন্য নতুন উদ্বেগ তৈরি করেছে।

ডিমলা উপজেলার খগাখড়িবাড়ী ইউনিয়নের চেয়ারম্যান জাহাঙ্গীর আলম এবং টেপাখড়িবাড়ী ইউনিয়নের চেয়ারম্যান রবিউল ইসলাম শাহিন জানিয়েছেন, তিস্তার পানি অস্বাভাবিক গতিতে বাড়ছে এবং ঘোলা স্রোত নদীর চরাঞ্চলের দিকে ধেয়ে আসছে। এতে বড় ধরনের বন্যার আশঙ্কা উড়িয়ে দেওয়া যাচ্ছে না।

স্থানীয় বাসিন্দাদের ভাষ্যেও একই উদ্বেগের প্রতিফলন দেখা গেছে। তিস্তা তীরবর্তী এলাকার বাসিন্দারা জানিয়েছেন, নদীর স্রোত ও পানির গর্জন স্বাভাবিক সময়ের তুলনায় অনেক বেশি। কিছু এলাকায় নৌকা চলাচলও সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে।

পানি উন্নয়ন বোর্ড এবং স্থানীয় প্রশাসন জানিয়েছে, নদী তীরবর্তী ঝুঁকিপূর্ণ এলাকা সার্বক্ষণিক পর্যবেক্ষণে রাখা হয়েছে। সম্ভাব্য বন্যা পরিস্থিতি মোকাবিলায় প্রয়োজনীয় প্রস্তুতিও নেওয়া হচ্ছে। তবে উজানের ঢলের প্রবণতা অব্যাহত থাকলে তিস্তা অববাহিকার বিস্তীর্ণ এলাকায় পানি আরও বাড়তে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।

 

আরও পড়ুন

Editor & Publisher : Khondaker Azizur Rahman