দ্য সিভিলিয়ানস । নিউজ ডেস্ক ।
স্পেনের দক্ষিণাঞ্চলীয় আলমেরিয়া প্রদেশে ভয়াবহ দাবানলে অন্তত ১২ জন নিহত হয়েছেন। আগুন নিয়ন্ত্রণে আনতে প্রায় ১৫০ জন দমকলকর্মী দিনরাত কাজ করছেন। স্থানীয় কর্তৃপক্ষের ভাষ্য, সাম্প্রতিক সময়ের অন্যতম ভয়াবহ এই দাবানল দ্রুত বিস্তৃত হওয়ায় প্রাণহানির পাশাপাশি ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতির আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।
শুক্রবার (১০ জুলাই) ভোরে আন্দালুসিয়া অঞ্চলের জরুরি ব্যবস্থাপনা সংস্থা সর্বশেষ হতাহতের তথ্য প্রকাশ করে। এর আগে মৃতের সংখ্যা ছয়জন বলা হলেও উদ্ধার অভিযান চলাকালে আরও কয়েকজনের মরদেহ উদ্ধার হওয়ায় নিহতের সংখ্যা বেড়ে ১২ জনে পৌঁছায়।
আন্দালুসিয়ার প্রেসিডেন্সি, স্বাস্থ্য ও জরুরি ব্যবস্থাপনা বিষয়ক মন্ত্রী আন্তোনিও সান্স এই দাবানলকে অঞ্চলের ইতিহাসে সবচেয়ে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডগুলোর একটি হিসেবে উল্লেখ করেছেন। তিনি বলেন, এটি শুধু একটি প্রাকৃতিক দুর্যোগ নয়, বরং একটি নজিরবিহীন মানবিক বিপর্যয়। ক্ষতিগ্রস্ত এলাকায় উদ্ধার, আগুন নিয়ন্ত্রণ এবং বাসিন্দাদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে সব ধরনের রাষ্ট্রীয় সম্পদ ব্যবহার করা হচ্ছে।
আন্দালুসিয়া অঞ্চলের প্রেসিডেন্ট হুয়ানমা মোরেনো সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া এক বার্তায় নিহতদের পরিবারের প্রতি গভীর শোক ও সমবেদনা জানান। একই সঙ্গে আলমেরিয়া প্রদেশের লস গাইয়ারদোসসহ ক্ষতিগ্রস্ত এলাকার বাসিন্দাদের প্রতি সংহতি প্রকাশ করেন এবং জরুরি সেবাদানকারী কর্মীদের নিরলস প্রচেষ্টার প্রশংসা করেন।
দমকল বাহিনীর কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, প্রবল গরম, শুষ্ক আবহাওয়া এবং দমকা বাতাসের কারণে আগুন নিয়ন্ত্রণে আনা কঠিন হয়ে পড়েছে। দাবানল যাতে আরও বিস্তৃত এলাকায় ছড়িয়ে না পড়ে, সেজন্য স্থলপথের পাশাপাশি আকাশপথ থেকেও আগুন নিয়ন্ত্রণের চেষ্টা চালানো হচ্ছে।
স্পেনে এই দাবানলের কয়েক দিন আগেই প্রতিবেশী ফ্রান্সের দক্ষিণাঞ্চলেও ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটে। সেখানে দাবানল নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যাওয়ায় স্পেন সীমান্তসংলগ্ন প্রায় দুই ডজন ছোট শহর ও গ্রাম থেকে ১০ হাজারের বেশি মানুষকে নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নেওয়া হয়। ইউরোপের দক্ষিণাঞ্চলে চলমান তাপপ্রবাহ পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলেছে বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা।
জলবায়ু গবেষকদের মতে, চলতি বছরের মে ও জুন মাসজুড়ে পশ্চিম ইউরোপে দীর্ঘস্থায়ী তাপপ্রবাহ এবং স্বাভাবিকের তুলনায় কম বৃষ্টিপাতের কারণে বনাঞ্চলগুলো অত্যন্ত শুষ্ক হয়ে পড়েছে। এতে দাবানল দ্রুত ছড়িয়ে পড়ার অনুকূল পরিবেশ তৈরি হয়েছে।
বিশ্ব আবহাওয়া সংস্থা জানিয়েছে, ইউরোপে বৈশ্বিক গড়ের তুলনায় উষ্ণতা বৃদ্ধির হার প্রায় দ্বিগুণ। এর ফলে ভবিষ্যতে আরও ঘন ঘন তীব্র তাপপ্রবাহ, দীর্ঘস্থায়ী খরা এবং ভয়াবহ দাবানলের ঝুঁকি বাড়তে পারে। বিশেষজ্ঞরা জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাব মোকাবিলায় দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা এবং দুর্যোগ প্রস্তুতি জোরদারের ওপর গুরুত্বারোপ করেছেন।
সূত্রঃ রয়টার্স
