দ্য সিভিলিয়ানস । নিউজ ডেস্ক ।
ভারতে অবস্থানরত বাংলাদেশের সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, তিনি এবং আওয়ামী লীগের কয়েকজন জ্যেষ্ঠ নেতা আগামী ডিসেম্বরের দিকে দেশে ফিরে আদালতে আত্মসমর্পণের পরিকল্পনা করছেন। তবে দেশে ফিরলে গ্রেপ্তার কিংবা নিজের জীবনের নিরাপত্তা নিয়ে আশঙ্কা রয়েছে বলেও মন্তব্য করেছেন তিনি।
আন্তর্জাতিক বার্তা সংস্থা রয়টার্সকে দেওয়া প্রায় এক ঘণ্টার টেলিফোন সাক্ষাৎকারে শেখ হাসিনা এসব কথা বলেন। সাক্ষাৎকারে তিনি বলেন, দেশে ফিরলে তাকে গ্রেপ্তার করা হতে পারে, এমনকি হত্যার শিকার হওয়ার আশঙ্কাও রয়েছে। তবুও তিনি দেশে ফিরে আদালতের মুখোমুখি হওয়ার ইচ্ছা প্রকাশ করেন।
শেখ হাসিনার ভাষ্য, ‘আমি দেশে ফিরলে তারা আমাকে গ্রেপ্তার করতে পারে, এমনকি হত্যাও করতে পারে। তারপরও আমাকে ফিরতে হবে।’ তিনি আরও বলেন, তার দলের নেতাকর্মীরা বিভিন্ন ধরনের নিপীড়নের মুখোমুখি হচ্ছেন। নিজের মৃত্যুর প্রসঙ্গ টেনে তিনি বলেন, যদি মৃত্যুই আসে, তবে সেটি নিজের দেশেই হোক, যেখানে তার বাবা-মা সমাহিত আছেন।
২০২৪ সালের গণঅভ্যুত্থানের পর ক্ষমতাচ্যুত হয়ে তিনি ভারতে চলে যান। পরবর্তীতে বাংলাদেশের আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল জুলাই-আগস্টের আন্দোলন দমনে মানবতাবিরোধী অপরাধ ও গণহত্যাসংক্রান্ত অভিযোগের মামলায় তার বিরুদ্ধে রায় দেন। শেখ হাসিনা সাক্ষাৎকারে এসব অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, তিনি আদালতে আইনি প্রক্রিয়ার মাধ্যমে নিজের অবস্থান তুলে ধরতে চান।
তিনি জানান, আওয়ামী লীগের নির্বাসিত আরও কয়েকজন নেতা, যার মধ্যে সাবেক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামালও রয়েছেন, তার সঙ্গে দেশে ফেরার পরিকল্পনায় আছেন। তবে তিনি দেশে ফেরার নির্দিষ্ট তারিখ, আদালত বা আত্মসমর্পণের সুনির্দিষ্ট প্রক্রিয়া সম্পর্কে বিস্তারিত জানাননি।
শেখ হাসিনা বলেন, সরকার তাকে দেশে ফিরিয়ে আনতে ভারতের কাছে একাধিকবার অনুরোধ জানিয়েছে বলে তিনি জেনেছেন। তবে তিনি দাবি করেন, তাকে ফিরিয়ে আনার জন্য কোনো বিদেশি সরকারের সঙ্গে তিনি নিজে যোগাযোগ করেননি। তার ভাষায়, তিনি স্বেচ্ছায় দেশে ফিরে আইনের মুখোমুখি হতে চান।
আওয়ামী লীগের রাজনৈতিক ভবিষ্যৎ প্রসঙ্গে তিনি বলেন, গণতন্ত্র, ভোটাধিকার, রাজনৈতিক অধিকার এবং বিচারব্যবস্থা নিয়ে কোনো গোপন সমঝোতার প্রশ্ন নেই। তার দাবি, দলের অধিকাংশ নেতাকর্মীর বিরুদ্ধে মামলা হয়েছে এবং অনেকে আত্মগোপনে রয়েছেন। তাদের উদ্দেশে তিনি দেশে ফিরে আদালতে আত্মসমর্পণের আহ্বান জানিয়েছেন।
নিজের অতীত রাজনৈতিক জীবনের প্রসঙ্গ উল্লেখ করে শেখ হাসিনা বলেন, এর আগেও বিভিন্ন সময়ে তাকে গ্রেপ্তার ও কারাবরণ করতে হয়েছে। ১৯৮১ সালে নির্বাসন শেষে দেশে ফেরার পর সামরিক শাসনের বিরুদ্ধে আন্দোলনের সময় এবং ২০০৭ সালে তত্ত্বাবধায়ক সরকারের আমলে তিনি কারাবন্দি ছিলেন বলেও উল্লেখ করেন।
আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক কার্যক্রম সম্পর্কে তিনি বলেন, দলকে পুনর্গঠনের অংশ হিসেবে দেশের ৩০০টি সংসদীয় আসনের মধ্যে ১২৫টিতে অনলাইনে নেতাকর্মীদের সঙ্গে বৈঠক করেছেন। একই সঙ্গে তিনি আওয়ামী লীগের ওপর আরোপিত নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহারের আহ্বান জানিয়ে বলেন, কোনো রাজনৈতিক দলের ভবিষ্যৎ নির্ধারণের অধিকার শেষ পর্যন্ত জনগণের।
উল্লেখ্য, শেখ হাসিনার এই বক্তব্য রয়টার্সকে দেওয়া তার সাক্ষাৎকারে ব্যক্ত করা অবস্থানের ভিত্তিতে প্রকাশিত হয়েছে। এসব বিষয়ে বাংলাদেশের সরকারের পক্ষ থেকে তাৎক্ষণিক কোনো প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি।
