দ্য সিভিলিয়ানস । নিউজ ডেস্ক ।
কক্সবাজারের টেকনাফ থেকে কক্সবাজারগামী একটি যাত্রীবাহী বাসে দিনের আলোয় সংঘটিত দুঃসাহসিক ডাকাতির ঘটনায় নতুন তথ্য পেয়েছে পুলিশ। প্রাথমিক তদন্তে উঠে এসেছে, বোরকা পরা এক নারীর ইশারায় বাসটির গতিরোধ করা হয়। এরপর সশস্ত্র একটি দল মাত্র ১৫ থেকে ২০ মিনিটের মধ্যে ৫৭ লাখ টাকা লুট করে পাহাড়ি এলাকায় পালিয়ে যায়। ঘটনার চার দিন পেরিয়ে গেলেও লুট হওয়া অর্থ উদ্ধার করা সম্ভব হয়নি। তবে এ ঘটনায় দুই সন্দেহভাজনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।
পুলিশ জানায়, গত ৩ আগস্ট রাতে টেকনাফের হ্নীলা ইউনিয়নের লেদা এলাকা থেকে আকতার হোসেন ও নজরুল ইসলামকে গ্রেপ্তার করা হয়। তাদের বিরুদ্ধে দায়ের করা ডাকাতি মামলায় আদালতে সোপর্দ করা হয়েছে। একই সঙ্গে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য ১০ দিনের রিমান্ড আবেদন করা হয়েছে।
তদন্তসংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের ভাষ্য অনুযায়ী, ২ আগস্ট দুপুরে টেকনাফ থেকে কক্সবাজারের উদ্দেশে ছেড়ে যাওয়া একটি যাত্রীবাহী বাসকে একটি সিএনজিচালিত অটোরিকশা অনুসরণ করছিল। অটোরিকশায় থাকা বোরকা পরা এক নারী বাসটির গতিবিধি পর্যবেক্ষণ করছিলেন বলে ধারণা করা হচ্ছে। তাঁর দেওয়া সংকেতের পরপরই পাশের পাহাড়ি এলাকা থেকে সাত থেকে আটজনের একটি সশস্ত্র দল সড়কে নেমে আসে।
ডাকাতরা সড়কের ওপর গাছের গুঁড়ি এবং পেরেকযুক্ত কাঠ ফেলে বাসটির গতি থামিয়ে দেয়। এরপর চারজন অস্ত্রধারী বাসে উঠে সরাসরি বিকাশের দুই বিক্রয় প্রতিনিধির কাছে থাকা টাকার ব্যাগ লক্ষ্য করে হামলা চালায়। বাধা দেওয়ার চেষ্টা করলে ওই প্রতিনিধিদের ছুরিকাঘাত ও মারধর করা হয়। পুরো অভিযান শেষ করে ডাকাতরা দ্রুত পাহাড়ের দিকে পালিয়ে যায়।
পুলিশের তথ্যমতে, বাসে বিকাশের তিনজন বিক্রয় প্রতিনিধির কাছে মোট ৮২ লাখ টাকা ছিল। এর মধ্যে একরাম হোসেনের কাছ থেকে ৩৫ লাখ এবং আল আরমানের কাছ থেকে ২২ লাখ টাকা লুট করা হয়। অপর প্রতিনিধি আবদুল করিমের কাছে থাকা ২৫ লাখ টাকা অক্ষত থাকে।
তদন্তে পুলিশের ধারণা, ডাকাতরা আগে থেকেই জানত কার কাছে নগদ অর্থ রয়েছে। কারণ তারা বাসে উঠে অন্য যাত্রীদের উপেক্ষা করে সরাসরি টাকার ব্যাগ থাকা দুই প্রতিনিধির কাছেই যায়। এতে সন্দেহ করা হচ্ছে, আগে থেকেই তাদের কাছে তথ্য ছিল অথবা বাসের ভেতর থেকে কেউ তথ্য সরবরাহ করেছিল। এ কারণে বাসের চালক, সহকারী এবং যাত্রীদের সম্ভাব্য সম্পৃক্ততাও তদন্তের আওতায় আনা হয়েছে।
টেকনাফ মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা সাইফুল ইসলাম বলেন, ঘটনার নেপথ্যে থাকা ব্যক্তিদের শনাক্তে তদন্ত চলছে। বাসটিকে অনুসরণ করা বোরকা পরা নারীর পরিচয় নিশ্চিত করার চেষ্টা করা হচ্ছে। পাশাপাশি লুট হওয়া অর্থ উদ্ধার এবং ঘটনার সঙ্গে জড়িত অন্যদের গ্রেপ্তারে অভিযান অব্যাহত রয়েছে।
পুলিশ আরও জানিয়েছে, গ্রেপ্তার হওয়া আকতার হোসেনের বিরুদ্ধে মাদক, হত্যা এবং ডাকাতিসহ একাধিক মামলা রয়েছে। তদন্তসংশ্লিষ্ট সূত্রের দাবি, এ ঘটনায় আরও কয়েকজনের সম্পৃক্ততার তথ্য পাওয়া গেছে। তাদের মধ্যে কিছু রোহিঙ্গা সশস্ত্র সদস্য জড়িত থাকতে পারে বলে সন্দেহ করা হচ্ছে। তবে তদন্ত শেষ না হওয়া পর্যন্ত এ বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্তে পৌঁছানো যাচ্ছে না।
