লোড হচ্ছে...
লোড হচ্ছে...

বাংলাদেশ-ইতালি সম্পর্ক জোরদারে অর্থনীতি, কর্মসংস্থান ও দক্ষতা উন্নয়নে সহযোগিতার গুরুত্ব

প্রকাশিত: 07 সেপ্টেম্বর 2026

32 Views

The Civilians News

দ্য সিভিলিয়ানস । নিউজ ডেস্ক ।

বাংলাদেশ ও ইতালির দীর্ঘদিনের বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ককে আরও শক্তিশালী করতে অর্থনীতি, কর্মসংস্থান, দক্ষ মানবসম্পদ উন্নয়ন, ভাষা শিক্ষা ও নগর ব্যবস্থাপনাসহ বিভিন্ন ক্ষেত্রে সহযোগিতা বাড়ানোর ওপর গুরুত্বারোপ করেছেন স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রী ড. আবদুল মঈন খান।

সোমবার স্থানীয় সরকার মন্ত্রীর কার্যালয়ে বাংলাদেশে নিযুক্ত ইতালির রাষ্ট্রদূত আন্তোনিও আলেসান্দ্রোর সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎকালে এসব বিষয়ে আলোচনা হয়। বৈঠকে স্থানীয় সরকার প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলমসহ সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

সাক্ষাতে মন্ত্রী বলেন, বাংলাদেশ ও ইতালির সম্পর্ক দীর্ঘদিনের বন্ধুত্ব ও পারস্পরিক স্বার্থের ভিত্তিতে গড়ে উঠেছে। এই সম্পর্ককে আরও এগিয়ে নিতে সহযোগিতার নতুন ক্ষেত্র চিহ্নিত করা প্রয়োজন। অর্থনৈতিক সম্পর্ক জোরদারের পাশাপাশি কর্মসংস্থান সৃষ্টি ও দক্ষ মানবসম্পদ উন্নয়নেও দুই দেশের একসঙ্গে কাজ করার সুযোগ রয়েছে।

দক্ষ জনশক্তি বিদেশে পাঠানোর ক্ষেত্রে ভাষাগত দক্ষতার গুরুত্ব তুলে ধরে মন্ত্রী ইতালীয় ভাষা শিক্ষায় ইতালির সহযোগিতা কামনা করেন। বাংলাদেশে প্রশিক্ষক তৈরির পাশাপাশি ইতালিতে কর্মসংস্থানে আগ্রহী দক্ষ কর্মীদের ইতালীয় ভাষায় প্রশিক্ষণের সুযোগ তৈরির বিষয়েও বৈঠকে আলোচনা হয়।

বাংলাদেশ ও ইতালির মধ্যে অভিবাসন সহযোগিতা সাম্প্রতিক সময়ে আরও গুরুত্ব পেয়েছে। গত আগস্টে দুই দেশের তৃতীয় দফা দ্বিপক্ষীয় রাজনৈতিক পরামর্শে নিয়মিত অভিবাসনের পথ সম্প্রসারণ, অনিয়মিত অভিবাসন ও মানবপাচার প্রতিরোধ এবং দক্ষ কর্মীদের জন্য বৈধ কর্মসংস্থানের সুযোগ তৈরির বিষয়ে দুই দেশ গুরুত্বারোপ করে।

ইতালির সরকারি তথ্য অনুযায়ী, ২০২৫ সালে বাংলাদেশ থেকে ইতালিতে বৈধ অভিবাসনের পাশাপাশি অনিয়মিত অভিবাসনও দুই দেশের আলোচনায় গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হয়ে ওঠে। আন্তর্জাতিক অভিবাসন সংস্থার তথ্য বলছে, ২০২৫ সালে সমুদ্র ও স্থলপথে ইউরোপে পৌঁছানো বাংলাদেশি নাগরিকদের ৮৩ শতাংশই ইতালিতে পৌঁছেছিলেন। এ বাস্তবতায় দক্ষতা উন্নয়ন ও বৈধ অভিবাসনের পথ সম্প্রসারণকে দুই দেশের সহযোগিতার গুরুত্বপূর্ণ ক্ষেত্র হিসেবে দেখা হচ্ছে।

বৈঠক শেষে সাংবাদিকদের ব্রিফিংয়ে স্থানীয় সরকার প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম বলেন, ইতালিতে বসবাসরত বাংলাদেশিদের দক্ষতা উন্নয়ন ও ইতালীয় ভাষা শিক্ষার মাধ্যমে বৈধ জনশক্তি রপ্তানি বাড়ানোর বিষয়ে আলোচনা হয়েছে। স্থানীয় প্রশাসন ও জনপ্রতিনিধিদের সম্পৃক্ত করে অনিয়মিত পথে বিদেশযাত্রা ঠেকাতে সচেতনতা বাড়ানোর উদ্যোগ নেওয়ার কথাও জানান তিনি।

ইতালির রাষ্ট্রদূত বাংলাদেশের উন্নয়ন কর্মকাণ্ডে স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রণালয়ের ভূমিকার প্রশংসা করেন। একই সঙ্গে বাংলাদেশ ও ইতালির মধ্যে সহযোগিতা আরও বিস্তৃত করার বিষয়ে তাঁর দেশের আগ্রহের কথা জানান।

বৈঠকে নগর ব্যবস্থাপনাতেও সহযোগিতার সম্ভাবনা উঠে আসে। মিলান নগরের সঙ্গে খুলনা সিটি করপোরেশনের খাদ্য নিরাপত্তা ও খাদ্য অপচয় কমাতে যৌথভাবে কাজ করার বিষয়ে আলোচনা হয়েছে বলে জানান প্রতিমন্ত্রী। মিলান ইতোমধ্যে নগর খাদ্যব্যবস্থা ও খাদ্য অপচয় কমানোর ক্ষেত্রে একটি বিস্তৃত কর্মসূচি পরিচালনা করছে। ২০২৫ সালে নগরের বিভিন্ন খাদ্য সহায়তা কেন্দ্রের মাধ্যমে এক হাজার টনের বেশি উদ্বৃত্ত খাদ্য উদ্ধার করে তা প্রয়োজনীয় মানুষের মধ্যে বিতরণ করা হয়েছে।

এ ছাড়া বাংলাদেশের স্থপতিদের প্রশিক্ষণ ও অভিজ্ঞতা বিনিময়, দুই দেশের বাণিজ্য বাড়ানো, রেমিট্যান্স প্রবাহ জোরদার এবং কর্মসংস্থানের সুযোগ সম্প্রসারণ নিয়েও ইতিবাচক আলোচনা হয়েছে।

চলতি বছরের জুলাইয়ে ইতালির ১১টি ক্ষুদ্র ও মাঝারি প্রতিষ্ঠানের একটি ব্যবসায়ী প্রতিনিধিদল বাংলাদেশ সফর করে বস্ত্রপ্রযুক্তি ও শিল্প সহযোগিতার সম্ভাবনা নিয়ে বাংলাদেশের শিল্পপ্রতিষ্ঠানের সঙ্গে যোগাযোগ করেছে। এর মধ্য দিয়ে অর্থনৈতিক ও বাণিজ্যিক সম্পর্ক আরও বিস্তৃত করার আগ্রহেরও প্রতিফলন ঘটেছে।

দুই দেশের সাম্প্রতিক আলোচনায় অর্থনীতি, বাণিজ্য ও বিনিয়োগের পাশাপাশি সংস্কৃতি ও উচ্চশিক্ষায় সহযোগিতা বাড়ানোর সম্ভাবনাও উঠে এসেছে। ফলে কর্মসংস্থান ও দক্ষতা উন্নয়নের সঙ্গে নগর ব্যবস্থাপনা, খাদ্য নিরাপত্তা এবং উচ্চশিক্ষাকে যুক্ত করে বাংলাদেশ-ইতালি সম্পর্ককে আরও বহুমাত্রিক করার সুযোগ তৈরি হচ্ছে।

 

আরও পড়ুন

Editor & Publisher : Khondaker Azizur Rahman