লোড হচ্ছে...
লোড হচ্ছে...

বৈধ পথে বছরে ১০ হাজার শ্রমিকের ইতালি যাওয়ার সুযোগ: মীর শাহে আলম

প্রকাশিত: 07 সেপ্টেম্বর 2026

28 Views

The Civilians News

দ্য সিভিলিয়ানস । নিউজ ডেস্ক ।

দক্ষতা ও ভাষাগত প্রশিক্ষণ নিয়ে বাংলাদেশ থেকে প্রতিবছর প্রায় ১০ হাজার শ্রমিক বৈধভাবে ইতালিতে যাওয়ার সুযোগ রয়েছে বলে জানিয়েছেন স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম। পরিবারসহ এ সংখ্যা প্রায় ১২ হাজার হতে পারে বলেও জানিয়েছেন তিনি।

সোমবার সচিবালয়ে স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রী ড. আবদুল মঈন খানের কার্যালয়ে বাংলাদেশে নিযুক্ত ইতালির রাষ্ট্রদূত আন্তোনিও আলেসান্দ্রোর সঙ্গে বৈঠকের পর সাংবাদিকদের সঙ্গে মতবিনিময়কালে প্রতিমন্ত্রী এসব কথা বলেন। বৈঠকে মন্ত্রণালয়ের সচিব মো. শহিদুল হাসানসহ সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

প্রতিমন্ত্রী বলেন, ইতালিতে বিপুলসংখ্যক বাংলাদেশি বসবাস করছেন। তাঁদের একটি বড় অংশ শরীয়তপুর ও মাদারীপুরসহ দেশের দক্ষিণাঞ্চলের বিভিন্ন এলাকার। সমুদ্রপথে ঝুঁকিপূর্ণ ও অনিয়মিতভাবে ইতালিতে যাওয়ার প্রবণতা কমাতে স্থানীয় প্রশাসন ও জনপ্রতিনিধিদের সম্পৃক্ত করে শরীয়তপুর, মাদারীপুর ও ফরিদপুরে সচেতনতামূলক কর্মশালা আয়োজনের প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে।

তিনি বলেন, ইতালিতে অনিয়মিতভাবে অবস্থানরত বাংলাদেশিদের বৈধ করার বিষয়ে বৈঠকে কোনো আলোচনা হয়নি। আর দালালের মাধ্যমে অনিয়মিত পথে যারা বিদেশে যাওয়ার চেষ্টা করছে, তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার বিষয়টি স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের আওতাধীন।

বাংলাদেশ ও ইতালির সাম্প্রতিক দ্বিপক্ষীয় আলোচনায় বৈধ অভিবাসন সম্প্রসারণ এবং অনিয়মিত অভিবাসন ও মানবপাচার প্রতিরোধ বিশেষ গুরুত্ব পেয়েছে। গত আগস্টে দুই দেশের তৃতীয় দফা রাজনৈতিক পরামর্শে নিয়মিত অভিবাসনের পথ আরও শক্তিশালী করার বিষয়ে উভয় পক্ষ একমত হয়। ইতালির শ্রমবাজারের জন্য বিদেশি কর্মী নেওয়ার ‘ফ্লুসি’ ব্যবস্থার আওতায় এ সহযোগিতা এগিয়ে নেওয়ার কথা জানানো হয়েছে।

ইতালির ঢাকাস্থ দূতাবাসের তথ্য অনুযায়ী, বৈধ শ্রম ভিসার আবেদন নির্ধারিত কোটার আওতায় পরিচালিত হয়। ইতালিতে নিয়োগের অনুমতিপত্র পাওয়া কর্মীদের জন্য ভিসা আবেদন প্রক্রিয়ায় নিয়োগকর্তার দেওয়া কাজের প্রস্তাব নিশ্চিত করার ব্যবস্থাও চালু রয়েছে।

বাংলাদেশিদের জন্য বৈধ শ্রম অভিবাসনের সুযোগ বাড়ানোর বিষয়টি দুই দেশের আলোচনায় নতুন নয়। ২০২৫ সালে বাংলাদেশ ও ইতালির মধ্যে শ্রম অভিবাসন নিয়ে আলোচনায় দক্ষ ও অর্ধদক্ষ বাংলাদেশি কর্মীদের জন্য কোটা বাড়ানো এবং দক্ষতা উন্নয়নে যৌথ উদ্যোগের সম্ভাবনা নিয়ে আলোচনা হয়েছিল। একই সঙ্গে বৈধ অভিবাসনের সুযোগ বাড়িয়ে অনিয়মিত অভিবাসন কমানোর ওপরও গুরুত্ব দেওয়া হয়।

প্রতিমন্ত্রী আরও জানান, বাংলাদেশি কর্মীদের দক্ষতা বৃদ্ধি ও ইতালীয় ভাষায় প্রশিক্ষণের বিষয়ে ইতালি সহযোগিতা করতে আগ্রহী। বাংলাদেশে একটি নির্ধারিত প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে কর্মী ও প্রশিক্ষকদের ইতালীয় ভাষা শেখানোর উদ্যোগ নেওয়া হবে। এর মাধ্যমে ইতালির শ্রমবাজারে যাওয়ার আগে কর্মীদের ভাষাগত প্রস্তুতি নিশ্চিত করার পাশাপাশি তাদের কর্মদক্ষতা বাড়ানোর লক্ষ্য রয়েছে।

ইতালির রাষ্ট্রদূত আন্তোনিও আলেসান্দ্রো বলেন, বৈঠকে বাণিজ্য, অভিবাসন এবং দুই দেশের শহরগুলোর মধ্যে বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক গড়ে তোলার বিষয় নিয়ে আলোচনা হয়েছে। সৌজন্য সাক্ষাৎ হলেও বাংলাদেশ ও ইতালির সম্পর্ক আরও শক্তিশালী করতে কীভাবে একসঙ্গে কাজ করা যায়, সে বিষয়ে ফলপ্রসূ আলোচনা হয়েছে বলে জানান তিনি।

নগর ব্যবস্থাপনা ও খাদ্য নিরাপত্তাতেও সহযোগিতার নতুন ক্ষেত্র তৈরি হচ্ছে। প্রতিমন্ত্রী জানান, খাদ্য অপচয় কমানো ও খাদ্য নিরাপত্তায় মিলানের অভিজ্ঞতা কাজে লাগিয়ে খুলনা সিটি করপোরেশনের সঙ্গে যৌথভাবে কাজ করার বিষয়ে ইতালি সম্মতি জানিয়েছে। মিলান নগর কর্তৃপক্ষের তথ্য অনুযায়ী, ২০২৫ সালে শহরটির বিভিন্ন খাদ্য সহায়তা কেন্দ্রের মাধ্যমে প্রায় ১ হাজার ৫৭ টন উদ্বৃত্ত খাদ্য সংগ্রহ করে পুনর্বণ্টন করা হয়েছে।

এ ছাড়া বাংলাদেশের স্থপতিদের দক্ষতা বাড়াতে ইতালিতে প্রশিক্ষণের সুযোগ তৈরির বিষয়েও আলোচনা হয়েছে। নির্দিষ্ট তালিকা পাঠানো হলে সিটি করপোরেশনের মেয়র ও স্থপতিদের ইতালি সফরের ব্যবস্থা করার কথা জানানো হয়েছে।

প্রতিমন্ত্রী বলেন, দুই দেশের মধ্যে দক্ষতা উন্নয়ন, ভাষা শিক্ষা, পরিবেশ ব্যবস্থাপনা, নগর পরিচালনা, বাণিজ্য ও কর্মসংস্থানে সহযোগিতা বাড়ানো হলে তা উভয় দেশের জন্যই ইতিবাচক ফল বয়ে আনতে পারে।

আন্তর্জাতিক অভিবাসন সংস্থার তথ্য অনুযায়ী, ২০২৫ সালে স্থল ও সমুদ্রপথে ইতালিতে পৌঁছানো অনিয়মিত অভিবাসীদের মধ্যে বাংলাদেশিদের অংশ ছিল সবচেয়ে বেশি। এই বাস্তবতায় বৈধ শ্রম অভিবাসনের পথ সম্প্রসারণ এবং কর্মীদের দক্ষতা ও ভাষাগত প্রস্তুতি নিশ্চিত করাকে অনিয়মিত অভিবাসন কমানোর অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ উপায় হিসেবে দেখা হচ্ছে।

 

আরও পড়ুন

Editor & Publisher : Khondaker Azizur Rahman