লোড হচ্ছে...
লোড হচ্ছে...

পূজামণ্ডপে হামলার অভিযোগ নিয়ে পাল্টাপাল্টি দাবি, তদন্তের আহ্বান

প্রকাশিত: 05 অক্টোবর 2026

11 Views

The Civilians News

দ্য সিভিলিয়ানস । নিউজ ডেস্ক ।

শারদীয় দুর্গাপূজাকে ঘিরে দেশের বিভিন্ন স্থানে পূজামণ্ডপে হামলা ও প্রতিমা ভাঙচুরের ঘটনায় পরস্পরবিরোধী বক্তব্য সামনে এসেছে। বাংলাদেশ মুসলিম হিন্দু বৌদ্ধ খ্রিষ্টান ঐক্য ফোরামের সভাপতি সুরঞ্জন ঘোষ অভিযোগ করেছেন, নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের সহযোগী সংগঠন হিসেবে তিনি যেসব সংগঠনকে উল্লেখ করেছেন তাদের একটি অংশ এবং ইসকনের গোপন ষড়যন্ত্রে এসব হামলা হচ্ছে। তবে তাঁর এই অভিযোগের পক্ষে কোনো নিরপেক্ষ তদন্তের প্রমাণ বা নির্দিষ্ট ঘটনার সঙ্গে সংশ্লিষ্টতার তথ্য তিনি প্রকাশ করেননি।

রোববার জাতীয় প্রেসক্লাবের সামনে আয়োজিত এক প্রতিবাদ ও মানববন্ধন কর্মসূচিতে বক্তব্য দেওয়ার সময় সুরঞ্জন ঘোষ এসব অভিযোগ করেন। তাঁর দাবি, বর্তমান সরকারের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন করা এবং সাম্প্রদায়িক সংঘাত সৃষ্টি করাই এসব ঘটনার উদ্দেশ্য।

তবে সাম্প্রতিক কয়েকটি ঘটনায় প্রতিমা ভাঙচুরের অভিযোগের বিষয়ে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী তদন্ত করছে। টাঙ্গাইলের মির্জাপুরে দুর্গাপূজার জন্য তৈরি সাতটি প্রতিমা ভাঙচুরের ঘটনায় পুলিশ জানিয়েছে অজ্ঞাত ব্যক্তিদের শনাক্ত করার চেষ্টা চলছে। পুলিশ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে তদন্ত শুরু করেছে।

এদিকে পূজাকে কেন্দ্র করে নিরাপত্তা নিয়ে বিভিন্ন হিন্দু সংগঠনও উদ্বেগ প্রকাশ করেছে। বাংলাদেশ জাতীয় হিন্দু মহাজোট সম্প্রতি জাতীয় প্রেসক্লাবে সংবাদ সম্মেলন করে কয়েকটি জেলায় মন্দির ও প্রতিমা ভাঙচুর এবং হিন্দু সম্প্রদায়ের সদস্যদের হুমকি দেওয়ার অভিযোগ তোলে। সংগঠনটি এসব ঘটনার নিরপেক্ষ তদন্ত ও দায়ীদের আইনের আওতায় আনার দাবি জানিয়েছে।

অন্যদিকে সরকার দুর্গাপূজাকে শান্তিপূর্ণভাবে আয়োজনের জন্য নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদারের কথা জানিয়েছে। ৩০ সেপ্টেম্বর আন্তঃমন্ত্রণালয় সমন্বয় সভার পর ধর্মবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী ও স্থানীয় প্রশাসনকে বাড়তি সতর্ক থাকার নির্দেশ দেওয়া হয়। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে পুরোনো বা সম্পাদিত ছবি ও ভিডিও ব্যবহার করে গুজব ছড়ানোর বিরুদ্ধেও ব্যবস্থা নেওয়ার কথা জানানো হয়েছে।

৪ অক্টোবর ঢাকায় দুর্গাপূজার প্রস্তুতি নিয়ে এক সভায় মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ প্রতিমন্ত্রী সুলতান সালাউদ্দিন টুকু বলেন, পূজামণ্ডপের নিরাপত্তায় কোনো ধরনের অবহেলা বরদাশত করা হবে না। কোনো অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনা ঘটলে তদন্ত করে দায়ীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলেও তিনি জানান। আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর পাশাপাশি গোয়েন্দা সংস্থাগুলোকেও পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

ফরিদপুরেও ৭৮১টি পূজামণ্ডপে বাড়তি নিরাপত্তার প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে। মণ্ডপগুলোতে পর্যাপ্ত আলোর ব্যবস্থা, নজরদারি ক্যামেরা এবং স্বেচ্ছাসেবক রাখার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। প্রতিমা বিসর্জনের সময় নৌপথেও নজরদারি বাড়ানোর সিদ্ধান্ত হয়েছে।

মানববন্ধন থেকে বাংলাদেশ মুসলিম হিন্দু বৌদ্ধ খ্রিষ্টান ঐক্য ফোরাম সাম্প্রদায়িক সংঘাত ও উসকানি প্রতিরোধে কার্যকর প্রশাসনিক ব্যবস্থা, হামলার অভিযোগের নিরপেক্ষ তদন্ত এবং দায়ীদের পরিচয় বা রাজনৈতিক অবস্থান বিবেচনা না করে আইনের আওতায় আনার দাবি জানিয়েছে। একই সঙ্গে ধর্মীয় উপাসনালয়, বসতবাড়ি ও ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানের নিরাপত্তা জোরদার এবং সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে গুজব ও বিদ্বেষমূলক প্রচারণা ঠেকাতে কার্যকর নজরদারির আহ্বান জানিয়েছে সংগঠনটি।

তবে পূজামণ্ডপে হামলার পেছনে কোনো নির্দিষ্ট সংগঠন বা রাজনৈতিক শক্তির পরিকল্পিত ভূমিকা রয়েছে কি না তা এখনো স্বাধীনভাবে নিশ্চিত হয়নি। ফলে এ ধরনের অভিযোগের সত্যতা নির্ধারণে নিরপেক্ষ তদন্ত এবং প্রমাণভিত্তিক তথ্য প্রকাশের ওপরই গুরুত্ব দিচ্ছেন সংশ্লিষ্টরা।

 

আরও পড়ুন

Editor & Publisher : Khondaker Azizur Rahman