দ্য সিভিলিয়ানস । নিউজ ডেস্ক ।
দেশের প্রতিটি শিশুর ভেতর কোনো না কোনো প্রতিভা রয়েছে। সেই প্রতিভা বিকাশে শুধু পড়াশোনার মধ্যে সীমাবদ্ধ না রেখে খেলাধুলা, শিল্প-সংস্কৃতি, সংগীত ও বিভিন্ন সৃজনশীল কর্মকাণ্ডে অংশ নেওয়ার সুযোগ তৈরি করতে হবে বলে জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।
মঙ্গলবার রাজধানীর বাংলাদেশ শিশু একাডেমিতে শিশু অধিকার দিবস ২০২৬ এবং প্রতিষ্ঠানটির ৫০ বছর পূর্তি উপলক্ষে আয়োজিত অনুষ্ঠানে তিনি এ কথা বলেন। এবারের আয়োজনের প্রতিপাদ্য ‘শিশুর ভবিষ্যৎ হোক সুরক্ষিত’। তিন দিনব্যাপী এই আয়োজন চলবে ৬ থেকে ৮ অক্টোবর।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, প্রতিটি শিশুর মধ্যেই বিশেষ কোনো গুণ রয়েছে। পরিবারের পাশাপাশি রাষ্ট্র ও সমাজের দায়িত্ব হলো সেই গুণ বিকাশের উপযুক্ত পরিবেশ তৈরি করা। শিশুদের সঠিকভাবে গড়ে তুলতে পারলে পরিবার শক্তিশালী হওয়ার পাশাপাশি দেশের ভবিষ্যৎও আরও দৃঢ় হবে।
শিশুদের উদ্দেশে তিনি বলেন, শুধু লেখাপড়ায় ভালো করাই যথেষ্ট নয়। খেলাধুলা, ছবি আঁকা, কবিতা আবৃত্তি, গান, বাদ্যযন্ত্র, নাচ কিংবা অন্যান্য সৃজনশীল কর্মকাণ্ডের মধ্য থেকেও শিশুরা নিজেদের প্রতিভা প্রকাশ করতে পারে। প্রত্যেক শিশুকে তার পছন্দ ও আগ্রহ অনুযায়ী অন্তত একটি ক্ষেত্রে দক্ষতা অর্জনের সুযোগ দেওয়া প্রয়োজন।
প্রধানমন্ত্রী জানান, প্রাথমিক পর্যায়ে ছেলে ও মেয়েদের অংশগ্রহণে দেশব্যাপী ফুটবল প্রতিযোগিতায় প্রায় ২২ লাখ শিশু অংশ নিয়েছে। এর মধ্যে ছেলে ও মেয়ের সংখ্যা প্রায় সমান। এই ধরনের কার্যক্রম অব্যাহত থাকলে তৃণমূল পর্যায় থেকেই ভবিষ্যতে আন্তর্জাতিক মানের খেলোয়াড় উঠে আসবে বলে আশা প্রকাশ করেন তিনি।
তিনি বলেন, শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান শিশুদের সাংস্কৃতিক প্রতিভা বিকাশে ‘নতুন কুঁড়ি’ কর্মসূচি চালু করেছিলেন। সেই ধারার পাশাপাশি বর্তমান সরকার শিশুদের খেলাধুলা, শিল্প, সংস্কৃতি ও সংগীতে অংশগ্রহণের সুযোগ আরও বিস্তৃত করতে কাজ করছে।
প্রধানমন্ত্রী জানান, প্রত্যন্ত এলাকার শিশুরাও যেন বিদ্যালয় পর্যায় থেকে শিল্প, সংস্কৃতি, সংগীত ও খেলাধুলার সুযোগ পায় সে লক্ষ্যে প্রস্তুতি এগিয়ে নেওয়া হয়েছে। ২০২৭ বা ২০২৮ সাল থেকে এই কার্যক্রম পূর্ণাঙ্গভাবে বাস্তবায়নের লক্ষ্য রয়েছে। শিশুদের পছন্দ অনুযায়ী গান শেখা, বাদ্যযন্ত্র বাজানো কিংবা বিভিন্ন খেলাধুলার মধ্যে একটি বেছে নেওয়ার সুযোগ দেওয়ার কথাও জানান তিনি।
আন্তর্জাতিক ভবিষ্যৎ কর্মক্ষেত্রের কথা বিবেচনায় শিশুদের বিদেশি ভাষা শেখার ওপরও গুরুত্ব দেন প্রধানমন্ত্রী। বাংলা ও ইংরেজির পাশাপাশি আরবি, ম্যান্ডারিন, জার্মান ও জাপানি ভাষা শেখার সুযোগ তৈরির কথা জানান তিনি। তার মতে, উচ্চশিক্ষা কিংবা কর্মসংস্থানের জন্য বিদেশে যাওয়া তরুণদের তৃতীয় একটি ভাষা জানা আন্তর্জাতিক পরিসরে বাড়তি সক্ষমতা দেবে।
তবে জ্ঞান ও দক্ষতার পাশাপাশি শিশুদের মানবিক মানুষ হিসেবে গড়ে তোলার ওপর বিশেষ গুরুত্ব দেন প্রধানমন্ত্রী। তিনি বলেন, মানুষকে শুধু মানুষের প্রতি নয় প্রকৃতি, গাছপালা ও পশুপাখির প্রতিও সহানুভূতিশীল হতে হবে। একটি গাছকে শিশুর মতো যত্ন করে বড় করার পাশাপাশি আশপাশের প্রাণীদের প্রতিও দায়িত্বশীল হওয়ার আহ্বান জানান তিনি।
পরিবেশ পরিচ্ছন্ন রাখার ক্ষেত্রেও শিশুদের ভূমিকার কথা তুলে ধরে তিনি বলেন, রাস্তাঘাটে যত্রতত্র ময়লা ফেলার অভ্যাস বন্ধ করতে হবে। কোনো বড় মানুষকে যেখানে সেখানে ময়লা ফেলতে দেখলে শিশুরাও বিনয়ের সঙ্গে তাকে নির্দিষ্ট স্থানে ময়লা ফেলার অনুরোধ করতে পারে।
জাতিসংঘের শিশু অধিকার সনদেও খেলাধুলা, অবসর, সাংস্কৃতিক জীবন ও শিল্পকলায় অংশ নেওয়াকে শিশুর অধিকার হিসেবে স্বীকৃতি দেওয়া হয়েছে। বাংলাদেশের ক্ষেত্রেও এই সুযোগ নিশ্চিত করা গুরুত্বপূর্ণ। কারণ সাম্প্রতিক শিশু পরিস্থিতির তথ্যে দেখা যাচ্ছে, দেশে ৫ থেকে ১৭ বছর বয়সী শিশুদের ৯ দশমিক ২ শতাংশ কোনো না কোনো ধরনের শিশুশ্রমে যুক্ত। একই সঙ্গে ১ থেকে ১৪ বছর বয়সী শিশুদের বড় একটি অংশ সহিংস শাসনের শিকার হচ্ছে।
অনুষ্ঠান শেষে প্রধানমন্ত্রী শিশুদের পরিবেশনায় সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান উপভোগ করেন। পরিবেশনায় অংশ নেওয়া শিশুদের সঙ্গে কুশল বিনিময় ও আলোকচিত্রে অংশ নেন তিনি এবং তাদের বিভিন্ন প্রশ্নের উত্তর দেন। পরে শিশুদের আঁকা ছবি ও আলোকচিত্র প্রদর্শনী ঘুরে দেখেন।
এরপর শিশু জাদুঘর ভবনের নিচতলায় সৌর প্যানেল ও বিদ্যুৎ উপকেন্দ্র উদ্বোধন করেন প্রধানমন্ত্রী। সকালে বাংলাদেশ শিশু একাডেমিতে পৌঁছালে প্রায় ১৫০ শিশু তাকে স্বাগত জানায়। জাতীয় সংগীতের মধ্য দিয়ে অনুষ্ঠানের সূচনা হয়।
অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন মহিলা ও শিশু বিষয়ক মন্ত্রী অধ্যাপক ডা. এ জেড এম জাহিদ হোসেন। প্রধানমন্ত্রীর সহধর্মিণী ও জিয়াউর রহমান ফাউন্ডেশনের ভাইস চেয়ারম্যান ডা. জুবাইদা রহমানও অনুষ্ঠানে বক্তব্য দেন। তিনি প্রতিটি শিশুর সম্ভাবনা বিকাশে নিরাপদ শৈশব ও উপযুক্ত সুযোগ তৈরির ওপর গুরুত্ব দেন।
