দ্য সিভিলিয়ানস । নিউজ ডেস্ক ।
ঢাকায় নিযুক্ত ভারতের হাইকমিশনার দীনেশ ত্রিবেদীর আকস্মিক দিল্লি সফর ঘিরে বাংলাদেশ ও ভারতের কূটনৈতিক অঙ্গনে নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে। সোমবার রাতে তিনি দিল্লির উদ্দেশে ঢাকা ছাড়েন। মঙ্গলবার ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির সঙ্গে তাঁর সাক্ষাতের কথা রয়েছে বলে কূটনৈতিক সূত্রের বরাতে জানা গেছে।
সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো বলছে, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সম্ভাব্য ভারত সফর নিয়ে ঢাকার অবস্থান এবং সফরের আগে দুই দেশের সম্পর্কের পরিবেশ নিয়ে বাংলাদেশের বার্তা ভারতের প্রধানমন্ত্রীর কাছে পৌঁছে দিতে পারেন দীনেশ ত্রিবেদী। একই সঙ্গে ভারতে অবস্থানরত সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে ঘিরে বাংলাদেশের অবস্থান নিয়েও আলোচনা হতে পারে।
তারেক রহমানের ভারত সফর নিয়ে কয়েক মাস ধরেই ঢাকা ও নয়াদিল্লির মধ্যে কূটনৈতিক যোগাযোগ চলছে। ফেব্রুয়ারিতে প্রধানমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব নেওয়ার পর নয়াদিল্লি তাঁকে দ্বিপক্ষীয় সফরের আমন্ত্রণ জানায়। পরে আগস্টে সফরের সম্ভাবনা নিয়ে আলোচনা এগোলেও তা শেষ পর্যন্ত বাস্তবায়িত হয়নি। শেখ হাসিনার দিল্লি থেকে দেওয়া বক্তব্যকে কেন্দ্র করে বাংলাদেশে নতুন করে অসন্তোষ তৈরি হওয়ার পর সফর নিয়ে অনিশ্চয়তা দেখা দেয়।
ঢাকার অবস্থান হলো, প্রধানমন্ত্রীর ভারত সফরের জন্য আগে একটি অনুকূল ও সম্মানজনক পরিবেশ তৈরি করতে হবে। শেখ হাসিনার প্রত্যর্পণসহ কয়েকটি বিষয়ে বাংলাদেশের প্রত্যাশা পূরণের অগ্রগতি এই পরিবেশ তৈরির সঙ্গে যুক্ত বলে বিভিন্ন পর্যায়ের বক্তব্যে উঠে এসেছে। বাংলাদেশ এ বিষয়ে ভারতের জবাবের অপেক্ষায় রয়েছে। অন্যদিকে ভারত জানিয়েছে, শেখ হাসিনাকে প্রত্যর্পণের অনুরোধটি আইনগত প্রক্রিয়ার মধ্যে পর্যালোচনা করা হচ্ছে।
সাম্প্রতিক সময়ে দুই দেশের আলোচনায় অবশ্য কিছুটা গতি এসেছে। সেপ্টেম্বরের মাঝামাঝি থেকে নভেম্বরের দ্বিতীয়ার্ধে তারেক রহমানের সম্ভাব্য ভারত সফরের সময় নির্ধারণ নিয়ে ঢাকা ও নয়াদিল্লির মধ্যে আলোচনা চলছে বলে ভারতীয় সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে। তবে এখন পর্যন্ত কোনো নির্দিষ্ট তারিখ চূড়ান্ত হয়নি।
সেপ্টেম্বরের শেষ দিকে ঢাকায় পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের দায়িত্বশীলদের সঙ্গে বৈঠকের পর দীনেশ ত্রিবেদীও বলেছিলেন, তারেক রহমানের ভারত সফরের আমন্ত্রণ এখনো বহাল রয়েছে। তবে এ সফর নিয়ে তাড়াহুড়োর প্রয়োজন নেই এবং উভয় পক্ষের জন্য উপযুক্ত সময়েই সফরটি হবে বলে তিনি মন্তব্য করেন। একই সময়ে বাংলাদেশের পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী হুমায়ূন কবিরও বলেন, পারস্পরিক সম্মান ও উপযুক্ত পরিবেশ নিশ্চিত করেই সফরের সময় নির্ধারণ করা হবে।
এর আগে বাংলাদেশ সরকার জানিয়েছিল, দুই দেশের সম্পর্কের বিদ্যমান সমস্যাগুলো আলোচনা ও কূটনৈতিক যোগাযোগের মাধ্যমে সমাধানের চেষ্টা চলছে। ভারতও দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ককে নতুন করে এগিয়ে নেওয়ার বিষয়ে আগ্রহ দেখিয়েছে। নয়াদিল্লিতে নভেম্বরের সম্ভাব্য সফর নিয়ে আলোচনা শুরু হওয়াকে সেই কূটনৈতিক প্রচেষ্টারই অংশ হিসেবে দেখা হচ্ছে।
তারেক রহমানের ভারত সফর হলে শেখ হাসিনার প্রত্যর্পণ, সীমান্ত পরিস্থিতি, পানি বণ্টন, বাণিজ্য, যোগাযোগ এবং দুই দেশের নিরাপত্তা সহযোগিতাসহ একাধিক বিষয় আলোচনায় আসতে পারে। তবে সফরের আগে কোন বিষয়গুলো আলোচনার আনুষ্ঠানিক এজেন্ডায় থাকবে তা এখনো প্রকাশ করা হয়নি।
দীনেশ ত্রিবেদীর আকস্মিক দিল্লি যাত্রা তাই শুধু নিয়মিত কূটনৈতিক যোগাযোগের ঘটনা, নাকি তারেক রহমানের সম্ভাব্য সফরকে সামনে রেখে উচ্চপর্যায়ের নতুন কোনো সমন্বয়ের অংশ, তা নিয়ে নজর রয়েছে দুই দেশের কূটনৈতিক মহলে। বিশেষ করে নভেম্বরের সম্ভাব্য সফরের তারিখ নির্ধারণে এই যোগাযোগ কতটা অগ্রগতি আনে, এখন সেটিই গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে।
