লোড হচ্ছে...
লোড হচ্ছে...

রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ে সাংবাদিক পেটানোর ঘটনায় দ্রুত তদন্তের দাবি সিপিজের

প্রকাশিত: 06 অক্টোবর 2026

4 Views

The Civilians News

দ্য সিভিলিয়ানস । নিউজ ডেস্ক ।

রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ে সাংবাদিক ও শিক্ষার্থীদের ওপর হামলার ঘটনায় দ্রুত, স্বচ্ছ ও নিরপেক্ষ তদন্তের দাবি জানিয়েছে সাংবাদিকদের অধিকার রক্ষায় আন্তর্জাতিকভাবে কাজ করা কমিটি টু প্রটেক্ট জার্নালিস্টস। একই সঙ্গে হামলায় জড়িতদের শনাক্ত করে আইনের আওতায় আনার আহ্বান জানিয়েছে সংগঠনটি।

রোববার রাতে বিশ্ববিদ্যালয়ের শহীদ জিয়াউর রহমান হলের সামনে হামলার ঘটনায় অন্তত ১০ জন আহত হন। তাঁদের মধ্যে চারজন বিশ্ববিদ্যালয়ে কর্মরত সাংবাদিক। আহত সাংবাদিকেরা হলেন একটি জাতীয় দৈনিকের রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিনিধি নূর আহসান মৃধুল, আগামীর সময়ের জাহিদুল ইসলাম, বিডিনিউজ২৪-এর আরিফুজ্জামান কোরবান এবং সমকালের মাইনুল ইসলাম রাজু। তাঁদের প্রথমে বিশ্ববিদ্যালয়ের চিকিৎসাকেন্দ্রে নেওয়া হয়। পরে কয়েকজনকে রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়।

প্রত্যক্ষদর্শীদের ভাষ্য অনুযায়ী, রাত সাড়ে আটটার দিকে একদল ছাত্রদল নেতা-কর্মী শহীদ জিয়াউর রহমান হলের সামনে যান। তাঁদের কয়েকজনের হাতে ধারালো অস্ত্র, হকিস্টিক, পাইপ ও ব্যাট ছিল বলে অভিযোগ রয়েছে। হলের সাধারণ সম্পাদক আরিফুল ইসলামকে খুঁজতে গিয়ে সেখানে উপস্থিত সাংবাদিক ও শিক্ষার্থীদের সঙ্গে তাঁদের উত্তেজনা তৈরি হয়। সাংবাদিকেরা ঘটনাটি ধারণ করার চেষ্টা করলে হামলার ঘটনা ঘটে বলে প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান।

হামলার ঘটনায় প্রকাশিত ভিডিও ফুটেজের ভিত্তিতে ছাত্রদলের কয়েকজন নেতা-কর্মীকে শনাক্ত করা হয়েছে। তাঁদের মধ্যে বিশ্ববিদ্যালয় শাখার সহসভাপতি আহসান হাবীব, শরিফুল ইসলাম, তাকবীর আহমেদ ইমন, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক হাসিবুল ইসলাম, সহদপ্তর সম্পাদক শাহরিয়ার আলম, সহকারী সাধারণ সম্পাদক সৈয়দ সাহজারুল ইসলাম এবং কর্মী বিশাল চক্রবর্তীর নাম এসেছে। তবে হামলার অভিযোগে তাঁদের কেউ সরাসরি জড়িত ছিলেন কি না, তা তদন্তের মাধ্যমে নিশ্চিত হওয়ার বিষয়।

সিপিজের উদ্বেগের কেন্দ্রে রয়েছে হামলার পর বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের দায়ের করা মামলা। সোমবার শহীদ জিয়াউর রহমান হলের উপ-নিবন্ধক মুনির হোসেন অজ্ঞাত ব্যক্তিদের আসামি করে মতিহার থানায় মামলা করেন। অথচ হামলার দৃশ্য ধারণ করা ভিডিও ফুটেজে কয়েকজনকে শনাক্ত করা সম্ভব হয়েছে বলে বিভিন্ন প্রতিবেদনে উঠে এসেছে। ফলে প্রকৃত হামলাকারীদের শনাক্ত করে আইনের আওতায় আনার দাবি জোরালো হয়েছে।

হামলার ঘটনায় ছাত্রদলও দুই সদস্যের তদন্ত কমিটি গঠন করেছে। কেন্দ্রীয় দুই সহসভাপতির নেতৃত্বে গঠিত কমিটিকে ২৪ ঘণ্টার মধ্যে প্রতিবেদন দিতে বলা হয়। পরে সংগঠনটি বিশ্ববিদ্যালয় শাখার তিন নেতা-কর্মীকে বহিষ্কার এবং আরও কয়েকজনকে কারণ দর্শানোর নোটিশ দিয়েছে বলে জানা গেছে। তবে সাংবাদিকদের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, কোনো রাজনৈতিক সংগঠনের অভ্যন্তরীণ ব্যবস্থা স্বাধীন আইনগত তদন্তের বিকল্প হতে পারে না।

ঘটনার পর বিশ্ববিদ্যালয়ের গণযোগাযোগ ও সাংবাদিকতা বিভাগের শিক্ষক-শিক্ষার্থীরা ক্লাস বর্জন করে মানববন্ধন করেন। সাবেক ক্যাম্পাস সাংবাদিকদের একটি বড় অংশও স্বাধীন তদন্ত, জড়িতদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা এবং বিশ্ববিদ্যালয়ের বিধি অনুযায়ী শাস্তির দাবি জানিয়েছে। তাঁদের অভিযোগ, সাংবাদিকদের ওপর হামলা শুধু ব্যক্তির ওপর আক্রমণ নয়, সংবাদ সংগ্রহের স্বাধীনতা ও মতপ্রকাশের অধিকারের ওপরও আঘাত।

এ ঘটনায় বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে ব্যর্থতার কথা স্বীকার করেছেন। উপাচার্য পক্ষ থেকেও জড়িতদের আইনের আওতায় আনার আশ্বাস দেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি শহীদ জিয়াউর রহমান হলের প্রাধ্যক্ষ অধ্যাপক মাহবুবুর রহমানকে দায়িত্ব থেকে অব্যাহতি দেওয়া হয়েছে এবং হামলার ঘটনা তদন্তে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন কমিটি গঠন করেছে।

সাংবাদিকদের নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ বাংলাদেশে নতুন নয়। অতীতেও বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে সাংবাদিকদের ওপর হামলার ঘটনায় সিপিজে স্বাধীন ও নিরপেক্ষ তদন্ত এবং দায়ীদের জবাবদিহির আওতায় আনার আহ্বান জানিয়েছে। ২০২৩ সালে চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ে এক ছাত্র সাংবাদিককে মারধরের ঘটনায়ও সংগঠনটি একই ধরনের তদন্তের দাবি জানিয়েছিল।

রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের সাম্প্রতিক ঘটনাটি তাই শুধু একটি ক্যাম্পাসে সহিংসতার ঘটনা হিসেবে নয়, সাংবাদিকদের নিরাপদে পেশাগত দায়িত্ব পালনের পরিবেশ এবং শিক্ষাঙ্গনে মতপ্রকাশের স্বাধীনতার প্রশ্ন হিসেবেও গুরুত্ব পাচ্ছে। এখন হামলার ভিডিও, প্রত্যক্ষদর্শীদের বক্তব্য এবং অন্যান্য প্রমাণের ভিত্তিতে দ্রুত ও নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে প্রকৃত দায়ীদের শনাক্ত করাই সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ।

 

আরও পড়ুন

Editor & Publisher : Khondaker Azizur Rahman