লোড হচ্ছে...
লোড হচ্ছে...

কাশ্মীর থেকে ১৫০ জনকে বাংলাদেশি সাজিয়ে বাগডোগরায় পাঠাল ভারত, উদ্দেশ্য বাংলাদেশে পুশ ইন

প্রকাশিত: 06 অক্টোবর 2026

3 Views

The Civilians News

দ্য সিভিলিয়ানস । নিউজ ডেস্ক ।

জম্মু ও কাশ্মীর থেকে প্রায় ১৫০ জনকে বাংলাদেশি নাগরিক হিসেবে শনাক্ত করে বিশেষ বিমানে পশ্চিমবঙ্গের বাগডোগরা বিমানবন্দরে পাঠিয়েছে ভারতীয় কর্তৃপক্ষ। সেখানে তাদের সীমান্তরক্ষী বাহিনীর কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে বলে ভারতীয় কর্মকর্তারা জানিয়েছেন। এরপর তাদের বাংলাদেশে ফেরত পাঠানোর প্রক্রিয়া এগিয়ে নেওয়ার কথা রয়েছে। একই প্রক্রিয়ায় আরও ১৫০ জনকে ৭ অক্টোবর পাঠানোর পরিকল্পনার কথাও জানিয়েছে কর্তৃপক্ষ।

ভারতীয় কর্মকর্তাদের দাবি, জম্মু ও কাশ্মীর প্রশাসন এবং পুলিশের যৌথ জরিপে উপত্যকার বিভিন্ন এলাকায় প্রায় ৬০০ বাংলাদেশি নাগরিককে অবৈধভাবে বসবাসরত হিসেবে শনাক্ত করা হয়েছে। তাদের একটি অংশকে শ্রীনগরের একটি পুলিশ পরিচালিত শিবিরে রাখা হয়েছিল। সেখান থেকে সোমবার ১৫০ জনকে ভারতীয় বিমানবাহিনীর বিশেষ বিমানে বাগডোগরায় নেওয়া হয়। পরে তাদের সীমান্তরক্ষী বাহিনীর কাছে হস্তান্তর করা হয়।

তবে এই শনাক্তকরণ ও দ্রুত ফেরত পাঠানোর প্রক্রিয়া নিয়ে প্রশ্নও উঠেছে। প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী, কাশ্মীরে আটক অনেকেই দীর্ঘদিন সেখানে বসবাস করে নির্মাণকাজ, বর্জ্য সংগ্রহসহ বিভিন্ন অনানুষ্ঠানিক শ্রমে যুক্ত ছিলেন। কর্তৃপক্ষের ভাষ্য অনুযায়ী, কয়েকজনের পরিচয়পত্রের তথ্যের অসঙ্গতি ধরা পড়ার পর নাগরিকত্ব যাচাই শুরু হয়। যাচাইয়ের পর তাদের বাংলাদেশি নাগরিক হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে বলে ভারতীয় কর্মকর্তারা দাবি করেছেন।

এই অভিযানের পটভূমিতে রয়েছে ভারতের কেন্দ্রীয় সরকারের গঠিত জনসংখ্যাগত পরিবর্তনবিষয়ক উচ্চপর্যায়ের কমিটি। ২০২৬ সালের মে মাসে অবসরপ্রাপ্ত বিচারপতি প্রকাশ প্রভাকর নাভলেকারের নেতৃত্বে কমিটিটি গঠন করা হয়। অবৈধ অভিবাসনসহ বিভিন্ন কারণে ভারতের জনসংখ্যাগত পরিবর্তন পর্যালোচনা এবং এ বিষয়ে প্রশাসনিক ও নীতিগত সুপারিশ দেওয়াই কমিটির অন্যতম দায়িত্ব। জুলাইয়ে কমিটি জম্মু ও কাশ্মীরসহ বিভিন্ন অঞ্চল পরিদর্শনের সিদ্ধান্তের কথা জানায়।

আগস্টে জম্মু ও কাশ্মীর সরকারের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, কেন্দ্রীয় কমিটির কাছে পুরো কেন্দ্রশাসিত অঞ্চলে ৭ হাজার ৬৫৬ জন রোহিঙ্গা এবং ৫০৪ জন বাংলাদেশি নাগরিক শনাক্ত হওয়ার তথ্য উপস্থাপন করা হয়েছিল। এর মধ্যে ৪৫৮ জন বাংলাদেশি কাশ্মীর উপত্যকায় এবং ৪৬ জন জম্মু অঞ্চলে শনাক্ত হয়েছেন বলে জানানো হয়। একই সময়ে বিদেশি নাগরিকদের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন ঘটনায় মোট ১১৭টি মামলা থাকার তথ্যও উপস্থাপন করা হয়েছিল।

এর আগে পশ্চিমবঙ্গের কয়েকজন ভারতীয় নাগরিককে বাংলাদেশি সন্দেহে সীমান্তের ওপারে পাঠানোর ঘটনা নিয়ে ভারতের আদালতে আইনি প্রশ্ন উঠেছিল। ২০২৫ সালের জুনে দিল্লি থেকে আটক হওয়া পশ্চিমবঙ্গের বীরভূমের বাসিন্দা সুনালি খাতুন, তার স্বামী ও সন্তানসহ দুই পরিবারের ছয় সদস্যকে বাংলাদেশে পাঠানো হয়। পরে কলকাতা হাইকোর্ট ওই বহিষ্কার প্রক্রিয়া বাতিল করে দ্রুততার সঙ্গে নেওয়া পদক্ষেপ নিয়ে প্রশ্ন তোলে এবং তাদের ভারতে ফিরিয়ে আনার নির্দেশ দেয়।

পরবর্তী সময়ে ভারতের সুপ্রিম কোর্টের হস্তক্ষেপে সুনালি খাতুন ও তার আট বছরের সন্তান বাংলাদেশ থেকে ভারতে ফিরে আসেন। দীর্ঘ আইনি প্রক্রিয়ার পর ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে তারা দেশে ফেরেন। ঘটনাটি নাগরিকত্ব যাচাই ও বহিষ্কার প্রক্রিয়ায় যথাযথ আইনি প্রক্রিয়া অনুসরণের গুরুত্ব নিয়ে নতুন করে আলোচনা তৈরি করেছিল।

কাশ্মীর থেকে সাম্প্রতিক ১৫০ জনের বহিষ্কারের ক্ষেত্রে ভারতীয় কর্তৃপক্ষ তাদের বাংলাদেশি নাগরিক হিসেবে শনাক্ত করার দাবি করলেও প্রত্যেক ব্যক্তির নাগরিকত্ব যাচাইয়ের বিস্তারিত তথ্য প্রকাশ্যে আসেনি। ফলে তাদের পরিচয় ও বহিষ্কার প্রক্রিয়া নিয়ে পরবর্তী সময়ে কোনো আইনি বা কূটনৈতিক প্রশ্ন ওঠে কি না, তা এখন নজর রাখার বিষয়। একই সঙ্গে ৭ অক্টোবর নির্ধারিত পরবর্তী দফায় আরও ১৫০ জনকে পাঠানোর পরিকল্পনাও পরিস্থিতিটিকে আরও গুরুত্বপূর্ণ করে তুলেছে।

 

আরও পড়ুন

Editor & Publisher : Khondaker Azizur Rahman