লোড হচ্ছে...
লোড হচ্ছে...

গরু পাচারের অভিযোগে ভারতে শত শত সন্দেহভাজনকে গুলি, ৯৩ শতাংশ মুসলিম, ‘অ্যাসোসিয়েটেড প্রেস’-এর অনুসন্ধানী প্রতিবেদন

প্রকাশিত: 24 অক্টোবর 2026

20 Views

The Civilians News

দ্য সিভিলিয়ানস । নিউজ ডেস্ক ।

ভারতের উত্তর প্রদেশে গরু পাচারের অভিযোগে শত শত সন্দেহভাজনকে গুলি করে আহত করার ঘটনা সামনে এনেছে একটি অনুসন্ধানী প্রতিবেদন। এসব ঘটনায় আহত ব্যক্তিদের বড় অংশ মুসলিম। অনেকের পায়ে, বিশেষ করে হাঁটুর নিচে গুলি লাগার একই ধরনের চিত্র পাওয়া গেছে। মানবাধিকারকর্মী ও আইনজীবীদের অভিযোগ, অপরাধ দমনের নামে এ ধরনের গুলির ঘটনা বিচারবহির্ভূত শাস্তি এবং ধর্মীয় সংখ্যালঘুদের প্রতি বৈষম্যের উদ্বেগ বাড়াচ্ছে।

মার্কিন সংবাদ সংস্থা অ্যাসোসিয়েটেড প্রেসের অনুসন্ধানে উঠে এসেছে, ২০২০ সাল থেকে উত্তর প্রদেশে গরু পাচারের অভিযোগে পুলিশের গুলিতে সন্দেহভাজনদের আহত হওয়ার প্রায় ৬৫০টি ঘটনা নথিভুক্ত করা হয়েছে। ওয়াশিংটনভিত্তিক গবেষণা প্রতিষ্ঠান সেন্টার ফর দ্য স্টাডি অব অর্গানাইজড হেট এসব ঘটনার তথ্য সংগ্রহ করেছে। সংবাদ সংস্থাটি নিজেও দুই শতাধিক ঘটনা পর্যালোচনা করেছে।

প্রতিবেদন অনুযায়ী, ধর্মীয় পরিচয় শনাক্ত করা সম্ভব হয়েছে এমন ৬২৭ জন আহত ব্যক্তির মধ্যে ৫৮৩ জন মুসলিম। অর্থাৎ এই তালিকায় তাঁদের হার প্রায় ৯৩ শতাংশ। তবে এই সংখ্যা উত্তর প্রদেশে গরু পাচারের অভিযোগে পুলিশের গুলিতে আহত সব ব্যক্তির পূর্ণাঙ্গ হিসাব নয়। অনুসন্ধানের তথ্য মূলত পুলিশ নিজেই প্রকাশ করেছে এমন ঘটনার ওপর নির্ভরশীল। ফলে প্রকৃত সংখ্যা আরও বেশি হতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।

‘অপারেশন ল্যাংড়া’ নিয়ে উদ্বেগ
উত্তর প্রদেশে সন্দেহভাজনদের পায়ে গুলি করে আহত করার এই কৌশল স্থানীয়ভাবে ‘অপারেশন ল্যাংড়া’ নামে পরিচিত। মানবাধিকারকর্মীদের অভিযোগ, এ ধরনের ঘটনা এখন রাজ্যটির গণ্ডি পেরিয়ে ভারতের অন্য রাজ্যেও ছড়িয়ে পড়ছে।

পুলিশ সাধারণত এসব ঘটনাকে অপরাধীদের গ্রেপ্তারের সময় সংঘর্ষের অংশ হিসেবে তুলে ধরে। তাদের ভাষ্য অনুযায়ী, সন্দেহভাজনরা পালানোর চেষ্টা করলে বা পুলিশকে আক্রমণ করলে আত্মরক্ষার জন্য গুলি চালানো হয়। তবে একের পর এক ঘটনায় একই ধরনের আঘাতের চিত্র পুলিশের বক্তব্য নিয়ে প্রশ্ন তুলেছে।

উত্তর প্রদেশের জ্যেষ্ঠ পুলিশ কর্মকর্তা অমিতাভ যশ অভিযোগ অস্বীকার করে বলেছেন, পুলিশ কেবল আত্মরক্ষার প্রয়োজনেই গুলি চালায়। সন্দেহভাজনদের হাঁটুর নিচে গুলি করার কোনো আনুষ্ঠানিক নির্দেশ নেই বলেও তিনি দাবি করেছেন। তাঁর বক্তব্য, পুলিশের প্রতিটি পদক্ষেপের জবাবদিহি থাকা উচিত এবং অনুপযুক্তভাবে বলপ্রয়োগের অভিযোগ উঠলে তা খতিয়ে দেখা যেতে পারে।

ফরেনসিক বিশেষজ্ঞের প্রশ্ন
গুলির আঘাতের ধরন নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন ফরেনসিক চিকিৎসাবিশেষজ্ঞরাও। আলিগড় মুসলিম বিশ্ববিদ্যালয়ের ফরেনসিক মেডিসিনের অধ্যাপক মোহাম্মদ কলিম খানের মতে, দৌড়ে পালানো বা সংঘর্ষে লিপ্ত কোনো ব্যক্তির পায়ের মাংসপেশি ভেদ করে গুলি চলে যাওয়া, অথচ হাড়ে আঘাত না লাগা—বিশেষ করে দূর থেকে গুলি ছোড়া হলে—অত্যন্ত অস্বাভাবিক।

তাঁর বক্তব্য, এ ধরনের আঘাতের পুনরাবৃত্তি কাছ থেকে লক্ষ্য করে গুলি চালানোর সম্ভাবনা নিয়ে প্রশ্ন তৈরি করে। তবে প্রতিটি ঘটনার প্রকৃত পরিস্থিতি নির্ধারণে স্বতন্ত্র তদন্ত, চিকিৎসা নথি এবং ফরেনসিক প্রমাণ যাচাই করা প্রয়োজন।

আদালতের পর্যবেক্ষণেও উদ্বেগ
উত্তর প্রদেশ পুলিশের এনকাউন্টার নিয়ে ভারতের বিচার বিভাগ থেকেও উদ্বেগ প্রকাশ করা হয়েছে। চলতি বছরের আগস্টে এলাহাবাদ হাইকোর্টের লখনউ বেঞ্চ একটি মামলায় পুলিশের বক্তব্যের বিশ্বাসযোগ্যতা নিয়ে প্রশ্ন তোলে। ওই মামলায় এক অভিযুক্তের দুই পায়ে গুলি লাগার ঘটনা তদন্তের নির্দেশ দেওয়া হয়।

আদালতের পর্যবেক্ষণে বলা হয়, পুলিশের সঙ্গে সংঘর্ষের বর্ণনায় প্রায়ই এমন দাবি করা হয় যে অভিযুক্ত পালানোর সময় বা পুলিশকে লক্ষ্য করে গুলি চালিয়েছেন, অথচ পুলিশের সদস্যরা অক্ষত থাকেন এবং অভিযুক্তের হাঁটু বা হাঁটুর নিচে গুলি লাগে। আদালত এ ধরনের ঘটনার পুনরাবৃত্তি নিয়ে উদ্বেগ জানায়। ওই মামলায় কেন্দ্রীয় তদন্ত ব্যুরোকে তদন্তের নির্দেশ দেওয়া হয়েছিল। তবে এটি নির্দিষ্ট একটি মামলার আদেশ; সব এনকাউন্টারকে অবৈধ ঘোষণা করা হয়েছে—এমন দাবি করা ঠিক হবে না।

পরিবারগুলোর জীবনে দীর্ঘস্থায়ী ক্ষতি
গুলিতে আহত ব্যক্তিদের অনেকের পরিবার জীবিকা হারিয়ে আর্থিক সংকটে পড়েছে বলে অনুসন্ধানে উঠে এসেছে। প্রতিবেদনে কথা বলা কয়েকটি পরিবারের সদস্যরা নিরাপত্তার আশঙ্কায় প্রকাশ্যে পরিচয় জানাতে চাননি।

মহিষের ব্যবসার সঙ্গে যুক্ত এক ব্যক্তির মা জানান, তাঁর ছেলেকে গরু পাচারের অভিযোগে ধরে নিয়ে দুই হাঁটুতে গুলি করা হয়। এরপর থেকে তিনি স্বাভাবিকভাবে কাজ করতে পারছেন না। পরিবারের আয় বন্ধ হয়ে যাওয়ায় অন্যের সাহায্য ও ঋণের ওপর নির্ভর করে দিন কাটাতে হচ্ছে।

মানবাধিকারকর্মীদের অভিযোগ, গরু রক্ষার নামে রাজনৈতিক ও ধর্মীয় আবেগকে কাজে লাগিয়ে মুসলিমদের বিরুদ্ধে বৈষম্যমূলক আচরণ করা হচ্ছে। তাঁদের মতে, ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির নেতৃত্বাধীন ভারতীয় জনতা পার্টি এবং উত্তর প্রদেশের মুখ্যমন্ত্রী যোগী আদিত্যনাথের কঠোর অপরাধ দমননীতির রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটও এসব অভিযোগের আলোচনায় উঠে এসেছে। তবে রাজনৈতিক উদ্দেশ্যের অভিযোগ এবং পুলিশের বিরুদ্ধে নির্দিষ্ট অপরাধের প্রমাণ এক বিষয় নয়; সেগুলো তদন্ত ও প্রমাণের ভিত্তিতে আলাদাভাবে বিচার করা প্রয়োজন।

উত্তর প্রদেশের পুলিশ বলছে, অপরাধ দমনে তাদের অভিযান আইনশৃঙ্খলা রক্ষার অংশ এবং ধর্মের ভিত্তিতে কাউকে লক্ষ্যবস্তু করার নীতি নেই। অন্যদিকে মানবাধিকারকর্মী ও আইনজীবীরা বলছেন, সন্দেহভাজন অপরাধী হলেও বিচার ছাড়া শাস্তি দেওয়ার সুযোগ নেই। পুলিশের বলপ্রয়োগের প্রতিটি ঘটনা স্বাধীনভাবে তদন্ত এবং অভিযোগ প্রমাণিত হলে দায়ীদের জবাবদিহির আওতায় আনা জরুরি।

বিশ্লেষকদের আশঙ্কা, এ ধরনের ঘটনার নিরপেক্ষ তদন্ত ও কার্যকর জবাবদিহি নিশ্চিত না হলে সংখ্যালঘুদের নিরাপত্তা, আইনের শাসন এবং বিচারব্যবস্থার ওপর মানুষের আস্থা আরও ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে।

 

আরও পড়ুন

Editor & Publisher : Khondaker Azizur Rahman

taraftarium24selcuksportstaraftarium24canlı maç izleselcuksportstaraftarium24canlı maç izletaraftarium24canlı maç izlecanlı maç izletaraftarium24canlı maç izletaraftarium24taraftarium24canlı maç izlecanlı maç izletaraftarium24canlı maç izletaraftarium24selcuksportscanlı maçtaraftarium24canlı maç izlecanlı maçtaraftarium24canlı maç izlecanlı maçcanlı maç izlecanlı maç izlecanlı maç izlecanlı maç izlecanlı maç izletaraftarium24taraftarium24taraftarium24taraftarium24taraftarium24taraftarium24canlı maç izletaraftarium24canlı maç izle